ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

ঢাকায় কমছে গ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.০৮.২০১৯ ১১:৩৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় কমছে গ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

ঢাকায় কমছে গ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

চলতি বছরের শুরু থেকে শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৮৭৬ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের এই হার ৭৬ শতাংশ। এদিকে রাজধানী ঢাকার তুলনায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামে গেলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শনিবার ও ডেঙ্গু জ্বরে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০ বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় ঝালকাঠী উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠী গ্রামের রূহুল আমিনের মেয়ে রুশা। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত রুশা। ঈদ উদযাপনের জন্য জীবনদাসকাঠী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন জানান, রুশার পরিবার ঢাকায় থাকে। ঢাকায় অবস্থানকালেই সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। দুইদিন আগে পরিবারের সঙ্গে সড়কপথে রাজাপুরের জীবনদাসকাঠী গ্রামের বাড়ি আসে।

তিনি জানান, বাড়িতে এসে রুশা আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল নগরীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রুশাকে শেবাচিম হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ডেঙ্গুর বাহক মশা এডিস এজিপ্ট প্রধান শহরে পাওয়া গেলেও মানুষের ভ্রমণসঙ্গী হয়ে যানবাহনে করে তা পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশে। ফলে কোরবানির ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ১৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ১ হাজার ১১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। জুলাই মাসে তা এক লাফে ১৬ হাজার ২৫৩ জনে পৌঁছায়। আর আগস্টের প্রথম আট দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ২০৭ জন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পুরো জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর বছরের শুরু থেকে এই পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গুর মৌসুম সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এখনও বাকি। রাজধানী ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। 

ঢাকা শহরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মগবাজার এলাকার বলে জানিয়েছে রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। মগবাজারের একটি অংশ উত্তর সিটি করপোরেশনে, বাকি অংশ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। ঢাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১০টি এবং বেসরকারি ৩০টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪ হাজার ৮৭৪ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর এই তথ্য দিয়েছে। মগবাজারের পর সবচেয়ে বেশি রোগী রামপুরা এলাকার। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মগবাজার এলাকার রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২৫০ জনের বেশি। আর রামপুরার রোগী ছিল ২০০ জনের বেশি। বনানী, গুলশান, মোহাম্মদপুর, জাফরাবাদ, খিলগাঁও, মালিবাগ এসব এলাকার দেড় থেকে দুইশ জন করে রোগী হাসপাতালে ছিল। সায়েদাবাদ ও মুরাদপুরের কোনো রোগী হাসপাতালে ছিল না। দুই সিটি করপোরেশনের বাকি এলাকাগুলোর এক থেকে দেড়শ জন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বছরে তিনবার মশা জরিপ করে। এ বছর প্রথম মার্চ মাসে তারা ১০০টি এলাকায় জরিপ করেছিল। এরপর ১৭ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত আবার জরিপ করে। তাতে দেখা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি মশা ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (বারিধারা, কালাচাঁদপুর, নর্দ্দা, শাহজাদপুর) ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে (বনানী, গুলশান, কড়াইল, মহাখালী)। ১ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তরা), ২১ (বাড্ডা), ২৩ (খিলগাঁও, পূর্ব হাজীপাড়া, মালিবাগ, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া) ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে (লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর) বেশি মশা পাওয়া যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ (মুগদা, আহম্মদ বাগ, রাজারবাগ, কদমতলা বাসাবো), ১২ (মালিবাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ), ২০ (সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড, ফুলবাড়িয়া, বুয়েট এলাকা), ৩৯ (মানিকনগর, কাজিরবাগ, হাটখোলা রোড, আরকে মিশন রোড), ৪০ (দয়াগঞ্জ, নারিন্দা), ৪৫ (শশীভূষণ চ্যাটার্জি লেন, রজনী চৌধুরী লেন) ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে (মিল ব্যারাক, অভয় দাস লেন) মশা বেশি পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা সর্বশেষ খবর পাঠিয়েছেন।

বরগুনা : বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১০ জন। মারা গেছে ২ জন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন রোগী ভর্তি আছেন। ২ জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। 

কুড়িগ্রাম : স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে এসব রোগী কিছুটা সুস্থ হয়ে কুড়িগ্রামে ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে চাপ বাড়ছে হাসপাতালে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এক শিশুসহ ২৭ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। এনিয়ে হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

লক্ষ্মীপুর : বিভিন্ন স্থানের মতো ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ছড়িয়েছে লক্ষ্মীপুরে। দিন দিন এ জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে রোগীরা। শনিবার পর্যন্ত ১২৪ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৩৭ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন রোগী।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]