ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বরিশালে বিনা নোটিসে ৩৩ উন্নয়ন কর্মীকে চাকরিচ্যুত
তিনদিন ঘুরেও সিটি মেয়রের সাক্ষাত পাননি ভুক্তভোগীরা, অত:পর সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভপ্রকাশ, পুর্নবহালের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ: বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:১৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বরিশালে বিনা নোটিসে ৩৩ উন্নয়ন কর্মীকে চাকরিচ্যুত

বরিশালে বিনা নোটিসে ৩৩ উন্নয়ন কর্মীকে চাকরিচ্যুত

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে নিয়োজিত ৩৩ উন্নয়ন কর্মীকে আকস্মিক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আগাম কোন নোটিস ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চাকরিচ্যুতরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দাতা সংস্থা এডিবি’র (এশিয়া ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) নিদের্শনা উপেক্ষা করে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারী প্রকল্প থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর রোববার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘সীমান্তিক’ নামক এনজিও’র কর্মকর্তারা ৩৩ কর্মীকে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি অবহিত করলে তৈরি হয় ক্ষোভ।   

চাকরিচ্যুত কর্মীরা বিগত ১৩ বছর ধরে এই প্রকল্পের অধীনে ৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। এমনকি তাদের ৮ মাসের বেতনও সেখানে আটকে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিচ্যুতির খবরে মাঠকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। এবং চেয়ারটি ধরে রাখতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র লাভে ব্যর্থ হয়ে মাঠকর্মীরা বাকরুদ্ধও বটে। এসব সবশেষ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ভুত্তভোগীরা চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে অনিয়ম তুলে ধরে নিজেদেরকে পুর্নবহালেরও দাবি জানিয়েছেন। গত ২ সেপ্টম্বর বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত ৩৩ মাঠকর্মীর সকলে উপস্থিত ছিলেন।  

একাধিক মাঠকর্মী জানান, ২০০৬ সালে এই প্রকল্পের শুরু থেকে ৮৫ কর্মী মেরি ষ্টোপস ও সৃজনী বাংলাদেশ নামক এনজিওতে কাজ করে আসছেন। ৫ বছর পরপর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এনজিও পরিবর্তন হলেও নিয়মানুসারে তাদের বহাল রাখা হয়। কিন্তু এবার সীমান্তিক নামক এনজিও প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই তাদের ৩৩ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করে। অথচ চাকরিচ্যুতির পুর্বে নোটিস দেওয়ার বিধি থাকলেও তাও মানা হয়নি। এছাড়া সাম্প্রতিকালে এই প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুল হালিম মজুমদার পরিদর্শনে এসে তাদের বহাল রাখার নির্দেশনা দিলে তাও উপেক্ষা করা হয়েছে এই সিদ্ধান্তদের মধ্যদিয়ে।

এমন সিদ্ধান্তে চাকরিচ্যুতদের একজন সুষান্ত বালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- বিষয়টি অভিযোগ আকারে তদারক প্রতিষ্ঠান বিসিসি মেয়র সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহকে অবহিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়রের বাড়ি ও সিটি কর্পোরেশনে তিনদিন ঘুরে তার সাক্ষাত মেলেনি। সর্বশেষে বিষয়টি নিয়ে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) ইসরাইল হোসেনের কাছে গেলেও রুঢ় আচারণ করেছেন। এই কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাকরিতে পুর্নবহালের দাবি জানানো হয়েছে।

চাকরিচ্যুতদের অভিযোগ- বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন নিজেই একটি তালিকা করে ৩৩ কর্মীকে না নেওয়ার জন্য প্রকল্পের নতুন কার্যাদেশ পাওয়া এনজিও ‘সীমান্তিক’কে নির্দেশনা দিয়েছেন। এই কর্মকর্তার নির্দেশনার কারণেই তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিও সময়ের আলোকে বলছেন- কাজপ্রাপ্ত এনজিও সীমান্তিক অন্য এনজিও’র জনবল নিয়ে কাজ করতে চাইছে না। কিন্তু তারপরেও তাদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে যেন কিছু কর্মীকে নতুন প্রকল্পে রাখা হয়।

তবে সিও’র এমন বক্তব্যকে মিথ্যাচার দাবি করে চাকরিচ্যুতদের একাধিক কর্মী সময়ের আলোকে বলছেন- তিনি যে তালিকা তৈরি করে দিয়েছেন সেটা কার্যাদেশপ্রাপ্ত এনজিও কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন। অথচ দাতা সংস্থা এনজিও সীমান্তিককে পুরাতন কর্মীদের রাখার জন্য শর্তও জুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনাকে উপেক্ষ করেছে এনজিও ও তদারক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।

তবে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনা উপেক্ষা করার বিষয়টি অস্বীকার করে সীমান্তিক’র প্রজেক্ট ম্যানেজার (পিএম) মো. শাহনেওয়াজ সময়ের আলোকে বলেন- গত আগস্ট মাসের শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরুর আদেশ ছিল। কিন্তু কর্মী রাখা ও বাদ দেওয়াসহ নানা জটিলতার কারণে শুরু করা যায়নি। পরবর্তীতে সিও যে তালিকা দিয়েছেন তাদের নতুন প্রকল্প থেকে বাদ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন চলছে।

অবশ্য শর্ত দেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুল হালিম মজুমদার মজুমদারও স্বীকার করে সময়ের আলোকে মুঠোফোনে বলছেন- বিষয়টি সম্পর্কে ইতিমধ্যে অবগত হয়ে বিসিসি সিওকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি মেয়রের অজুহাত দিয়ে বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসতে চাইছেন। তবে নতুন লোক দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার অসম্ভব হওয়ায় বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করা যাচ্ছেন। এই কারণে বিষয়টি এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন কারও হস্তক্ষেপ না থাকে।

এদিকে এই বিষয়ে জানতে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।’














সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]