ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

থেমে থেমে চলছে “৩৫ চাই” আন্দোলন
মোতাছিম বিল্লাহ নাঈম
প্রকাশ: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৩২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

থেমে থেমে চলছে “৩৫ চাই” আন্দোলন

থেমে থেমে চলছে “৩৫ চাই” আন্দোলন

২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ইমতিয়াজ হোসেনের নেতৃত্বে শাহবাগে বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারী চাকরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার আন্দোলন শুরু হয়। এই মানববন্ধনের কিছু দিন পর জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শহীদ মিনারের সামনে আরো দুটি মানববন্ধন করে সংগঠনাটি। এরপর থেকে সারা দেশে একের পর এক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর আন্দোলন করার পরও আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্যমতে, ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন পর্যন্ত ২৩ বার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। তার মধ্যে লাগাতার দুই দিন অবরোধ করে সেখানে অবস্থান করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তার কিছুদিন পরেই একই সময়ে ৬৪ জেলার প্রেস ক্লাবের সামনে ৪বার মানববন্ধন করে এবং ৩৭ দিন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অবস্থান নেয়। সংগঠনটির মুখপাত্র ২৩ বার পুলিশের হাতে আটক হন। বেশ কয়েকবার তাদের কর্মসূচির উপর পুলিশের হামলা হয়।

শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার থমকে দাড়ায় আন্দোলনটি। আবার শুরু করে তারা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এসে তৈরী হয় গ্রুপিংয়ের। ফলে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় আন্দোলনটি। সংগঠনটির মুখপাত্র এই গ্রুপিংয়ের ব্যাপারে সময়ের আলোকে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে আমরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এখন আমরা এক হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর রাজপথ ছাড়ব না। দরকার হলে এখানেই দিন কাটাব রাত কাটাব। কিন্তু সরকারের বোধ ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

দলাদলির অবসান ঘটিয়ে সর্বশেষ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যে তাদের পূর্বঘোষিত দিনব্যাপী মহাসমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকশ ৩৫ প্রত্যাশী নেতাকর্মী উপস্থিত হয়।

এসময় চাকরি নয় সুযোগ চাই ৩৫ ছাড়া গতি নাই, ৩০ নিপাত যাক ৩৫ এর জয় হোক, রক্ত লাগলে রক্ত নাও ৩৫ এর মুক্তি দাও, হতাশা মুক্ত বাংলাদেশ গড় ৩৫ বাস্তবায়ন কর, বয়সের ফ্রেমে মেধাকে বন্দী করা চলবে না, ইত্যাদি শ্লোগান যুক্ত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে ইমতিয়াজ বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করার পর রানা প্লাজা ধ্বস ও গণজাগরণ মঞ্চসহ নানা আন্দোলন শুরু হয়। এই কারনে আমরা আমাদের আন্দোলন প্রায় সময় স্থগিত রেখেছি। কিন্তু এখন থেকে আমরা আর থামব না।

তিনি বলেন, সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পরপর তিনবার সুপারিশের পরও কেন উপেক্ষা করেছেন? সরকার (বর্তমান) ৭০ বছরের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের যারা সবসময় জনগণের পক্ষেই কাজ করেন তাহলে বর্তমানে এই ২৮ লক্ষ তরুণদের দাবি কেন অবহেলা করছেন? আমরা বলতে চাই দ্রুত সময়ে আমাদের এই ৭ বছর ধরে চলা দাবি মেনে নিন এবং ৩৫ বাস্তবায়ন করেন।

পরিষদের সিনিয়র আরেক নেতা এম. এ আলী বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকে বড় আশা নিয়ে ক্ষমতায় এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে চাকরিতে বয়সের সময়সীমার ব্যাপারে যৌক্তিক সমাধান দেয়া হবে। কিন্তু আমরা এখনো এর যৌক্তিক সমাধান পাইনি কেন আমরা ছাত্রসমাজ সরকারকে প্রশ্ন করতে চাই। আমাদের পড়ার টেবিল ছেড়ে কেন রাজপথে থাকতে হয়। তার জবাব এই রাষ্ট্রকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের সাথে চরম অন্যায় করছে। আমরা চাকরির বয়স ৩০ থেকে ৩৫ করার লক্ষ্যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আজ অবধি আন্দোলন করে আসছি। আজ যদি আমাদের জনসমর্থন না থাকতো তাহলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলাতে মানববন্ধন হতো না, সমাবেশ হতো না। আপনারা জেনে থাকবেন, বাংলাদেশের দু-একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া পুরো বাংলাদেশে মানববন্ধন করা, জনসমাবেশ করার ক্ষমতা রাখে না কিন্তু বাংলার ছাত্র সমাজের এক ক্ষমতা রয়েছে।

পরিষদের আরেক সিনিয়র নেতা আলামিন রাজু বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ৩৩ পৃষ্ঠায় বয়স বৃদ্ধির ঘোষণা ছিল। কিন্তু জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেনের কথায় আমরা বেকার যুব ছাত্রসমাজ হতাশাগ্রস্ত।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি হারুন-অর-রশিদ, এমএ আলী, ইউসুফ জামিল, রফিকুল ইসলাম কিরন, মহাদেব সরকার, নাছির হোসেন, কামাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, নাসরিন সুমি,অরুণিমা, নাহিদা আক্তার সহ প্রমুখ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]