ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইসলামে সম্প্রীতি ও সুন্দর ব্যবহার
আরিফ খান সাদ
প্রকাশ: সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সমাজে বসবাস করতে হলে বিভিন্ন শ্রেণি ও নানা ধর্মের মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হয়। মুসলিমপ্রধান দেশে অমুসলিমদের বসবাস কিংবা কোনো অমুসলিমপ্রধান দেশে মুসলিমদের বসবাস খুবই স্বাভাবিক। অফিসের সহকর্মী কিংবা প্রতিবেশীও অমুসলিম হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা খুবই জরুরি। ইসলাম এ শিক্ষাই দেয় মুসলিমদের। একজন মুসলিম ব্যক্তি অমুসলিমদের সঙ্গে কীভাবে ওঠাবসা করবে, লেনদেন করবে এবং পরস্পরে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন ইত্যাদি বিষয়ে ইসলামের রয়েছে সুন্দর দিকনির্দেশনা। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলো।ভালো কাজের প্রতিদান : অমুসলিমরাও সমাজে ভালো কাজের প্রতিদান পাবেন। কারণ, অন্যের প্রতি সহানুভ‚তি, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সৃষ্টির সেবা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করাÑ এসব কাজের প্রতিদান একজন অমুসলিমও পাবে। তাদের প্রতিদান হবে দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তি লাভের মাধ্যমে কিংবা পরকালে শাস্তি হালকা হওয়ার মাধ্যমে। তবে পরকালের চিরস্থায়ী নাজাতের জন্য ঈমান পূর্বশর্ত। (ফয়জুল বারি : ১/১৩৬; শরহুল মুসলিম, আল্লামা নববী : ৩/৮৭)। হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কাফের যদি দুনিয়াতে কোনো নেক আমল করে তবে এর প্রতিদানস্বরূপ দুনিয়াতেই তাকে জীবনোপকরণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
আর মুমিনদের নেকি আল্লাহ তায়ালা আখেরাতের জন্য জমা করে রেখে দেন এবং আনুগত্যের প্রতিফলস্বরূপ আল্লাহ তাদের পৃথিবীতেও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।’ (মুসলিম : ৬৯৮৩)। তাই সমাজে অমুসলিম কোনো ব্যক্তি যদি ভালো কাজ করে থাকেন সেটা তাদের করতে দেওয়া, সম্ভব হলে সহযোগিতা করা এবং তাদের প্রতি সুধরণা ও কল্যাণচিন্তা রাখা।
অমুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা : অমুসলিম ও বিধর্মীদের প্রতি উত্তম ও ভালো ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। কোরআনে এসেছে, ‘তারা যদি এমন কাউকে (প্রভুত্বে) আমার সমকক্ষ সাব্যস্ত করার জন্য তোমাকে চাপ দেয়, যে সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের কথা মানবে না। তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও উত্তম ব্যবহার কর।’ (সুরা লোকমান : ১৫)। হাদিসে এসেছে, হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ ও হজরত কায়েস ইবনে সাদ (রা.) একদিন বসা ছিলেন।
তারা তখন কাদিসিয়ায় অবস্থান করছিলেন। পাশ দিয়ে একটি লাশ নেওয়া হচ্ছিল। তা দেখে তারা দুজনই দাঁড়ালেন। উপস্থিত লোকেরা তাদের জানালেন, ‘এটা একজন অমুসলিমের লাশ।’ তারা তখন বললেনÑ ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়েও একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি যখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লাশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের বললেনÑ সে মানুষ ছিল তো?’ (বুখারি : ১৩১২)
প্রতিবেশীর প্রতি সদাচার : প্রতিবেশী মুসলিম হোক বা অমুসলিমÑ তার প্রতি সদয় হওয়া। বিপদে পাশে দাঁড়ানো। ঘরে ভালো খাবার রান্না হলে তাদের ঘরে পাঠানো। রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মুসলিম ও অমুসলিম সব ধরনের প্রতিবেশীর সঙ্গেই সদ্ভাব বজায় রেখে চলতেন। হাদিসে এসেছে, ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর ঘরে একদিন বকরি জবাই করা হলো।
খাবার রান্না হলে তিনি তার খাদেমকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে কি এ খাবার দিয়েছ? এরপর তিনি বললেনÑ আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, প্রতিবেশীর বিষয়ে জিবরাইল (আ.) আমাকে এত উপদেশ দিচ্ছিলেন, আমি মনে করছিলাম, তিনি হয়তো তাদের তার ওয়ারিশই বানিয়ে দেবেন।’ (তিরমিজি : ১৯৪৩)
ব্যবসা-বাণিজ্যে শরিক বানানো : অমুসলিমদের প্রতি সহানুভ‚তি, সৌজন্য, আতিথেয়তা এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়নি। কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিম থেকে টাকা ধার নিলে নামাজ, রোজা, কোরবানি ইত্যাদি ইবাদতের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে এই লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে মুসলমানদের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে তা জায়েজ হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.), খুলাফায়ে রাশেদিন ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের কর্মপন্থা থেকে এটি প্রমাণিত হয়।’ (মায়ারিফুল কোরআন : ২/৫; জাওয়াহিরুল ফিকহ : ২/ ১৭৯)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে
বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও
তাদের প্রতি ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন।’ (সুরা মুমতাহিনা : ৮-৯)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]