ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

থানা হাজতে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 207

থানা হাজতে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

থানা হাজতে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা


অবশেষে ছয় দিন পর থানা হাজতে এক নারীকে নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গতকাল শুক্রবার জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। মামলা নং ০৩। বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ।

তিনি জানান, নির্যাতন ও গনধর্ষণের অভিযোগে ওসি উছমান গণি, ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার ও অজ্ঞাত তিন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে ওই নারী মামলা করেছেন। খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ‘হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩’ অনুসারে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই নারীকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।

৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। এর পর আদালতের নির্দেশে সোমবার (৫ আগস্ট) তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনা তদন্তে  পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে এই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় । কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। এ তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার তদন্ত শুরু করে এবং ৮ আগস্ট জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করে।

তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ জানান, তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, এদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে বুধবার (৭ আগস্ট) জিআরপি থানা থেকে ক্লোজ করে পাকশি জেলা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]