ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিয়ে আর চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৯, ৫:০২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিয়ে আর চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিয়ে আর চাকরির প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিয়ে করা সহ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত তিন বছর ধরে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিয়ের দাবি করে প্রত্যাখ্যিত হয়ে ওই তরুণী অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় ধর্ষণ ও প্রতারণার লিখিত অভিযোগ করেছেন। উলিপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মাহমুদ হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার তিন দিন পার হলেও এখনও মামলা রেকর্ড করেনি উলিপুর থানা পুলিশ।
        
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম (৫৫)। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি। তার ঘরে স্ত্রী এবং তিন সন্তান রয়েছে । অভিযোগকারী তরুণী সম্পর্কে তার নাতনী (বোনের নাতনী) বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় আহত হয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই তরুণী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত পান্ডুল তনুরাম প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকুরি দেওয়ার নাম করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম। চাকরি দেওয়ার নামে এক সময় ওই তরুণীর সাথে তার অন্তরঙ্গতা বাড়তে থাকে এবং তরুণীর বাড়িতে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করতে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ওই তরুণীর বাড়িতে যান। ওই সময় তরুণীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ওই তরুণীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

অভিযোগপত্রে ওই তরুণী আরও উল্লেখ করেছেন, চলমান এই ঘটনায় তিনি বারবার বিয়ের দাবি করলেও অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। এমনকি চাকরি দেওয়া বাবদ দেওয়া তার টাকা ফেরৎ চাইলেও তাও ফেরৎ দেওয়া হচ্ছে না।  গত ৪ আগস্ট/২০১৯ সকালে তিনি বিয়ের দাবি নিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে উপস্থিত হলে তিনি বিয়ের করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওই তরুণীকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় আহত হয়ে তিনি উলিপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. শ্যামল চন্দ্র রায়ের কাছে চিকিৎসা নিয়ে একই উপজেলার মাঝবিল গ্রামে তার আত্মিয়ের বাড়িতে গেলে ওই আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে সহ তার সহযোগীরা ওই তরুণীর বাড়িতে হামলা করে। এসময় সে বাড়িতে না থাকায় হামলাকারীরা ওই তরুণীর মাকে মারধর করে।
 
যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী ওই তরুণী জানান, থানায় অভিযোগ করার পর আওয়ামী লীগ নেতা তার বাড়িতে এসে তাকেও মারধর করে। এসময় তিনি ফোন করে পুলিশের সাহায্য চাইলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনও সাহায্য করা হয়নি। পরে ৯৯৯-এ দুইবার ফোন করলে ঘটনার ৩ ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

এ ঘটনায় আহত হয়ে ওই তরুণী বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম তার প্রভাব খাটিয়ে থানায় মামলা গ্রহণ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। গত ২০ আগস্ট তিনি থানায় গিয়ে এজাহার দাখিল করলেও এখনও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ।

তিনি বলেন,‘ সিরাজুল ইসলাম আমাকে জোর করে দর্ষণ করার পর গত তিন বছর ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার আমার সাথে মেলামেশা করে আসছে। আমি বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে গেলে সে আমাকে মেরে মারাত্মক জখম করে। এখন তারা ফয়সালা করার জন্য বিভিন্ন ভাবে আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি সরকারের কাছে এর যথাযথ বিচার চাই।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘ ওই তরুণী সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছে। তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকরি দিয়ে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। তাকে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং সে বিভিন্ন সময় আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।’

২৮ বছরের এক তরুণী কেন আপনাকে বিয়ে করতে চাইবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন,‘ আমি তা জানি না। সে একবার আমাকে তার এক আত্মিয়ের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কাজি ডেকে আমাকে জোর করে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু তার (তরুণীর) পরিবার থেকেও সে (অভিযোগকারী তরুণী) বাধা পেয়েছে। সে কেন আমার পিছু নিয়েছে সেটা আমি জানি না।’

তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের ওপর হামলা করার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘ আমি যাইনি বরং তারা আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে আমার ওপর হামলা করেছে। তাদের হামলায় আহত হয়ে আমি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। আমি আজকালের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’

উলিপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ওসি স্যার ছুটিতে থাকায় বিষয়টি আমাদের সার্কেল স্যার দেখছেন।

উলিপুর সার্কেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মাহমুদ হাসান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখছি। অভিযোগকারী তরুণীকে আমরা ডেকেছি। শুনেছি তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আসলে তার সাথে কথা বলে মামলা রেকর্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগী তরুনী থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করার ৩ দিন পরেও কেন মামলা নেয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,‘ ধর্ষণের মত গুরুতর অভিযোগের বিষয় গুলো অভিযোগকারীর সাথে সরাসরি কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা বিষয়টি গুরত্বের সাথে দেখছি।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]