ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এই অবক্ষয়ের শেষ কোথায়
অরূপ তালুকদার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কিছুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এবার গিয়েছিলাম সাত আট মাস পরে। বরগুনা দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত একটি জেলা, এর অন্তর্গত পাথরঘাটা থানার লোলবুনিয়া গ্রাম। এখন এসব জায়গা অনেক আধুনিক হয়েছে। কিন্তু চল্লিশ পঞ্চাশের দশকে এসব এলাকা ছিল একেবারেই অজপাড়াগাঁ। বরগুনাতো এখন নানা কারণে বিখ্যাত। আমি সাধারণত কিছুটা সময় বের করে বছরে দুয়েকবার গ্রামের বাড়িতে যাই। তবে প্রত্যেকবারই কিছু না কিছু নতুনত্ব আবিষ্কার করি। বুঝতে পারি। দেশের উন্নয়নযাত্রায় আমার সেই পঞ্চাশ বা ষাট দশকের অজপাড়াগাঁ শামিল হয়েছে যথারীতি। ২-৩ বছরের মধ্যে ঝকঝকে বিটুমিনাইজড রাস্তাঘাট হয়েছে। পা ডোবানো কর্দমাক্ত রাস্তাঘাট এখন আর অনেক জায়গাতেই নেই। অতি সম্প্রতি এসেছে বিদ্যুৎ। আরইবির বিদ্যুতে বেশিরভাগ গ্রামাঞ্চলের বাড়িঘর এখন আলোকিত। শুনেছিলাম বিদ্যুৎ আসবে, এবারে গিয়ে দেখি, এসে গেছে। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই এসে গেছে এলইডি লাইট, রঙিন টিভি। বৈদ্যুতিক পাখাসহ ফ্রিজ ও অন্যান্য নানা ইলেকট্রনিক সামগ্রী। আর্থিক সঙ্গতি যে বাড়ির ভালো, সে বাড়িতে কোনোকিছুরই আর অভাব নেই, শহরের সব সুবিধা এখন গ্রামেই পাওয়া যায়। আর সবকিছুই হচ্ছে এত দ্রæত যা দেখে রীতিমতো অবাক হতে হয়। আগে জেলা শহর আর বড় বন্দর এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল, তখন গ্রামাঞ্চলে ছিল সৌরবিদ্যুৎ, এখন গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে প্রায় সারা দেশেই। এখন শহর বন্দর গ্রামে যেমন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি পাওয়া যাচ্ছে হাজার হাজার মোটরসাইকেল, টিভি ফ্রিজ আর মোবাইল ফোন।
মাঝবয়সি, তরুণ-তরুণী, ছাত্রছাত্রী সবার হাতেই মোবাইল ফোন। সংযোগ আছে ইন্টারনেটের। ফলে তাদের কাছে সবকিছুই সহজতর হয়ে উঠেছে। টাকা-পয়সা লেনদেন, যোগাযোগসহ বিনোদনের সব কলাকৌশলই এখন তাদের হাতের মুঠোয় এসে গেছে। শহরের মানুষরা নানা কাজে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন গ্রামের মানুষদের চেয়ে। গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব বয়সি মানুষ এখন মোবাইল আর টিভি নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটায় দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে। আগে রাতে ঘুমাত সন্ধ্যার পরে, এখন ঘুমাতে যায় ১০-১১টার পরে। ইতোমধ্যে ডিশ লাইনও চালু হয়ে গেছে বেশিরভাগ জায়গায়। আগে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে শুধু বিটিভির অনুষ্ঠান দেখত। এখন দেখছি প্রায় ঘরেই চলছে বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠান। তবে একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, সন্ধ্যার পরে প্রায় সব টিভিতেই চালু হয়ে যায় ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল। ছেলে, বুড়ো, তরুণ-তরুণী, এমনকি সব বয়সি মহিলারা সমানে আসক্ত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন সিরিয়ালে। সেসব সিরিয়ালের কাহিনিতে যুক্তিহীনতার অভাব নেই, আর পাত্রপাত্রীদের নাম, সব তাদের মুখস্থ। দিনের বেলা বন্দর এলাকার দোকানপাট আর অনেক বাড়িতে আমাদের দেশীয় বিভিন্ন প্যানেলের অনুষ্ঠান চলে। কিন্তু তা দেখতে গিয়ে অনেককেই বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখেছি বিজ্ঞাপনের কারণে। অথচ ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালে যে আধঘণ্টা সময়ের প্রায় দশ মিনিটই অন্য সিরিয়ালের প্রোমো আর বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীর বিজ্ঞাপনে নিয়ে নেয়, সে বিষয়ে কাউকে খুব একটা বিরক্ত হতে দেখি না। তাহলে বোঝা যায়, তাদের ওই প্রোমো আর বিজ্ঞাপনও দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখতে খুব খারাপ লাগে না। তাহলে আমরা বিজ্ঞাপনও কি মান ও রুচিসম্মতভাবে দেখাতে পারছি না?
আমাদের এখন সাতাশটারও বেশি টিভি চ্যানেল চালু আছে, আরও আসছে। বিশেষ করে, দুই ঈদে প্রচুর নাটক আর সিনেমা দেখানো হয় এসব চ্যানেলে। দেখানো হয় নানারকম অনুষ্ঠান। কিন্তু প্রতিবছরই সামান্য কিছু বাদে বেশিরভাগ নাটক আর অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই এসব নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন। কখনও কখনও টকশোতে আলোচনা-সমালোচনা করেন সংস্কৃতিজন আর বুদ্ধিজীবীরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই কি হয়? মনে হয় না। না হলে ধীরে ধীরে কেন আমরা মান ও রুচিহীনতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, আমাদের কী নেই? যার কারণে আমাদের সিনেমা, নাটকসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলো এমন দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে? এই ব্যর্থতার উৎস খোঁজা জরুরি বলেই মনে করেন অভিজ্ঞজনরা। দিনের পর দিন চলছে একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি। যার কাছেই এ ব্যাপারে প্রশ্ন করি, সবাই বলে, এগুলো বলতে গেলে, নাটকই নয়, অহেতুক ভাড়ামি আর হেতুহীন সংলাপের জগাখিচুড়ি। শুধু শুধু সময় নষ্ট হয় বিজ্ঞাপনের পর বিজ্ঞাপন দেখে। কিছু পরে এমনিতেই ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। এর কারণও আছে, একটা নাটকের জন্য যদি ১৫-২০টা কোম্পানির ধারাবাহিক বিজ্ঞাপন দেখতে হয়, তাহলে কোনো দর্শকের না পালিয়ে উপায় আছে? আর আমাদের নাটকগুলোর বেশিরভাগের কাহিনি কী নিয়ে? পটভ‚মি কী? অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মেকআপ গেটআপ আর পোশাক পরিচ্ছদ কেমন? এসব নিয়ে বিস্তারিত বলার কি প্রয়োজন আছে? এসব নিয়ে আমরা কেমন করে চ্যালেঞ্জ করব বিদেশি চ্যানেলের নাটক আর অনুষ্ঠানকে!
এসব প্রশ্ন আর অভিযোগ সম্পর্কে কোনো কোনো চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং নির্মাতাদেরও কিছু বারোয়ারি বক্তব্য আছে, যেমন প্রধান সমস্যা অর্থের। তারপরে আছে তেমন মাপের শিল্পীর অভাব, প্রয়োজনীয় করিগরি সহায়তার অভাবসহ অভিজ্ঞ কলাকুশলী সংকট ইত্যাদি। বলার সময় যেন অভাবের শেষ থাকে না। কিছুদিন আসে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখেছিলাম আমাদের দেশের শিল্পীদের কাজ কমে যাচ্ছে। তাদের অনেকের হাতেই সিনেমা বা নাটকের নিয়মিত কোনো কাজ নেই তাই তারা ‘স্টেজ শো’তে ঝুঁকেছেন। এদের মধ্যে দুয়েকজন শুধু কোলকাতার কোনো ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাও নিয়মিত কিছু নয়।
এসব জানার পরে মনে মনে কিছু শঙ্কাতো জাগেই। তাহলে আমাদের ভবিষৎ কী? এ প্রশ্নের উত্তর কোথায় কার কাছে পাওয়া যাবে? এতগুলো টিভি চ্যানেল আমাদের, তাদের অবস্থাও নাকি ভালো নয়। অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করে চালু করা হয়েছে এসব চ্যানেল। আরও কী সব দিক থেকে দায়মুক্ত হয়ে বসে আছে। আমাদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির উন্নয়নে তারা কি কোন ভ‚মিকাই রাখবেন না?
বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল কর্মকর্তাদের হা-হুতাশ কমে না। কথা একটাই অর্থসংকট। ফলে সর্বদাই কর্মীরা ছাঁটাইয়ের হুমকিতে থাকে। প্রশ্ন, তাহলে লোকসানি টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে যায় না কেন? তারপরে যারা থাকবে, বুঝব তাদের অর্থসংকট নেই। এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দেবে না। বারবার এক কথাই সবাই বলে, স্বাধীনতার আগে পরে আমাদের বিশেষ করে নাটকের অবস্থা তো এমন ছিল না। তা মঞ্চ, টিভি বা বেতার যার কথাই বলা হোক না কেন। স্বাধীনতার পরে আমরা দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে পেয়েছিলাম আবদুল্লাহ আল মামুন, মামুনুর রশিদ, আফজাল হোসেন, কেরামত মাওলা, আতাউর রহমান, হুমায়ুন ফরীদি, ফেরদৌসী মজুমদার, আলী যাকের, সেলিম আল দীনসহ আরও অনেককে। এদের মধ্যে এখন অনেকেই নেই, যারা আছেন তারাও খুব সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারছেন না নানা কারণে। বয়েসের ব্যাপারটা তো আছেই। তখনকার সময় তো নাটক, সিনেমা বা
সংস্কৃতির কোনো ক্ষেত্রেই এত দৈন্যদশা ছিল না। তবে কি ধরে নিতে হবে যত দিন যাচ্ছে, যত আমরা আধুনিক হচ্ছি, ডিজিটালাইজড হচ্ছি ততই নামছি নিচের দিকে? এ প্রজন্মের মানুষ তবে ওপরে উঠবে কবে? হুমায়ূন আহমেদ, আতিকুল হক চৌধুরী, বেগম মমতাজ হোসেনের সেসব সাড়া জাগানো টিভি নাটক আসলে আমাদের বোধ হয় কিছ্ ুশেখাতে পারেনি।
অন্য দিকে, আমাদের এই ডিজিটাল বাংলাদেশে সবার চোখের সামনে আরও কিছু অবাক করা ঘটনা ঘটে চলেছে। মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক আর ইউটিউব। এখন দেখি নতুন পুরনো কিছু নাট্যনির্মাতা তাদের অখাদ্য কুখাদ্য নাটক! ঢুকিয়ে দিচ্ছেন ইউটিউবে। যার মধ্যে বেশিরভাগই এক কথায় অশ্লীল। এর পাশাপাশি কিছু আগে থেকেই শুরু হয়েছে ভিউ বাড়ানোর চাপ। এই চাপে অশ্লীলতার বোধহয় চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে আমাদের নাটক। কিছু নাটকের নাম শুনলেই বোঝা যাবে তার মাজেজা। যেমনÑ ছ্যাক খেয়ে বেকা, প্লেবয়, সেন্ড মি নুডস, চ্যাতা কাশেম-২, সেই রকম বাকি খোর, বেডসিন, লেডিকিলার, ড্যাশিং গার্লফেন্ড, ক্রেজি লাভার, সেলিব্রেটি কাউ, ম্যানেজ মকবুল ইত্যাদি। আরও অনেক আছে। এই ধরনের নাটক যারা বানাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য কী? লাখ লাখ ভিউয়ার জোগার করে। এসব ভিউয়ার কারা? আধাশিক্ষিত রুচিহীন কম ও মাঝবয়সি মানুষরা তো, বেশিরভাগই বিশাল গ্রামাঞ্চলের। অভিনেতা, নাট্যকার মামুনুর রশীদ পরিষ্কার বলেছেন, ইদানীং বেশিরভাগ নাটকের যে ধরনের নাম দেওয়া হয়, এগুলো অসভ্য লোকের কাজ। নাটকের নাম দেখেই বোঝা যায়, ভেতরে কী আছে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, আমাদের এই সময়ের সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রবণতা, সংকট আরও বাড়াবে বৈ কমাবে না। বন্ধ্যাত্ব প্রকট হবে। এত লোক নাটকের কথা সিনেমা বা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এই অবক্ষয়ের মাত্রা আরও বেশি বলে মনে করে অনেকে।
পেছনের কথা থাক। ষাটের দশকের বেশ কিছু ভালো ছবি নির্মিত হয়েছিল এদেশে সালাহ উদ্দিন, খান আতাউর রহমান, কালাম শরাফী, আর জহির রায়হানের পরিচালনায়। সত্তর দশকের শুরুতেই জহির রায়হান নির্মাণ করেছিলেন জীবন থেকে নেয়ার মতো ছবি। স্বাধীনতার পরপরই তার সঙ্গে যুক্ত হন আলমগীর কবিরের মতো আধুনিক চলচ্চিত্রকার। তৈরি হয়েছিল স্টপ জেনোসাইড। যদ্দুর মনে পড়ে, ’৭১ সালেই এদেশে মুক্তি পেয়েছিল ৮টি ছবি। সুস্থ ধারার ছবির জয়জয়কার ছিল ২০০৩ সাল পর্যন্ত। এই সময়কালে প্রচুর দর্শকনন্দিত ছবি নির্মিত হয়েছে। আমরা ’৭২ সালে পেয়েছি কিংবদন্তিপ্রায় চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম এবং ’৭৬ সালে রাজেন তরফদারের পালঙ্ক নামের দুটি বিখ্যাত ছবি অন্যান্য ছবির সঙ্গে।
স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের চলচ্চিত্র জগতে সুস্থ ও সৃজনশীল ধারার চলচ্চিত্রকার হিসেবে এখনও যাদের নাম মানুষ মনে রেখেছে তাদের মধ্যে আছেন জহির রায়হান, আলমগীর কবির, খান আতাউর রহমান, সুভাষ দত্ত, নারায়ণ ঘোষ মিতা, আমজাদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৈয়দ সালাহ উদ্দিন জাকী, চাষী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদ, তারেক মাসুদ, নাসিরুদ্দীন ইউসুফ প্রমুখ চলচ্চিত্র নির্মাতা। এদের ছবি মুক্তি পেলে তো সিনেমা হল দর্শকশূন্য থাকত না। পরবর্তীকালে কেন এমন হলো? কেন দেশব্যাপী হাজার দেড়েক সিনেমা হল ক্রমশ বন্ধ হতে হতে এখন শখানেক হয়ে গেল। এখন বছরে কয়টা ছবি মুক্তি পায়? তাহলে শিল্পীদের দুরবস্থা ঠেকাবে কে? শেষ কথা একটাই, কালো টাকার বাণিজ্য যারা করে তাদের কাছ থেকে সুস্থ সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাণ কখনও হবে না। তাদের হাত থেকে বাঁচবে না আমাদের সংস্কৃতি।

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]