ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯ ৩ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৮ আগস্ট ২০১৯

পবিত্র হজ পালিত
‘আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র পথ’
খুতবায় ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়খ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.০৮.২০১৯ ১১:৩৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র পথ’

‘আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র পথ’

মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি ও নিজেদের গুনাহ মাফের জন্য কান্নাকাটির মাধ্যমে প্রতিবছরের মতো এবারও পালিত হলোÑ পবিত্র হজ। শনিবার ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল আরাফার প্রান্তর। লাখো হাজীর কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির’। এ সময় সবার চোখের কোণ গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু ধারা।

শনিবার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে সারা দিন অবস্থান, খুতবা শ্রবণ, জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায়, আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় হজের মূলপর্ব। আরাফাত ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা বোর্ডের সদস্য ও খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সর প্রধান শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন হাসান আল-শায়খ।

খুতবায় তিনি সব কাজে খোদাভীতি ও জীবনের প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার হুকুম কখনও পরিবর্তন হয় না। আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য তাওহিদ ও আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়টি আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তাওহিদ ও খতমে নবুওয়তের সাক্ষী ইসলামের মৌলিক রোকন। এ ছাড়াও নামাজ ও জাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। জাকাতের মাধ্যমে গরিব অসহায়দের ব্যাপক কল্যাণ সাধিত হয়। মুসলিম উম্মাহর মুক্তির উপায় উল্লেখ করে শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালার রহমতের কথা বারবার বলা হয়েছে। আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তির একমাত্র উপায়। এ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
বিশ্বব্যাপী আলোচিত হজের এ খুতবা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

হজের খুতবা শেষে আরাফাত ময়দানেই জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে (পৃথক পৃথক ইকামতে) আদায় করেন হাজিরা। সূর্য ডুবার পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই আরাফাত থেকে মুজদালিফায় চলে যান তারা। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেন। মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে সারারাত অবস্থান করেন। সেখান থেকে প্রতীকী শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করে আজ সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজীরা ফিরে আসেন মিনায়।

আজ রোববার (১০ জিলহজ) হাজিরা মিনায় পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করবেন। শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি, মাথা মুন্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও নফল নামাজ আদায় করবেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর হজ পালনের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ জন হজযাত্রী এসেছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের নাগরিক ও সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ মানুষকে প্রথমে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আবেদনকারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরে আরও লক্ষাধিক মানুষকে হজের অনুমতি দেওয়া হয়। সে হিসাবে এ বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হাজী রয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন।

এদিকে শুক্রবার বিকালে আরাফাতের ময়দানে প্রচন্ড ঝড় বাতাসসহ ভারী বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়। এতে হাজীরা দুর্ভোগে পড়েন এবং সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]