ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

নৈরাজ্যে লন্ডভন্ড ঈদযাত্রা
ঘরে ফেরার আনন্দ ম্লান
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: রোববার, ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.০৮.২০১৯ ১১:৩৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

নৈরাজ্যে লন্ডভন্ড ঈদযাত্রা

নৈরাজ্যে লন্ডভন্ড ঈদযাত্রা

এবার দুর্ভোগ কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ঈদে ঘরমুখো মানুষদের। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শনিবারও বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সব খানেই ছিল যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র। ট্রেনের সূচি বিপর্যয়ে ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম। উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জনপদের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে কমলাপুর স্টেশনেই। কোনো কোনো ট্রেন ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের ১০-১২ ঘণ্টা পর। এই পুরোটা সময় যাত্রীদের বসে থাকতে হয়েছে প্ল্যাটফর্মে।

রেলের মতো উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বাসেও শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। শনিবার মহাসড়কটিতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অন্যদিকে

যাত্রীর তুলনায় লঞ্চের সংখ্যা কম ও ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের।
ঈদের ছুটি রোববার শুরু হলেও শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনেই ঢাকা ছেড়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। শুক্রবার ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে লাইনচ্যুত হলে সাড়ে ৩ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের সূচি বিপর্যয় ডেকে এনেছে। তাই বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে যেসব ট্রেন যায়, তার সবগুলোই কম-বেশি বিলম্বিত হয়েছে। রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায়। কিন্তু ছেড়েছে শনিবার সকাল ১০টায়।
এই ট্রেনের যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, সারারাত স্টেশনে ছিলাম, তারপরও বাড়ি যেতে পারছি এটাই আনন্দ। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস শনিবার সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়ে গেছে বিকাল ৩টার পরে। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস শনিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে দুপুর ২টার পরে। রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা ছিল; সেটি ছেড়েছে রাত ৯টার পর।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা। এখনও স্টেশনে বসে আছি। রাত ৯টার পরে নাকি ছাড়বে, কিন্তু ভরসা পাচ্ছি না। লালমনি এক্সপ্রেস কমলাপুর ছাড়ার কথা ছিল সকাল সোয়া ৯টায়, কর্তৃপক্ষ সেই ট্রেন ছাড়ার সময় নির্ধারণ করেছেন রাত সাড়ে ১০টায়।
কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আমিনুল হক বলেন, ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ, সে কারণে প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশিক্ষণ ট্রেন দাঁড়াচ্ছে। ফলে বিলম্ব হচ্ছে। শুক্রবার সুন্দরবন এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার কারণেও শনিবার ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে। তবে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে কোনো যাত্রী টিকেটের টাকা ফেরত চাইলে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১১ আগস্ট ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে এ সুযোগ দেওয়া হবে। কেউ চাইলে তাকে অগ্রিম টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। শিডিউল বিপর্যয় রোববার অনেকটা গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে ঈদযাত্রায় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বাসেও শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। সময়মতো বাসগুলো ফিরে আসতে না পারায় ঢাকা থেকে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাস কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে দেখা যায় কাউন্টারগুলোয় তিল ধারণের জায়গা নেই। কাউন্টারের সামনে ফুটপাথ আর সড়কে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল অনেকটা বেশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকে কষ্ট পেলেও আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারার তীব্র আগ্রহে সব কষ্ট সয়ে যাচ্ছেন তারা। বেলা সাড়ে ১১টায় কল্যাণপুরে গ্রামীণ পরিবহনের একটি বাস নাটোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ বাসের যাত্রী সাফায়েত হোসেন পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে নাটোর যাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় গাড়িটি ছাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ছেড়েছে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর। ছোট দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বাস কাউন্টারে। হানিফ পরিবহনের যাত্রী সাহাবুদ্দিন মজুমদার জানান, সকাল ৮টায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় বাস আসেনি কাউন্টারের সামনে। কখন আসবে তাও জানা নেই।
হানিফ পরিবহনের একজন ব্যবস্থাপক জানান, সকাল সোয়া ৬টার একটি বাস ছেড়ে গেছে দুপুর ১২টায়। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে ফেরি ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। নদীর প্রচন্ড স্রোতের কারণে ফেরি বন্ধ ছিল। আরিচার ওপারে ৮-৯ কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়েছে। এ কারণে ওই দিক থেকে গাড়ি আসতে সময় লাগছে।
গাইবান্ধা যেতে আল হামরা পরিবহনে শনিবার সকাল ১০টা টিকেট নিয়েছিলেন কলেজ শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কাউন্টারের লোকজন জানিয়েছেন, ওই বাস সকাল ১০টায় গাইবান্ধা থেকে ছেড়েছে। সেটি ঢাকা আসার পর গাইবান্ধার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। হামরা পরিবহনের ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তায় যানজটের কারণে গাড়ি আসতে না পারায় যথাসময়ে ছাড়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় যারা টিকেট ফেরত দিতে চাইছেন, তাদের টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অবস্থায় বিপদে আছেন যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন তারা। কারণ টিকেটের টাকা ফেরত নিলে আবার টিকেট পাওয়া যাবে না, সে আশঙ্কায় টিকেট ফিরিয়ে না দিয়ে অপেক্ষা করছেন।
এবার ঈদের আগে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। শনিবার মহাসড়কটিতে যানজট প্রায় ৭০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। যানজটের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষোভ করছেন যাত্রীরা। অনেকেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে নামানোর প্রতিবাদ করেন। বিশেষ করে যানজটে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। টয়লেট, খাবার ও পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন অনেক যাত্রী। পুলিশ যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, মহাসড়কে যানজট নিরসনে ও নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের সাত শতাধিক সদস্য কাজ করছে।
তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ থাকলেও ঈদযাত্রার প্রথম দুই দিনের তুলনায় শনিবারের পথ ‘কিছুটা স্বস্তিদায়ক’ বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  উত্তরের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে সকাল থেকে দীর্ঘ যানজটের সচিত্র বিবরণ সংবাদমাধ্যমে এলেও মন্ত্রী বলছেন, এখন পর্যন্ত যানজটের কোনো তথ্য নেই। যেটা হচ্ছে সেটা ধীরগতি। এ কারণে সময়মত গাড়ি পৌঁছাতে পারছে না। যাত্রীরা টার্মিনালে বসে কষ্ট পাচ্ছে। তিনি সকালে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন বাংলাদেশের মানুষ ঈদযাত্রায় যে দুর্ভোগ সেটাকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করে না। এটা তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে মনে করে। তবে কিছুটা দুর্ভোগ যে নেই সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগে যানজট লেগেই থাকত। সে সমস্যাটা এখন আর নেই।
লঞ্চেও দুর্ভোগ : শনিবারও দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় লঞ্চের সংখ্যা কম ও ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোর থেকেই যাত্রীরা সদরঘাট টার্মিনালে আসতে শুরু করেন বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, মনপুরা, চাঁদপুর, বরগুনা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার ঘরমুখো যাত্রীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী সংখ্যাও বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না সদরঘাট টার্মিনালে। যাদের লঞ্চ বিকালে বা সন্ধ্যায় তারাও টার্মিনালে আসেন দুপুর ১২টার পর থেকে। পন্টুনে ভিড় থাকায় অনেকেই নৌকায় করে লঞ্চে ওঠেন। তবে লঞ্চের নির্দিষ্ট সময় না থাকায় পন্টুনে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে দেখা গেছে।
যাত্রীরা জানান, লঞ্চ ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের মতো নেওয়া হলেও ছাড়ার ক্ষেত্রে শিডিউল বিপর্যয়ের ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। হাতিয়াগামী তাসরিফ লঞ্চের যাত্রী মো. রাশেদ জানান, হাতিয়া যাওয়ার জন্য সদরঘাট এসে দেখেন সময়ের আগে লঞ্চ চলে গেছে। কারণ যাত্রী ভরে যাওয়ায় বিআইডবিøউটিএ’র কর্মকর্তারা লঞ্চ ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। তাই সকাল থেকে বসে আছি। ফিরতি লঞ্চ এলে সে লঞ্চে উঠতে পারলে বাড়ি যেতে পারব।
বরগুনার যাত্রী রাজিব হোসেন বলেন, সকাল ৬টা থেকে বসে আছি লঞ্চের আশায়। দুপুর হলো এখন পর্যন্ত লঞ্চের দেখা মেলেনি। বরগুনা, ভোলা, চরফ্যাশন, হাতিয়া ও মনপুরার মতো দূরের স্থানগুলোতে বিশেষ সার্ভিস চালু না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সদরঘাট টার্মিনালের বিআইডবিøটিএ’র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে এখন লঞ্চের শিডিউল মানা যাচ্ছে না। আমরা যখন যেখানে প্রয়োজন বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থা করছি চাহিদা অনুযায়ী। এতে যাত্রীদের একটু অসুবিধা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দিনের তুলনায় রাতে বেশি যাত্রী নিয়ে সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। এ ছাড়াও লঞ্চ বেশি থাকার জন্য যাত্রীদের ওঠানামা করতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। শুক্রবার ১৫০টি লঞ্চ ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে গেছে। শনিবারও এমন সংখ্যক লঞ্চ ঢাকা ছেড়ে যায়। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি ছিল চরম পর্যায়ে। যানজটে থমকে ছিল সড়ক। আমাদের ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
সাভার : মহাসড়কগুলোতে পরিবহন সংকটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে কিছু সংখ্যক পরিবহন শ্রমিকরা ঘরমুখো মানুষদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে দিনভর ছিল এমন অভিযোগ। এ ছাড়া সড়কে অবৈধ অটোরিকশা অবাধে চলাচল করা, সিটিং সার্ভিসের নামে লোকাল সার্ভিস দেওয়া ও বাড়তি ভাড়া নিয়ে পরিববহন শ্রমিকদের দ্বারা যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ইত্যাদি নানা অভিযোগ ছিল। তবে রয়েছে পরিবহন সংকটের।
টাঙ্গাইল : জেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও পশুবাহী ট্রাকের কারণে যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে কচ্ছপ গতি। এতে নাকাল হয়ে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী ঘরমুখো সাধারণ মানুষ। তবে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের হটিকমরুল মোড় এবং নলকা সেতু দিয়ে গাড়ি ঠিকমতো না টানতে পারায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজা ছয়বারে সাড়ে ৬ ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে টাঙ্গাইল অংশে ৪০ কিমি. যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকাল ৫টার পর থেকে যানজট কমতে শুরু করে এবং ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
শনিবার দুপুরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গগামী লেন অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে পুরোটাই বন্ধ রয়েছে। তবে ৫-১০ মিনিটের জন্য গাড়ি চলাচল করলেও আবার নগর জলফৈ এলাকায় প্রশাসন বন্ধ করে দেন। তবে পুলিশ বলছেন, যানজট মুক্ত রাখতেই এ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এ অবস্থায় সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে নারী ও শিশুরা। একদিকে যানজট অন্যদিকে প্রচÐ গরমে অতীষ্ট হয়ে পড়েছেন তারা।
মানিকগঞ্জ : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানজটের কারণে ধীর গতিতে চলাচল করছে যানবাহন। এর ফলে অনেক সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাইতে। এই দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থেকে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পরেন। প্রায় ৯ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয় পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা পর্যন্ত। কিন্তু ঘাটের চেয়ে রাস্তায় যানজট বেশি বলে জানান যাত্রীরা। যাত্রীরা জানান, দুই ঘণ্টার রাস্তা আসতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগছে। বিআইডবিøউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান বলেন, এ রুটে চারটি ঘাট সচল রয়েছে। ১৯টি ফেরি সঠিকভাবে চলাচল করছে। গাড়ির চাপ বেশি থাকার কারণে ঘাটে যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে।
ময়মনসিংহ : ঢাকা থেকে যারা শেরপুর, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, জামালপুর, কিশোরগঞ্জসহ দূর-দূরান্তের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সরাসরি না গিয়ে ময়মনসিংহ যাত্রা বিরতি দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। একদিকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়ায় ময়মনসিংহ আসতে হচ্ছে অন্যদিকে বাইপাস থেকে পাটগুদাম ব্রিজ বা টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড অথবা ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে গুণতে হচ্ছে রিকশা বা অটোরিকশা ৩-৪ গুণ বেশি ভাড়া।
ভাড়া বৃদ্ধি বিষয়ে জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্তা জানান, পরিবহন স্বল্পতা রয়েছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। ময়মনসিংহ থেকে কোনো সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে ট্রেনে চলা যাত্রীদের ভোগান্তিও কম নয়। ট্রেনের বগিতে ঠাসাঠাসি করে এবং ট্রেনের ছাদে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ময়মনসিংহ থেকে দেওয়ানগঞ্জ ও তারাকান্দি পর্যন্ত চলালচলকারি প্রতিটি ট্রেনেই উপচেপড়া ভিড়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]