ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

থেমে গেছে শালতা নদীর খনন কাজ,বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা
অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:১৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

থেমে গেছে শালতা নদীর খনন কাজ,বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা

থেমে গেছে শালতা নদীর খনন কাজ,বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা


বহু প্রত্যাশিত শালতা নদী খননে শেষ মূহুর্তে জনপদের সাধারণ মানুষের আশার মাঝে নিরাশা দেখা দিয়েছে। একাধিক প্যাকেজ প্রকল্পে বাস্তবায়নাধীন খনন কাজে ঠিকাদারদের প্রকল্প সীমানা নিয়ে রশি টানাটানি,মতদ্বন্দ্ব,অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতায় গত ৩ মাস ধরে প্রায় আধা কি:মি: এলাকায় খননকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার ফসলের ক্ষেত,মাছের ঘের ও নিম্নাঞ্চলের বসত-বাড়ি তলিয়ে জনদূর্ভোগ চরমে পৌছেছে।

সমস্যা সমাধানে ভূক্তভোগী এলাকাবাসী তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। শতাধিক স্বাক্ষরিত ঐ আবেদনে বলা হয়েছে,উপজেলার ১২ নং খলিলনগর এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম কালভার্টের মুখে সালতার খনন কাজ বন্ধ থাকায় ঐ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে তারা তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসী জানায়,পরিমল মন্ডল ও বিধান জোয়াদ্দার নামে দু’ব্যক্তি নদীর মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার জমি দখল পূর্বক সেখানে মাছ চাষ করে আসছে। তারা নদীর দখল ছেড়ে না দেয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নদী খননে ঐ এলাকায় বাঁধার মুখে পড়ে।

তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত পরিমল ও বিধান এ প্রতিনিধিকে জানান,তারা যে ক’জন নদীর মধ্যে মাছ চাষ করেছিলেন তারা প্রায় ৪ মাস আগে সে মাছ উঠিয়ে নিয়েছেন।

এনিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজরাকাটির ওয়াদুদ সানা,মোসলেমউদ্দিন শেখ,রবিউল ইসলাম, জিয়াউর রহমান ও রেজাউল শেখ বলেন, তাদের পাঁচটি গ্রাম হাজরাকাটি, মহান্দি,নুরুল্লাহপুর,বারইহাটি ও নলতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের ফসলী জমি রয়েছে দুই হাজার বিঘারও বেশি। এসব জমির ফসল মার যেতে বসেছে জলাবদ্ধতার কারণে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন সোনামুখী গেট দিয়ে পানি শালতা নদীতে নিষ্কাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু এই গেটের মুখ যেমন উঁচু হয়ে গেছে তেমনি নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করছে স্থানীয় পরিমল মন্ডল ও বিধান জোয়ার্দার। তারা বাঁধ দিয়ে সোনামুখী গেটটি আরও অকেজো করে ফেলেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশিত হতে না পারায় তা আটকে রয়েছে ফসলী মাঠে ঘাটে। এই পানি এখন বাড়ি ঘরে উঠেছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ঘর-বাড়ি, গাছপালা উঠোন। চারদিকে পানি আটকে থাকায় ডেঙ্গু ও সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
 
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ১৯৮৬ সালে সালতাসহ খুলনার ৫টি নদীর নব্যতা হ্রাস শুরু হয়। এরমধ্যে ভদ্রা ও শালতা খননের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে নদী খননে প্রকল্প জমা দেয়া হয়। পরে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সরকার ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এরপর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এর খননকাজ শুরু হয়ে মোট ৩ অর্থ বছরে শেষ করার কথা রয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে।

প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা ও শালতার ৩০ কি:মি: নদী খননে ৯ টি প্যাকেজে ৭ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। প্রকল্পে ডুমুরিয়া বাজারের ভদ্রা নদী থেকে শুরু করে ৯ কি:মি: নদী শৈলমারী নদীর সাথে সংযুক্ত করতে হবে। খননে নদীর তলদেশ ৬০ মিটার ও উপরিভাগে ১১০ মিটার।

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে তালা প্রেসক্লাব,পানি কমিটি,শালতা বাঁচাও কমিটি ও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ এর সহযোগীতায় শালতা নদী পুনর্জীবনে নদী অববাহিকার ভুক্তভোগী মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কর্ম সূচির মধ্যে জনসমাবেশ, মানববন্ধন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়,সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছ,তালা ও ডুমুরিয়ার উপর দিয়ে প্রবাহিত শালতা নদীর উপর ভর করে এক সময় বিস্তীর্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হত। শালতা ছিল মৎস্যজীবিদের জীবিকার প্রাণ।

সরকারি মানচিত্রে নদীটির প্রস্থ কোথাও ৪৫০ ফুট,কোথাও ৫০০ ফুট আবার কোথাও ৪০০ ফুট দেখানো হয়েছে। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নদীর ১৬,১৭/১ নং পোল্ডারের একাংশ বুড়িভদ্রার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং অপর অংশ শিবসা নদীতে গিয়ে মিশেছে। মাঝের প্রায় ১৩ কিঃমিঃ একেবারেই মরে গেছে।

এব্যাপারে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু,খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু,পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান,ঘের ব্যবসায়ী মো: কোহিনুর ইসলাম তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান,ব্যাপক দূর্নীতি-অনিয়মের মধ্যে শুরু হওয়া শালতা খননে শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত নানা নাটকীয়তায় ভরা। এক্ষেত্রে পাউবো ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শালতা খনন আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষদের অন্ধকারে রেখে নদী খনন হচ্ছে। যার এক পর্যায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাউবোর সাথে যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে খনন কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিস্তীর্ণ জনপদের সাধারণ মানুষকে অনিশ্চি ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এব্যাপারে তারা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ঠ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]