ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছোটপর্দায় ঈদ উৎসব
মানহীন নাটকের ভিড়ে আলো ছড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২২.০৮.২০১৯ ১২:১১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মানহীন নাটকের ভিড়ে আলো ছড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

মানহীন নাটকের ভিড়ে আলো ছড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো ছোটপর্দার ঈদ উৎসব। সাত দিনের আয়োজনে প্রায় ২০০টি নাটক ও টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছে। খন্ডনাটকের পাশাপাশি ছিল ধারাবাহিক নাটক। কমেডি নাটকের আধিক্য থাকলেও জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের নাটকেরও দেখা মিলেছে। ঈদে ছোটপর্দার অনুষ্ঠান কেমন ছিল? এ নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ তারেক

হানিফ সংকেতের ‘অজ্ঞ-বিজ্ঞ সমাচার’ নাটকে ভাষা বিকৃতির বিষয়টি নাটকীয়তার সঙ্গে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। আবুল হায়াত, দিলারা জামান, মীর সাব্বির, জাকিয়া বারী মম প্রমুখের চমৎকার অভিনয় নাটকটিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। শাফায়েত মনসুর রানার ‘আমাদের সমাজ বিজ্ঞান’ নাটকটি সমাজের কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। বোদ্ধাদের কাছে প্রশংসা পেয়েছে ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’। আশফাক নিপুণের সাম্প্রতিক ইস্যুভিত্তিক কাজ ‘এই শহরে’ ও ‘আগন্তুক’ সাড়া ফেলেছে দর্শক মহলে। এই দুটো ফিকশনে আফরান নিশোর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘আশ্রয়’ নাটকটিও প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই নাটকে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, জাকিয়া বারী মম, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও তাহসান। একই নির্মাতার ‘লেডি কিলার ২’ও দর্শক গ্রহণ করেছে। তার ‘থার্ড জেন্ডার’ নাটকটিও দর্শকের প্রশংসায় ভেসেছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘ইনায়েত’ নিয়ে দর্শক ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। নাটকটির বিষয়বস্তু, আফরান নিশো ও মেহজাবিনের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে। একই নির্মাতার ‘শিশির বিন্দু পার্ট ২’ ও ‘বুক ভরা ভালোবাসা ২’ দর্শকের আলোচনায় ছিল। এ ছাড়াও আলোচনায় ছিল তানিম রহমান অংশুর অপি করিমকে নিয়ে ‘দরজার ওপাশে’, তৌকির আহমেদের মমকে নিয়ে ‘স্বর্ণলতা’, আবু হায়াত মাহমুদের রিচি সোলায়মান-সালাহউদ্দিন লাভলুকে নিয়ে ‘শঙ্খিনী’ ও চঞ্চল চৌধুরী-তারিন জাহানকে নিয়ে ‘রূপা ভাবী’।
হাস্য-রসাত্মক নাটক ছিল কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর ঈদ’। নাটকটির ভিউ বেশি হলেও সেটি সমালোচিত হয়েছে। এ ছাড়া মি অ্যান্ড ইউ, রিলেশনশিপ, বাপ বেটার কাপল টিকেট, পারফেক্ট ওয়াইফ এসব নাটকগুলোও সমালোচনার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

মানহীন নাটকের ভিড়ে আলো ছড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

মানহীন নাটকের ভিড়ে আলো ছড়িয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প

অর্ষাকে নিয়ে ‘মধ্যরাতের সেবা’ নির্মাণ করেছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। এ নাটকটিও দর্শকের আলোচনায় ঠাঁই করে নিয়েছে। মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘লাইফ ইন্স্যুরেন্স’, ‘সাবলেট’ ও ‘কেস ৩০৪০’ প্রশংসিত হয়েছে এবার। ‘সাবলেট’ নাটকের মাধ্যমে অপূর্ব-পূর্ণিমা জুটির দেখা পেয়েছেন দর্শক। ‘কেস ৩০৪০’ নাটকে অপি করিমে মুগ্ধ হয়েছে দর্শক। সাজিন আহমেদ বাবুর ‘উবার’ বলেছে বাবা-মেয়ের ভালোবাসার গল্প। এ নাটকটিও আলোচিত হয়েছে এবারের ঈদে। এবারও আলোচনায় ছিল ‘যমজ’ সিরিজের ১২তম পর্ব ‘যমজ ১২’। এই নাটকে মোশাররফ করিম একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সাগর জাহানের ‘মায়া সবার মতো না’ নাটকটিও দর্শকের আলোচনায় এসেছে। এ নাটকে মেহজাবিনের অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যান্য খন্ড নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মহিদুল মহিমের ‘গোলাপী কামিজ’ ও ‘মোবাইল চোর’, সীমান্ত সজলের ‘ওয়াটার’, মাকসুদুর রহমান বিশালের ‘আক্ষেপ’, ইমরাউল রাফাতের ‘স্ক্রীনশট’, জাহিদুর রহমানের ‘সুরত’, এসএ হক অলিকের ‘লায়লা মজনুর কোরবানি’, তপু খানের ‘ফ্রাইডে লাভ’ ইত্যাদি।

ঈদের ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সাগর জাহানের ‘কবুল বলিল কে’, মোশাররফ করিম-ফারুক আহমেদকে নিয়ে রেদওয়ান রনির ঈদ ধারাবাহিক ‘বিহাইন্ড দ্য পাপ্পি’, চঞ্চল-তিশাকে নিয়ে মাসুদ সেজানের ‘চরিত্র : ভাড়াটিয়া’, শিহাব শাহীনের ‘কুহক’, কাজী সাইফ আহমেদের ‘জুনিয়র আর্টিস্ট’ ইত্যাদি। এ ছাড়াও জাফরিন সাদিয়ার প্রযোজনায় রুবেল হাসান নির্মাণ করেন অপূর্বকে নিয়ে ঈদের ধারাবাহিক ‘রাজকুমার’, যেটি ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়। এটি নিয়েও দর্শকদের মাঝে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদ উৎসবে অভিনেতাদের মাঝে আফরান নিশো, অপূর্ব, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান বরাবরের মতোই আলোচনায় ছিলেন। এ ছাড়া মুশফিক ফারহান, জোভান, তওসিফ মাহবুব প্রমুখকে দেখা গেছে একাধিক নাটকে। অভিনেত্রীদের মধ্যে মেহজাবিন চৌধুরী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, অপি করিম, জাকিয়া বারী মম, তারিন জাহান আলোচনায় ছিলেন। শবনম ফারিয়া, সাফা কবির, তানজিন তিশা, মৌসুমী হামিদ, তানজিকা আমিন, নাদিয়া আহমেদ, নাবিলা ইসলাম, অ্যানি খান, রুনা খান প্রমুখ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেছেন। সিনিয়র অভিনয় শিল্পীদের সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে নজর দিতে দেখা গেছে।

ঈদের নাটকগুলো নিয়ে দর্শক মহলে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দর্শকের অভিযোগ ছিল নাটকগুলো একই রকম হচ্ছে। সেই ধারা থেকে বের হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন নির্মাতারা। এবার বক্তব্যধর্মী নাটক হয়েছে বলে মত দিয়েছেন নাটক সংশ্লিষ্টরা। মানহীন নাটকও ছিল চোখের পড়ার মতো। নাটকের সংলাপের সঙ্গে দৃশ্য সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না, যা অনেকের বিরক্ত লেগেছে। দেখা গেছে ইউটিউব ভিউয়ের আড়ালে চলে যাচ্ছে মানসম্পন্ন নাটক। আবার কোনো কোনো চ্যানেল স্বল্প বিরতি কিংবা বিরতিহীন নাটক প্রচার করছে যা সাদরে গ্রহণ করেছেন দর্শক। ইউটিউবে প্রকাশ করা হবে না এমন শর্ত দিয়েও নাটক প্রচার করা হয়েছে এবার। সেখানে বিজ্ঞাপনের আধিক্য দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দর্শকরা। এবারের ঈদে প্রচলিত ধারা হাস্য-রসাত্মক নাটকের পাশাপাশি সিরিয়াস গল্পের নাটকের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলা নাটকের দর্শক বেড়েছে, কিন্তু নাটকের মান বজায় রাখলে আগামীতে ঈদের নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে দর্শকরা এমনটাই মনে করছেন নাটক সংশ্লিষ্টরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]