ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কর্মকর্তাদের নারী কেলেঙ্কারি
পদস্থদের নৈতিক স্খলন গ্রহণযোগ্য নয়
প্রকাশ: রোববার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা যুক্ত, তাদের যেকোনো ধরনের নৈতিক পতন যেমন নাগরিকদের হতাশ করে, তেমনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তা হতাশাজনক ফল বয়ে আনে। আমরা বিশ^াস করি, একটি কল্যাণরাষ্ট্র নির্মাণে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ভ‚মিকা প্রণিধানযোগ্য, যা রাষ্ট্রকে সুসীমারেখায় পৌঁছতে সহায়ক হয়। আমরা সেই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তেমন ফলপ্রসূ কার্যক্রম পেয়ে থাকি? নাগরিকরা বলছেন, না। তাহলে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশটি রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি তার ভবিষ্যৎ কী? ইত্যাকার প্রশ্ন, প্রায়শই আমাদের কাতর করে।
নারী কেলেঙ্কারির দায়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ডিসি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি পদ থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জামালপুরের ডিসির ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুরোপুরি অবগত আছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও একজন নারীর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার কার্যালয়ের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয় সর্বত্র। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। ইতোমধ্যে জামালপুরের ডিসির কেলেঙ্কারির রেশ না কাটতেই আসিফ ইমতিয়াজ নামে প্রশাসন ক্যাডারের ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সারা দেশে আলোচনায় স্থান করে নিয়েছেন। তথ্য বলছে, বিয়ের প্রতিশ্রæতি দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও প্রেমিকাকে না জানিয়ে তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনায় ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিভাগের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। সেখানে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর আগে প্রেমিকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে রীতিমতো সাপের সন্ধান পায়। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আয়বহিভর্‚ত বিপুল পরিমাণ অর্থ-বিত্তের কারণে এই কর্মকর্তা ভারসাম্য হারিয়েছেন। নিজের অফিশিয়াল পরিচিতির মর্যাদা সুরক্ষার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে বিয়েবহিভর্‚ত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রেমিকাকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভাড়া ফ্ল্যাট
ও আবাসিক হোটেলে সময় কাটিয়েছেন। বান্ধবীকে অন্তঃসত্ত¡া করে বিপাকে পড়েন ইউএনও আসিফ।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ডিসির ঘটনার তদন্ত শেষ না হতে ইউএনওর এ ঘটনায় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাÐে বিব্রত পুলিশ প্রশাসনও। দশ বছরে ২ হাজার ৭৮৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির মতো তিন হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী এর মধ্যে ৩৬৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ পর্যন্ত করা সাড়ে চারশ মামলার মধ্যে মাত্র ৬৭ জন কর্মকর্তাকে গুরুদÐ অর্থাৎ চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, ১২৬ জনকে লঘুদÐ অর্থাৎ সতর্কতা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ৪৪টি বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আমাদের প্রশ্ন, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী এগুলো সুস্পষ্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কর্মকর্তাদের নৈতিক স্খলন গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এ ধরনের অপরাধ নাগরিকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করছে। বেহাল হয়ে পড়ছে প্রশাসনিক কাঠামো। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কর্মকর্তাদের নৈতিক শিক্ষা। আমরা মনে করি, অবশ্যই যারা এ ধরনের কর্মে জড়িত তাদের ভুলে গেলে চলবে না তাদের কর্মকাÐ সামাজিকভাবেও প্রভাব বিস্তার করে থাকে। দেশের ১২ লাখ সরকারি কর্মচারী এ দেশের সন্তান। তারাও প্রশাসনকে কলুষমুক্ত রাখার দায় এড়াতে পারেন না। আমরা চাই, এসব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে করে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নৈতিক স্খলনের মতো অপরাধ করতে সাহসী না হন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]