ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

নতুন অধ্যায়ে জম্মু ও কাশ্মির
ওয়াসিম ফারুক
প্রকাশ: রোববার, ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 92

মোদি সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তার নির্বাচনি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রæতি পালনে প্রথম অধ্যায় শুরু হলো জম্মু-কাশ্মিরের এক নতুন অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে, যার ভবিষ্যৎ কী হবে সেই ধারণা এখনও কারও নেই। ৫ আগস্ট ২০১৯ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদের উভয় কক্ষে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে ভারতীয় সংবিধানের জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিল করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করে একটি জম্মু ও কাশ্মির অপরটি লাদাখ। লাদাখে বিধান সভা না রাখলেও জম্মু ও কাশ্মিরে বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিচালিত করবেন দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নর। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মিরকে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ মর্যাদা।

পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আলাদা সংবিধানও ছিল। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও কেড়ে নিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রথমে রাজ্যসভা ও পরে লোকসভায় ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যে এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা তিনি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা কাশ্মিরকে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেনি। ভারতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ৩৫(ক) ধারাও বাতিল হয়ে গেল কি না তা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩৫(ক) ধারারও বিলোপ করে দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে সরকার জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এর পরিণাম ভালো হতে পারে না। ২৭ জুলাই জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা নষ্ট করে দেওয়া হলে তা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না। ২৮ জুলাই জম্মু-কাশ্মির পুলিশের পক্ষ থেকে রাজ্যের সব মসজিদ ও তাদের পরিচালন সমিতি সম্পর্কে রিপোর্ট তলব করা হয়। সেদিন থেকেই চারদিকে খবর ছড়াতে থাকে কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ও ৩৫(ক) ধারা বাতিলের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে অবশ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ গ্রেফতার হয়েছেন কাশ্মির পিপিলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদ লোন, ইমরান আনসারিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। পুরো কাশ্মির জুড়ে জারি করা হয়েছে কারফিউ তারপর ও কাশ্মিরের সাধারণ মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছে। ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে আর গ্রেফতার কয়েক শত ছাড়িয়ে গেছে। সমগ্র কাশ্মিরের মানুষ আজ সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ততে ফুঁসে উঠেছে। আর কাশ্মিরের এমন অবস্থায় আমাদের এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন হবে তা ইতোমধ্যে সবাইকেই ভাবিয়ে তুলেছে। পাকিস্তান-ভারত ইতোমধ্যে উভয় দেশের ক‚টনীতিকদের দেশ ছাড়তে বলে দিয়েছে। পাকিস্তান সাময়িকভাবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে । চীনও ইতোমধ্যে ভারতের আচরণের প্রতিবাদ করেছে যদিও মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্র পরিচালকদের ভেতর এর প্রভাব কতটা পড়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে জম্মু-কাশ্মিরের বর্তমান এমন অস্থির অবস্থা শুধু ভারতের জন্যই নয় বরং আমাদের এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থার ওপর একটি বিশেষ প্রভাব পড়বে, এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]