ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিহার বন্ধু
ঝুমা আক্তার
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতিপ্রেমী মেয়ে নিহা। ফুল-পাখিদের সঙ্গেই তার সকল বন্ধুত্ব। নিহা খুব ছোট্ট। এবার ক্লাস টুতে পড়ে। তার গ্রামেই স্কুল। স্কুলের পাশে এক সাগর দীঘি। সাগরের মতো বড় দীঘি বলে নাম হয়েছে সাগর দীঘি। নিহার ক্লাসমেটদের সঙ্গে নিহার তেমন বন্ধুত্ব নেই। ফুল-পাখি, গাছ-গাছালি নিহার খুব প্রিয় বন্ধু। ক্লাসের ফাঁকে নিহা সেই সাগর দীঘির পাড়ে ছুটে যায়। দীঘির চারপাড় জুড়ে গাছ আর গাছ। একপাড়ে বাঁশঝাড়। বাঁশঝাড়ে অনেক কাকের বাসা। বকুল গাছের ডালে এক টিয়ের বাসা। বেশ অনেকগুলো চড়ুই পাখির বাসাও রয়েছে। দীঘির জলে নানান রকম মাছ। ছোট-বড় সব জাতের মাছ দীঘিতে বাস করে। মাছগুলোও ছিল নিহার বন্ধু। দীঘির চারপাশ জুড়ে যেন পাখিদের মেলা। নিহা দীঘিতে এসে নীরব মনে পাখিদের খেলা দেখে। নিজেকে হারিয়ে ফেলে
প্রকৃতির মাঝে। মাছের মধ্যে একটি ছোট পুঁটি ছিল নিহার খুব প্রিয় বন্ধু। আর পাখির মধ্যে ছিল চড়ুই। ছোটদের নিহা বেশি আদর করে। নিহার বন্ধু যেমন গাছপালা, ফুল-পাখি ও মাছ তেমনি ওদের সবার প্রিয় ছিল নিহা। পাখিরা যখন দেখে নিহা দীঘির পাড়ে বসে আছে তখন এক এক করে সবাই ছুটে আসে। মন খুলে আড্ডা হয় তাদের। জলের সকল মাছ দীঘির কিনারে চলে আসে। নিহার গল্প শুনতে ও তাদের গল্প বলতে। নিহা এলে মাছ ও পাখিরা ভীষণ আনন্দ পায়। সেই সাথে গাছগুলোও নিহার আগমনে হেসে ওঠে। শুক্রবারে অনেক সময় গল্প হয়। কারণ শুক্রবারে নিহার স্কুল নেই। মাছ ও পাখিরা সবাই জানে নিহা শুক্রবারে তাদের বেশি সময় দেয়। তাই পাখিরাও দূরে কোথাও যায় না। দীঘির আশপাশেই ঘোরাঘুরি করে। নিহা দীঘির পাড়ে আসার সময় পাখি ও মাছদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। চারদিকে ও দীঘির জলে খাবার ছিটিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে বুলবুলি তার ঠোঁটে করে বন্ধু নিহার জন্য পাকা ফল নিয়ে আসত। বুলবুলির দেওয়া পাকা ফল নিহা দীঘির পাড়ে বসে খুব মজা করে খেত। গাছ বন্ধুদের সাথে চুপি চুপি কথা বলে। গাছের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে দেয়। গাছগুলোও নিহাকে খুব ভালোবাসে। পাখিরা যখন খরকুটা লতাপাতা এনে বাসা বাঁধত তাদের কাজে নানাভাবে সাহায্য করত নিহা। কোনো কারণে যদি নিহা মন খারাপ করত তখন পাখিরা নিহার মন ভালো করার জন্য সবাই একসাথে গান করত। আর পাখির গানে তাল মিলিয়ে মাছের দল নাচত। ওদের নাচ গান দেখে নিমিষেই নিহার মন ভালো হয়ে যায়। মিটিমিটি হাসে আর বলে, প্রিয় বন্ধুরা সত্যিই তোমরা আমার মন কেড়ে নিলে। তোমাদের ছাড়া আমি থাকতেই পারি না। প্রতিদিনের মতো সবাই গল্প করছে। পাখির দল মাছের দল সবাই একত্রে। কিন্তু সেই ছোট্ট পুঁটিকে নিহা দেখতে পাচ্ছে না। মনে মনে খুঁজছে পুঁটিকে। কিন্তু না পুঁটির দেখা আর মিলছে না। অবশেষে অন্য মাছগুলোকে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, আমার ছোট্ট বন্ধু পুঁটি কোথায়? আজ তো তাকে দেখছি না। অন্যদিন তো আমি আসার আগেই সে কিনারে এসে আমার জন্য অপেক্ষা করে। কেউ বলতে পারছে না পুঁটি কোথায়। নিহা বলছে, আচ্ছা মাছরাঙা কোথায়? তাকেও তো দেখতে পাচ্ছি না। তাহলে কি মাছরাঙাই আমার ছোট্ট বন্ধুকে ধরে নিয়ে লুকিয়ে খেয়ে ফেলল! সেই মুহূর্তে একদল চিংড়ি এলো। এসে নিহাকে বলল, বন্ধু বন্ধু জানো আজ কী হয়েছে? এক জেলে এসে দীঘিতে জাল ছুড়ে অনেকগুলো মাছ নিয়ে গেছে। সেই সাথে ছোট্ট পুঁটিও ছিল। চিংড়ির কথা শুনে নিহা চুপ হয়ে গেল। কোনো কথাই বলছে না। নিহার মন খারাপ দেখে মাছ ও পাখি বন্ধুরা নিহাকে বলল, মন খারাপ করো না বন্ধু, আমরা তো আছি। আমরা তোমাকে ছেড়ে যাব না। জবাবে নিহা বলল, তোমরা সবাই সাবধানে থেকো। কেউ যেন তোমাদের ধরে নিয়ে না যায়। আজ আমার ছোট্ট বন্ধুটাকে হারিয়ে ফেললাম। তোমাদের জন্য আমার ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। যদি তোমাদেরও জেলে আর শিকারি এসে ধরে নিয়ে যায়, আমি খুব একা হয়ে যাব। তোমরা সাবধানে থেকো যেন কেউ ধরতে না পারে। আমি আজ আসি, সন্ধে হয়ে গেল। বন্ধুরা বলছে, ভয় নেই বন্ধু আমরা সাবধানেই থাকব। তুমি পুঁটির জন্য মন খারাপ করো না। সকালে চলে এসো আমাদের কাছে। এই বলে আজকের মতো বিদায় হলো তাদের।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]