ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবম্ব হয়ে পরে টুঙ্গিপাড়াবাসী
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯, ৬:১২ পিএম আপডেট: ১৪.০৮.২০১৯ ৬:৩৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 134

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবম্ব হয়ে পরে টুঙ্গিপাড়াবাসী

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবম্ব হয়ে পরে টুঙ্গিপাড়াবাসী


দিনটি ছিল শুক্রবার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট সকালে ওয়্যারলেসের মাধ্য প্রথমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর জানানো হয়। বারবার ওয়্যারলেসে বলা হয় স্বৈরশাসক সরকারের পতন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর টুঙ্গিপাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে হতবম্ব হয়ে পরে টুঙ্গিপাড়াবাসী। কেউ যেন বিশ্বাসই করছিলেন না। এ প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বঙ্গবন্ধুর দাফনকারী কয়েকজন। বঙ্গবন্ধুকে যে ১৮জন দাফন করছেন তার মধ্যে অন্যতম কাজী ইদ্রিস আলী (৭০) ও মো: আবু তাহের (৬৫)।

টুঙ্গিপাড়া গিয়ে জানাগেছে, টুঙ্গিপাড়া ছিল অপরিচিত একটি গ্রাম। বনেদী পরিবারের বসবাস ছিল হাতে গোনা মাত্র দু’একটি। তার মধ্যে একটি বনেদী পরিবারের নাম শেখ পরিবার। এই পরিবারের উত্তরসূরী শেখ হামিদ। শেখ হামিদের একমাত্র পুত্র শেখ লুৎফর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী শেখ সায়রা খাতুনের ঘরে জন্ম নেয় একটি শিশু। বাবা-মা নাম রাখেন খোকা। আদরের এই খোকাই হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পরবর্তিতে জাতির পিতা এবং সমগ্র বাঙালির প্রিয় মানুষ ও মুক্তিদাতা।

সেই থেকে গোপালগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক জনপদ। রাজনৈতিক গুরুত্বে ও লোকজ- সাংস্কৃতিক সমাবেশে গোপালগঞ্জ হচ্ছে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ন স্থান। মধুমতি বিধৌত এ জনপদের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া এখন ইতিহাসের এক অম্লান পাদপিট। এই টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থানও টুঙ্গিপাড়ায়। এখানে রয়েছে জাতির পিতার সমাধী সৌধ ও কমপ্লেক্স। এটি একটি দর্শনিয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে দেশবাসির কাছে পরিগনিত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন এখানে। ঘুরে ঘুরে দেখেন জাতির পিতার সমাধি ও আশপাশ এলাকা।

১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ করে বীর বাঙ্গলী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে পাক হানাদারের কাছ থেকে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনে। যুদ্ধ বিধস্ত বাংলাদেশে যখন পূন:গঠনের কাজ শুরুর করেন ঠিক সে সময়ে ৭৫ এর ১৫ আগষ্টে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করে বিপথগামী একদল সেনা সদস্য। এরপর তার লাশ নিয়ে আসা হয় গোপলগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। দাফন করা হয় মা-বাবার কবরের পাশে।

কাজী ইদ্রিস আলী জানান, একটি হেলিকাপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে আসে সেনাবাহিনী। এরপর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা দাফনের জন্য তাকেসহ ১৮জনকে নিয়ে যান। পরে হেলিকাপ্টার থেকে খোলা মাঠে (বর্তমানে সমাধী সৌধ কমপ্লেক্স) বঙ্গবন্ধুর লাশবাহী কফিন নামানো হয়। এসময় তারা তখনি লাশ দাফনের কথা বলেন। তখন কফিন খোলার জন্য মিস্ত্রি আব্দুল হামিদকে ডাকা হলেও তিনি বাড়ীতে না থাকায় দায়িত্ব পরে তার ছেলে শেখ আইয়ূব আলীর উপর। আইয়ূব আলীর এসে কফিন খোলেন। কফিনে বঙ্গবন্ধুর লাশ ছিল সাদা কপড় দিয়ে ঢাকা। কাপড় সড়িয়ে দেখা যায় চশমাটি ছিল ডান পাশে ভাঙ্গা অবস্থায়। গুলিতে বুক ঝাঁঝড়া ঝাঁঝড়া হয়েছিল। পাশের একটি পুকুর থেকে পানি এনে রক্ত ধোয়া হয়।

দ্রুত দাফন করা কথা বললেও গোসল না করিয়ে ও জানাযা না পরিয়ে দাফন করতে অস্বীকার করেন মৌলভী সাহেব। তখন তারা দ্রুত করার কথা বলেন। পরে পাশের একটি দোকান থেকে ৫৭০ সাবান এনে গোসল করানো হয়। এরপর রিলিফের একটি সাদা কাপড় দিয়ে পড়ানো হয় কাফন। বঙ্গবন্ধুর জানাযাতে অংশ নেন মাত্র ৩০ জন। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় ও দাফন করা হয় তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিদেশে। এখন মনে পড়লে এখন কষ্ট পাই।

মো: আবু তাহের বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আনার পর টুঙ্গিপাড়ার পরিস্থিতি ছিল থমথমে। বঙ্গবন্ধুর লাশ আসার পর সেনা সদস্যরা জানাযা ছাড়াই লাশ দাফন করতে বলেছিলেন। কিন্তু মৌলভী সাহেব রাজী হননি। অনেক প্রভাবশালী লোকজন ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। পুরো এলাকায় আতংক ও ভীতি ছড়িয়ে পরে।

শেখ পরিবারের সদস্য ও টুঙ্গিপাড়ার পৌরসভার মেয়র শেখ আহম্মদ হোসেন মির্জা জানান, বঙ্গবন্ধু সব সময় ছিল হাস্যজ্জ্বল। পরের কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না। অনেক সময় আমাকে মারধর করেতেন। আমি বঙ্গবন্ধুর মায়ের কাছে নালিশ দিলে বলতেন মা আমি তোমার ভাইকে মারি না। আমি আমার শ্যালককে মারছি। এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা হল যা মেনে নেয়া যায় না। একজন দেশ প্রেমিকে, দেশের স্থাপতিকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো তার পলাতক খুনিদের দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হয়নি। দ্রুত পলাতক খুনিদের দেশে এনে রায় কার্যকরের দাবী জানান তিনি। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]