ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডাকসুর অর্ধ-বছর
গেস্টরুম গণরুমের বিরুদ্ধে নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ
মোতাছিম বিল্লাহ নাঈম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:৪৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

গেস্টরুম গণরুমের বিরুদ্ধে নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ

গেস্টরুম গণরুমের বিরুদ্ধে নেই কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ


ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি প্যানেল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে গেস্টরুম-গণরুম বন্ধ করার অঙ্গিকার করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও জয়লাভ করা নেতৃবৃন্দের এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতো দিনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃহৎ এই দাবিটি নিয়ে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীরা এই জন্য ছাত্রলীগকেই দায়ী করেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছে, ডাকসু আমাদেরকে গণরুম থেকে মুক্তি দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন করতে পারে নি। এই ব্যাপারে ডাকসু পুরোপুরি ব্যার্থ।

বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বলেন, গণরুম ও গেস্টরুম সমস্যা সমাধানে ছাত্রলীগের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তারা যদি ইচ্ছা করত অনেক আগেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারত। নিজেদের প্রোগ্রামে কর্মী না পাওয়ার আশঙ্কায় ছাত্রলীগ এটার সমাধান করছে না।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ গণরুমের মাধ্যমে গরিব ও মধ্যবিত্ত ছেলেদেরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে। আর গেস্টরুমের মাধ্যমে তাদেরকে পরিচালনা করে যাতে কেউ প্রোগ্রাম না করে হলে থাকতে না পারে। প্রোগ্রামে অধিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যই তারা এই গেস্টরুম থাকে। কেউ না আসলে তাকে সেখানে মারধরও করা হয়।

গত ১১ মার্চের নির্বাচনে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ইশতেহারে ছিল, গেস্টরুম, গণরুম ও জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ন ভাবে বিলোপ সাধন করার কথা। কিন্তু এতো দিনেও তিনি কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন নি। তার ব্যার্থতার জন্য তিনি দুষছেন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্যার জন্য ছাত্রলীগের পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায়ী। যেটাকে আমরা প্রশাসনলীগ বলতে পারি। ছেলেদের বিজয় একাত্তর হল ও মেয়েদের হল গুলো ব্যতীত প্রত্যেকটা হলে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ দখলদারিত্ব করছে। অছাত্র ও বহিরাগতদের স্থান দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রশাসনকে এতোটা নির্লজ্জ ভাবিনি। তাদেরকে বেতন দেয়া হয় কিন্তু তারা কোন কাজ করে না। আমি একা ভিপি হয়েও কিছু করতে পারি না কারন ডাকসুতে আমি একা। তবে শিক্ষার্থীরা যদি কোন আন্দোলনের ডাক দেয় তাহলে আমি তাদের সামনে থাকব। তাদেরকে সব রকমের সহযোগিতা করব। যদি তারা আন্দোলনের ডাক না দেয় তাহলে আমি এই আন্দোলনের ডাক দিব।

একই ভাবে ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী ও এজিএস সাদ্দামের ডাকসু ইশতেহার ঘেটেও দেখা মিলে গেস্টরুম গণরুম বিলোপ করার কথা। অছাত্র বহিরাগত ও মেয়াদ উত্তীর্ণদের বের করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেখানে স্থানান্তর করার ঘোষনা করেন। কিন্তু তারা এখনো কোন পদক্ষেপ  নেন নি। বরং ডাকসুর আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর সংস্কৃত ভাবনা ও স্বাধীনতার গান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর যখন তার বক্তব্যে গেস্টরুম গণরুম বন্ধকরার কথা বলেন তখন গোলাম রাব্বানীকে তাঁর দিকে তাকিয়ে হাঁসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিপির গেস্টরুম গনরুমের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় গোলাম রাব্বানীর হাঁসি প্রমাণ করে তিনি এর সমাধান চান না।
 
এই ব্যাপারে জানার জন্য গোলাম রাব্বানীকে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। যদিও ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনেক দিন থেকেই রাব্বানীর ফোন না ধরার অভিযোগ করে আসছেন।

ডাকসুর এজিএস ও  ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তার ডাকসু ইসতেহারে  গণরুম ও গেস্টরুম প্রথা বিলোপ্ত করে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার রূপকল্প প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরও কোন প্রদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে নি।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করার একমাত্র উপায় হলো নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করা। এটা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। আমরা এটার চেষ্টা করছি যাতে নতুন হল নির্মান করা যায়। আমরা প্রধানন্ত্রীকে এই ব্যাপারে অবগত করেছি।  বহিরাগত বের করার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পরপরই বেশ কয়েকটি হলে এই উদ্যেগটি নেয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে তা সফল হয়নি। এখন প্রশাসন যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেয় আমরা তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
হলগুলোর নির্যাতন সেল ‘গেস্টরুমের’ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে তার এড়িয়ে যান। 
 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]