ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

অল্প মূল্যে চামড়া বিক্রি না করে নদীতে নিক্ষেপ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯, ৪:৪৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 186

অল্প মূল্যে চামড়া বিক্রি না করে নদীতে নিক্ষেপ

অল্প মূল্যে চামড়া বিক্রি না করে নদীতে নিক্ষেপ


অল্প মূল্যে চামড়া বিক্রি না করে তা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ঠ্যালা বোঝাই কয়েক শত চামড় নদীতে ফেলে দেয়ার এরকম একটি ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। নদীতে চামড়া ফেলে দেয়ার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধনের এই ভিডিও চামড়ার বাজারের ভয়াবহ পরিস্থিতির বড় সাক্ষ দিচ্ছে। এদিকে ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত মৌলভীবাজারের চামড়া ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করে কোনো পাইকার পাননি। এর মধ্যে পচে গেছে চামড়াগুলো। বাধ্য হয়ে সহ¯্রাধিক চামড়া মৌলভীবাজার পৌরসভার বর্জ অপসারণ কর্মীদের কাছে তা তুলে দেন তারা। সেগুলো মাটিতে পুতে ফেলে পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রতি চামড়া ১৫ টাকা দামে বিক্রয় না করে  মনু নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার  বিকেলে মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় বিক্রি করতে না পারা কয়েকশত চামড়া মাটিতে পুতে ফেলেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। রাতে সদর উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকায় মনু নদীতে এরকম শতশত চামড়া ভাসিয়ে দেন মাদ্রাসা ছাত্ররা।

প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, এবছর মৌলভীবাজারে ৭টি উপজেলায় প্রায় ৭৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। আর স্থানীয় সূত্র বলছে এর বেশি সংখ্য পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার কোরবানিদাতারা কিছু চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। এর বাইরে কুলাউড়া, রাজনগগর, কমলগঞ্জ , শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় চামড়ার কোনো পাইকার পাননি কোরবানিদাতারা।

কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার কোরবানিদাতা  আব্দুর রউফ চৌধুরী, তাজ খান, মাতাব মিয়া, জামাল হাসান অভিযোগ করে বলেন, আমার চামড়া বিক্রি করে গরিবদের সে টাকা দান করে থাকি। এবছর কোরবানির গরুর কোনো  চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। যে গরুর চামড়ার দাম অন্যান্য বছর ৩ হাজার টাকা হয় এইমানের চামড়ার দাম এবার ৫০ টাকা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

এব্যাপারে ঢাকাস্থ হাজারীবাগ এলাকার আয়েশা লেদারের কর্নদার হাসান আহমদ বলেন, গত বছর প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া বিদেশে পর্যাপ্ত রপ্তানি করতে না পারায় আমাদের কাছে তা এখনো মজুদ আছে। এ অবস্থায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতের ক্যামিকেলের দামও বেড়েছ। যার ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছেন। এজন্য এবছর তাদের চাহিদা কম থাকায় পর্যাপ্ত চামড়া ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছেনা। যার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চামড়ার দরপতন হয়েছে।  
এদিকে মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার আফজার খান নামের এক ছাত্রের চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার ব্যাপারে সমালোচনা করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। বিষয়টিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হসেবে দেখছে পরিবেশ অধিদপ্তরও।
অভিযুক্ত আজফর খান বলেন, সিন্ডিডডকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে চাইছে একটি মহল। এই মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা আমাদের চামড়ার দাম ১৫ টাকা করে নির্ধারণ করছে। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে তা ১৫ টাকায় বিক্রি না করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। গরিম মেরে খাওয়ার ফন্দি ও তাদের লালসায় আমি জুতা মেরেছি এর মাধ্যমে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, নদীতে পশুর চামড়া ভাসিয়ে দেয়াটা অন্যায়। এতে পরিবেশ অনেক ক্ষতি হবে। এসব চামড়া পচে যে এমোনিয়া সৃষ্টি হতে তা পরিবেশ দূষণ করবে। এছাড়া জলজ প্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যারা এ কাজ করছে তাদের আমরা সতর্ক করে দিব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]