ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯ ৮ ভাদ্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯

কোরবানি পরবর্তী পরিচ্ছন্নতায় করণীয়
ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ
প্রকাশ: রোববার, ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবানদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো কোরবানি দেওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব আপনার পালন কর্তার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাওসার : ২)। আমাদের দেশে শহর, শহরতলী ও গ্রাম-গঞ্জে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্য এবং আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করা হয়। যারা কোরবানি দেন তারা যেমন এ থেকে পরিতৃপ্ত হন, তেমনি যারা এসব গোশত পেয়ে থাকেন সেসব মানুষেরাও আনন্দের ভাগিদার হন। এ যেন সব ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক শ্রেণি বিস্তারের দূরত্ব ঘোচাতে এক অনুপমীয় কার্যক্রম। কিন্তু কখনও কখনও আমাদের অসচেতনতার জন্য মুহূর্তকাল পরেই সব আনন্দ দূর করে তা ঘৃণিত ও অপছন্দের কারণ হয়ে ওঠে।
রাজধানী ঢাকা শহরের কথাই বলি। সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন উদ্যোগের পরেও কোরবানি পরবর্তী কয়েক সপ্তাহকাল রাস্তাঘাটে কোরবানির বর্জ্যসহ এ সংশ্লিষ্ট নানা কারণে চলাফেরা করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। দুর্গন্ধে নিঃশ^াস নেওয়াও যায় না। ফলে নিজের অজান্তেই কোরবানি দাতাদের প্রতি একটা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। অথচ এ ইবাদতটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এ রকম বৈরী পরিস্থিতির জন্য দায়ী হবেন কোরবানি দাতা নিজেই। তাকে যেমন কোরবানির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তেমনি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে পরিবেশকে সুরক্ষা করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও।’ (সুরা বাকারা : ২২২)। তা ছাড়া শরিয়তের এমন কোনো বিধান নেই যা দ্বারা পরিবেশ কিংবা কোনো মানুষের কষ্টের কারণ হবে। এটি শরিয়তবহিভর্‚ত। তাই কোরবানি পরবর্তী এ বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন মর্যাদাবান এ আমলটি আমাদেরকে অন্যের কষ্ট এবং নিজের জন্য ধ্বংস ডেকে না আনে। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানে অর্ধেক। (মুসলিম : ২২৩)
অথচ অনেকেই কোরবানির পর পশুর মল-মূত্র ও বর্জ্য পরিষ্কার না করে জায়গায়ই ফেলে রাখেন। যা কখনই কাম্য নয়। তাই আসুন, এ বছরের কোরবানির মধ্য দিয়ে আমরা প্রমাণ করে দিই যে, আমাদের কোরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণের নিমিত্তেই হবে। এখানের সামান্যতম অকল্যাণও আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। এ লক্ষ্যে যা করা যায় তা হলোÑ
ষ    যথাসম্ভব সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতেই কোরবানি করা। তাতে সংশ্লিষ্ট জনবলের মাধ্যমে সব বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা করা সহজ হবে।
ষ    নিজ দায়িত্বে অর্থাৎ কোরবানি দাতাই কোরবানির সব বর্জ্য পরিষ্কার করার দায়িত্ব এমনভাবে পালন করা যাতে তা পরিবেশে কোনো প্রকার খারাপ প্রভাব না পড়ে। না কোনো দুর্গন্ধ ছড়ায়, না রাস্তায় চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ষ    এসব বর্জ্য ড্রেনের মধ্যে না ফেলা। কারণ, ড্রেনে এসব বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেনের পানি নিষ্কাষণ কখনও কখনও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, ওই সব বর্জ্য আবার রাস্তায় উঠে এসে পথচারীর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে যায়। তা ছাড়া এখন তো বর্ষাকাল। সুতরাং এ বিষয়টির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি।
ষ    শহর ও গ্রাম সব জায়গায়ই সম্ভব হলে এসব বর্জ্য মাটির নিচে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা। গ্রামে এটি অত্যন্ত সহজ কাজ।
ষ    শহর ও গ্রামেও বিচ্ছিন্নভাবে সবার বাড়ির সামনে রাস্তা কোরবানির জন্য ব্যবহার করা পরিহার করা। সে ক্ষেত্রে শহরগুলো তো সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা মোতাবেক জায়গায় এবং গ্রামে যেকোনো স্কুল-মাদ্রাসা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা এমন কোনো জায়গা নির্বাচন করা যেখান থেকে এসব বর্জ্য সহজেই ব্যবস্থাপনা করা যায় এবং পরিবেশ দূষণের হাত থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে পারি।
একটা কথা আমাদের মনে রাখা দরকার, আমাদের ধর্ম অত্যন্ত পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন ধর্ম। তা ছাড়া আমাদের রব নিজে পবিত্র এবং পবিত্রতাকে তিনি পছন্দ করেন। (দেখুনÑ সুরা তাওবা : ১০৮)। অপবিত্রদেরকে অপছন্দ করেন। রাসুল (সা.) ও তাদেরকে অপছন্দ করতেন। শুধু ব্যক্তি নয় বরং পরিবেশের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতাকেও তাই শরয়ী বিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে। রাসুল (সা.) অসংখ্য হাদিসে এ ব্যাপারে নির্দেশনা
দিয়েছেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে দূষণমুক্ত কর এবং পবিত্র রাখ।’ (বুখারি : ৩৫৮৩)
সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন না হলে শুধু রাষ্ট্রের পক্ষে এ বিশাল বর্জ্য অপসারণ খুবই কঠিন। কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের ব্যাপারে অবহেলা ঈমানের দুর্বলতারই প্রমাণ।
কারণ, ময়লা-আবর্জনা, কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলাও ঈমানের অন্যতম শাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘ঈমানের ৭০টিরও বেশি শাখা আছে, তন্মধ্যে ন্যূনতম শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।’ (মুসলিম: ৩৫)। কোরবানির বর্জ্য কিংবা যেকোনো কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে পরিবেশকে বাসোপযোগী রাখতে সবারই এগিয়ে আসা উচিত। বিনিময়ে মিলবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও পুরস্কার। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি রাস্তায় চলতে চলতে একটি কাটাওয়ালা ডাল দেখতে পায়, সে ডালটি সরিয়ে দেয়। আল্লাহ তার এ কাজ কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি ১/২৩৩; মুসলিম ৩/১৫২১)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]