ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাটমোহরে আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

চাটমোহরে আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক

চাটমোহরে আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষক


আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পাবনার চাটমোহরের কৃষকেরা।  ধানের দাম কম, শ্রমিক সঙ্কট ও মজুরি বৃদ্ধিকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ।  এ অবস্থায় ধানের উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না- জানাচ্ছেন খোদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের কুমারগাড়া গ্রামের আমনচাষী সুরুজ আলী বলেন, “আমন আবাদে এ বছর এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২ হাজার ৫২০ টাকা। এর মধ্যে জমি চাষ, বীজ কেনা, শ্রমিকের মজুরি ও সার খরচ রয়েছে।  ১ বিঘা ৩ কাঠা জমিতে আবাদ করেছি।  
ধান ঘরে তুলতে লাগবে আরও ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। ৩/৪জন কামলা (শ্রমিক) লাগবে ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শেষ করতে। সব মিলিয়ে ধান ঘরে তুলতে খরচ পড়বে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

গত বছর পেয়েছিলাম সোয়া সাত মণ ধান। বাজার দর ছিল ৫০০-৫৫০ টাকা মণ। এ বছর ধান কত মণ হবে, আল্লাহ ভালো জানেন। ৭/৮ মণের বেশি হবে না জানালেন সুরুজ আলী। বছর চুক্তিতে জমি লীজ নিয়ে  বোরো, আমন ধান ও খেরাসী ঘাসের আবাদ করেন এ চাষী।

কৃষক রফিকুল ইসলাম, আবুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, রোপা আমন আবাদে খরচ আরেকটু বেশি পড়ে। বীজের চেয়ে চারার দাম বেশি। থাকে চারার ঘাটতিও। মাজরা পোকার আক্রমণ থাকলে দিতে হয় কীটনাশক। এতে খরচ বেড়ে যায়। এদিকে উপজেলার হাটগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে রোপা আমনের চারা। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম এবং বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দেখা দিয়েছে চারার সঙ্কট।

চাটমোহর নতুন বাজার হাটে চারা বিক্রি করছিলেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, এক বোঝা চারা বিক্রি করছেন ২৫০-৩০০টাকা দরে। এক বোঝায় ৩৫-৪০ আটি চারা থাকে। বিঘায় কত আটি চারা লাগে, সেটা নির্ভর করে আটির আকারের উপর। নজরুলের বাড়ি আনকুটিয়া গ্রামে। ১৫০টাকা বোঝা দাম হাকাচ্ছিলেন আরেক চারা বিক্রেতা মহরম হোসেন। এক বোঝার ভেতরে রয়েছে ১২-১৫ আটি চারা।  মহরম হোসেন গুনাইগাছা গ্রামের কৃষক।

বওশা এলাকার আমন চাষী জানালেন, “এক বোঝা চারা কিনেছি ২৮০ টাকায়। বোঝায় কয় আটি আছে গুনে দেখিনি।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র বলছেন, এ বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৫হেক্টর জমিতে। গেল বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমি। সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীকে বিনামূল্যে বিনাশাইল ও নাইজারশাইল ধানের চারা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬০জন কৃষক এ চারা নিয়েছেন। এ চারা দিয়ে এক বিঘা জমি আবাদ করা যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলছেন, ধান দাম কমে যাওয়ায় আমন ধানের আবাদ কমছে। আরেকটি বড় বাধা শ্রমিক সঙ্কট ও বেশি মজুরি। অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এজন্য চারার দাম বেড়ে বেড়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]