ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীরা হতাশ
লোকসানের শঙ্কায় অনেকেই এবার কোরবানীর পশুর চামড়া সংগ্রহ করেননি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯, ৫:০৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 102

বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীরা হতাশ

বরিশালের চামড়া ব্যবসায়ীরা হতাশ


বরিশালে জমে ওঠেনি এবারের কোরবানীর পশুর চামড়ার বাজার। অব্যাহত দর পতনের কারণে হ্রাসমূল্যের চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ীরা এবার লোকশানের আশঙ্কায় চামড়া ক্রয় থেকে বিরত থাকায় মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হতাশ। অবশ্য বরিশালের অনেক ব্যবসায়ীই লোকসানের আশঙ্কা কোরবানীর পশুর চামড়া ক্রয় বন্ধ রাখতে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে বরিশাল শহরের পদ্মাবতী এলাকার একমাত্র পাইকারি চামড়ার বাজারটিতে এখন বিরাজ করছে সুনশান নিরবতা।

এই পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি- রাজধানীর ট্যানারি মালিকদের কাছে বরিশালের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ওপরে পাবে। প্রতিবছর কোরবানীর আগে তারা ব্যবসায়ীদের ২/৩ লাখ করে টাকা দিলেও এবার যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি। এই কারণে ভরসা না পাওয়ায় এবার অধিকাংশ ব্যবসায়ী কোরবানীর চামড়া মজুতে উদ্যোগ নেয়নি।

তবে ঝুঁকি নিয়ে ৩ থেকে ৪ ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহে উদ্যোগী হলেও পুঁজির অভাবে বেশিদূর আগাতে পারেনি। তদুপরি এবারে মৌসুমী ব্যবসায়ীদেরও দেখাই মেলেনি। সবকিছু মিলিয়ে বলা চলে বরিশালের ব্যবসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যে দিয়ে সময় পার করছেন।

বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির একটি সূত্র জানায়- এখানে ২০ থেকে ২২ জন চামড়ার পাইকার ব্যবসায়ী ছিলেন। যারা স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাতে পাঠাতেন। কিন্তু দিনে দিনে চামড়ার দর পতন অব্যাহত থাকায় এবং ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা আটকে যাওয়ায় লোকশানের শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৮ জনে। যারমধ্যে এবারে মাত্র ৩ থেকে ৪ জনে চামড়া সংগ্রহ করছেন। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে আমাদের চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে।

পদ্মাবতীর পাইকার চামড়া ব্যবসায়ী নাসির বলেন- বিগত বছরগুলোতে তিনি একাই ১০ থেকে ১৫ হাজার পশুর চামড়া সংগ্রহ করলেও এবার করেছেন মাত্র ৩ হাজার। রাজধানীর ট্যানারি মালিকেরা বকেয়ার টাকা না দেয়ায় স্থানীয়ভাবে ধার-দেনা করে চামড়া ক্রয় করেছেন। একইভাবে আরও তিন ব্যবসায়ীও ৩ থেকে ৪ হাজার করে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ক্রয় করলেও ছাগলেরটা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে দূর দূরান্ত থেকে নিয়ে আসা ছাগলের চামড়া অনেকেই ক্ষোভে ফেলে রেখে যাচ্ছেন।

বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিন সময়ে আলোকে জানান,  লবণ দিয়ে প্রাথমিক সংরক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলে একটি গরুর চামড়ার পেছনে আরও ৩শ টাকা খরচ হয়। কিন্তু ঢাকা যে দর বলছে তাতে তাদের লোকসান গুণতে হতে পারে। এছাড়া আর ছাগলের চামড়া প্রতি ৪০ টাকার ওপরে দিতে না চাওয়ায় সেটা কেউ কিনতেও চাচ্ছে না।

এই ব্যবসায়ীর দাবি- রাজধানীর ট্যানারি মালিকেরা এবারে বরিশালের ব্যবসায়ীদের সহায়তা করেনি। বরং চামড়া সংগ্রহে নিরুসাহিত করেছে। এ কারণে হতাশাগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে চামড়া ক্রয়ে বড় পরিসরে উদ্যোগ নেয়নি। আবার যারা ক্রয় করেছে তারাও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]