ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মস্তিষ্কের অদ্ভুত কিছু ব্যায়াম
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:৪৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মস্তিষ্কের অদ্ভুত কিছু ব্যায়াম

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে মস্তিষ্কের অদ্ভুত কিছু ব্যায়াম


আমরা বার বার যা করি মস্তিষ্ক তাই ধারণ করে এবং স্মৃতি হিসেবে রেখে দেয়। অভ্যাসের বাইরে গিয়ে কিছু করাটাই মস্তিষ্কে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান। এতে মস্তিষ্কের স্মৃতিক্ষয় হওয়া রোধ পায়। মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞতা দিলে এটি ভালো থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক স্মৃতিক্ষয় প্রতিরোধ এবং আপনার মনকে উৎফুল্ল রাখার জন্য ছোট ছোট কিছু মানসিক ব্যায়াম সম্পর্কে।

মস্তিষ্ককে সজাগ রাখা: মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞা দিলে শারীরিক অনুভূতি- শোনা, দেখা, স্বাদ নেওয়া, গন্ধ নেওয়া, স্পর্শ করা- এসব সঙ্গে মানসিক অনুভূতি যুক্ত হয়ে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশগুলোর মধ্যে আরো বেশি সংযোগ সৃষ্টি করে। নার্ভ কোষগুলো মস্তিষ্কের পুষ্টি উৎপাদন করে যা নাটকীয় ভাবে স্মৃতি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং পার্শ্ববর্তী কোষগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে এবং বার্ধক্যজনিত প্রভাবগুলো অনেক বেশি প্রতিরোধী করে তোলে।

বাম হাত দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা: আমরা বেশিরভাগ মানুষ আমাদের প্রায় সব কাজই ডান হাত দিয়ে করি। এর কারণ আমাদের মস্তিষ্কের ডান অংশ বেশি অনুভূতিশীল। গবেষণার মাধ্যমে বলা হয়, মস্তিষ্কের অপর পাশের ব্যবহার করটেক্সের বিভিন্ন অংশের দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটায়। তাই আপনি যদি ডানহাতি হন তাহলে বাম হাত দিয়ে ব্রাশে টুথপেস্ট লাগান এবং বাম হাত দিয়েই দাঁত ব্রাশ করুন। এবং বামহাতি হলে ডান হাত দিয়ে কাজগুলো করুন।

চোখ বন্ধ করে গোসল করা: আমাদের হাত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গবিন্যাস পর্যবেক্ষণ করতে পারে যা আমাদের চোখ দেখতে পারে না এবং সেই তথ্য মস্তিষ্কে প্রদান করে। মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করার জন্য চোখ বন্ধ করে গোসল করুন। তবে পানির তাপমাত্রা চোখ খোলা অবস্থায় ঠিক করে নিন।

সকালের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা: আমরা যে কাজগুলো নিয়মিত এবং বার বার করি, মস্তিষ্ক সেই কাজগুলোর নির্দেশনা দেয় বেশি বা মস্তিষ্কে সেই কাজের অনুশীলন হয় বেশি। আপনার মস্তিষ্ক ততক্ষণ পর্যন্ত নতুন কাজের কথা ভাববে না যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি তাকে নতুন কোনো কাজ দিবেন। তাই সকালের শুরুতেই কাজের কিছুটা পরিবর্তন আনুন।

পরিচিত জিনিসগুলো উল্টে রাখুন:
আমরা যখন কোনো কিছু ঠিক ভাবে দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্কের যে অংশ কম সাড়া দেয়, যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বাম অংশ চেষ্টা করে আমাদের মনোযোগ অন্যত্র সরানোর। কিন্তু যখন আমরা কোনো কিছু উল্টানো অবস্থায় দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্কের ডান অংশের মনোযোগ বেড়ে যায় সেই জিনিসটির প্রতি এবং এটি তখন তার আকার, বর্ণ বিশ্লেষণ করতে থাকে।

খাবার টেবিলের চেয়ার পরিবর্তন করা: প্রায় প্রত্যেক পরিবারে সবার আলাদা আলাদা চেয়ার থাকে যেটাতে বসে খাওয়া হয়। আপনার ও থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু নতুন অভিজ্ঞতা আপনার মস্তিষ্কের জন্য ভালো তাই আপনার ঘরের খাবার টেবিলের চেয়ারগুলো উল্টিয়ে পাল্টিয়ে বা পরিবর্তন করুন নিজের ইচ্ছামতো।

নাকের সঙ্গে মস্তিষ্কের সম্পর্ক তৈরি: কফি শব্দটা মাথায় এলেই কেমন জানি মনে হয় এর গন্ধ পাচ্ছি আমরা। এটা নাকের সঙ্গে মস্তিষ্কের একটা সম্পর্ক। মস্তিষ্ককে আরো নতুন গন্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন।

গাড়ির জানালা খুলে দিন: হিপোক্যাম্পাস আমাদের মস্তিষ্কের এমন একটি জায়গা যেটি গন্ধ এং শব্দের স্মৃতি প্রক্রিয়া করে। তাই চেষ্টা করুন চলতি পথের বিভিন্ন গন্ধ এবং শব্দগুলোকে বুঝতে এবং মনে রাখতে। তার জন্য খুলে রাখুন আপনার গাড়ির জালানা অথবা বের হয়ে একটু হেঁটে বেড়ান।

সুপার মার্কেটে পর্যবেক্ষণ: সুপার মার্কেটে বা অন্যান্য দোকানে অনেক জিনিস সাজানো থাকে কিন্তু আমরা কখনোই তা ভালো করে খেয়াল করি না। মস্তিষ্কের অনুশীলন হিসেবে সময় নিয়ে দোকানে সাজানো সব জিনিসের প্রতি ধীরে ধীরে চোখ বুলান।

দলবদ্ধ হয়ে ছবি আঁকুন: ছবি আঁকা মস্তিষ্কের নন ভারবাল এবং ইমোশনাল অংশকে কর্মক্ষম করে তোলে। যখন আপনি কোনো ছবি আঁকেন, তখন আপনি তাই আঁকেন যা আপনার মস্তিষ্ক চিন্তা করে। মস্তিষ্কের অনুশীলন হিসেবে কয়েকজন একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের ওপর ছবি আকুঁন।

সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি: চিকিৎসাবিজ্ঞান এটি বেশ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, সামাজিক যোগাযোগ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখলে তার খারাপ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। মস্তিষ্ককে নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগগুলো বাড়ান। বেশি করে কথা বলুন আশপাশের মানুষের সঙ্গে।

ভিন্ন ভাবে পড়া: যখন আমাদের পাশে বসে কেউ কিছু জোরে জোরে পড়ে এবং আমরা শুনতে থাকি তখন মস্তিষ্ক তার আলাদা আলাদা অংশ একই সঙ্গে ব্যবহার করে। কিন্তু যখন আমরা নীরবে একা একা পড়ি তখন এটি ঘটে না। তাই নীরবে পড়ার থেকে জোরে পড়ুন। এতে করে মস্তিষ্কের অনুশীলন হবে।

অপরিচিত খাবার খাওয়া: আমাদের মস্তিষ্ক একটি খাবারকে শণাক্ত করে তার গন্ধের মাধ্যমে। এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্কের ইমোশনাল সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত। তাই এখন থেকে কোথাও খেতে গেলে অপরিচিত খাবার রাখুন খাদ্য তালিকায়।

টেন থিংস খেলা: আমরা কোনো কিছু দেখার সঙ্গে সঙ্গে সেটি আমাদের ঠিক কি কাজে লাগে তা চিন্তা করে ফেলতে পারি তার কারণ আমাদের মস্তিষ্ক আগে থেকেই ওই জিনিসটির সঙ্গে পরিচিত।

নিজে নিজে কথা বলুন: নিজে নিজে কথা বলা বা আপনমনে কথা বলার কাজটি খুব বেশি পাগলামি মনে হলেও এটি অনেক বেশি কার্যকরী।

পাজল বা ওয়ার্ড গেম ধরণের খেলা খেলুন: গবেষণায় দেখা যায় যাদের নিয়মিত পাজল সমাধান, স্ক্রাবল, সুডোকো মেলানোর অভ্যাস রয়েছে তাদেড় মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।

মেলোথেরাপি: মিউসিক থেরাপিকে সাধারণত মেলোথেরাপি বলা হয়। এই মেলোথেরাপির মাধ্যমে একদিকে মনোযোগ নির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।

বই পড়া: বই পড়া হচ্ছে মস্তিষ্কের সবচাইতে ভালো ব্যায়াম। যেধরণের বইই হোক না কেন বই পড়ার বিষয়টি মস্তিষ্কের নার্ভ সচল রাখতে সহায়তা করে।

নতুন ভাষা শেখা: নতুন একটি ভাষা শেখা এবং লেখার মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়ে তেমনই কমে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা। নতুন একটি ভাষা শেখা, বোঝা এবং প্রয়োগ করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়ে যা স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল হতে বাঁধা দেয়।

সুদোকু: ছক কাটা ঘরে সংখ্যা বসানোর এই খেলাকে মগজের জন্য সবচেয়ে উপকারী ধরা হয়। এই খেলা শুধু মগজের গতিই বাড়াবে না, ঝালিয়ে দেবে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও।

সাধারণ গণিত: গণিতচর্চা মানে মস্তিষ্কেরই চর্চা। মনে মনে করার মতো অতি সাধারণ গুণ, ভাগও মস্তিষ্কের ক্ষমতা

হাতে লিখুন: কম্পিউটারের যুগ বলে হাতে লেখার অভ্যাসটা একেবারে ত্যাগ করবেন না। হাতে লিখলে হাতের লেখা ভাল হোক না হোক, মগজটা ব্যস্ত থাকবে।

নিজেই শিক্ষক: কিছু শেখা বা করার সময় মনে মনে নিজেকে নিজের শিক্ষকের ভূমিকায় কল্পনা করুন। কোনো কিছু ভুলে গেলে টিচারের মতোই নিজেকে হাত নেড়েচেড়ে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করুন।

গোয়েন্দাগিরি: গোয়েন্দাদের মতো করে দেখতে শিখুন। একটি ঘটনা বা বিষয়ের সঙ্গে আরেকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের সম্পর্ক খুঁজে বের করুন।

ধ্যান: যারা সারাক্ষণ নানা ধরনের চাপে থাকেন, তাদের মগজটাকে সময়ে সময়ে হালকা করতে ধ্যানের বিকল্প নেই। মেডিটেশনের ওপর বই বা সিডি এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।

খাবার ও শরীরচর্চা: সবশেষে মগজটাকেও খেতে দিন। স্বাস্থ্যকর খাবারে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো মস্তিষ্কও সুস্থ থাকে। আর দিনে মাত্র ১৫ মিনিটের শরীরচর্চাও পারে আপনাকে আরো বুদ্ধিদীপ্ত করে তুলতে।

বুদ্ধির ধার বাড়ে এই ১২টি খাবার খেলে: টমেটো, অলিভ অয়েল, হলুদ, আখরোট, নারকেল তেল, কুমড়োর বীজ, মাছ, ব্রকলি, জাম, ডিম, পালং শাক, শতমূলী।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]