ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কয়ার বাঘা যতীন : অগ্নিযুগের মহানায়ক
ড. রকিবুল হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিপ্লবী বাঘা যতীনের ১০৪তম মৃত্যুবার্ষিকী ১০ সেপ্টেম্বর। অগ্নিযুগের এই নান্দীকারের জন্ম বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে, মাতুলালয়ে; ৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ সালে। পৈতৃকনিবাস ঝিনাইদহের সাধুহাটীর রিশখালি গ্রামে। তার বাবা উমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। মা শরৎশশী দেবী সে সময়ের সুপ্রশংসিত কবি। তার মামা প্রখ্যাত আইনজীবী বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায় নদীয়ার সরকারি উকিল, কৃষ্ণনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও জেলা বোর্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন। আইনের অধ্যাপক হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল। বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নদীয়ার মহারাজা, মেদিনীপুর জমিদারি কোম্পানির রামগোপাল চেংলাঙ্গিয়ার মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরা তার মক্কেল ছিলেন।
ছোটমামা ললিতকুমার চট্টোপাধ্যায় সুসাহিত্যিক ছিলেন। স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। মাতৃসম সহোদরা বিনোদবালা বাঘা যতীনের বিপ্লবী-মানসকাঠামো তৈরিতে অসাধারণ ভ‚মিকা রেখেছিলেন।
ব্রিটিশ-শাসিত ভারতবর্ষের অগ্নিযুগের মহানায়ক বাঘা যতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ১৮৭৯-১৯১৫) দেশ-কালের ঊর্ধ্বে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত এক ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। একশ চল্লিশ বছর আগে জন্ম নেওয়া বাঙালি এই বিপ্লবী ভবিষ্যৎ-বাঙালির জন্য যে ইতিহাস রচনা করে গেছেন তা বাঙালি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার আমাদের একটি বড় জায়গা। বর্তমান প্রজন্ম সবসময়ই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে নিজস্ব মূল্যবোধ তৈরি করে নেয়। এই মূল্যবোধ তৈরিতে বাঘা যতীনেরা সবকালের দেশপ্রেমের আলোকচ্ছটায় হীরকদ্যুতির ন্যায় উজ্জ্বল।
অগ্নিযুগের মহানায়ক বাঘা যতীন গোটা ভারতবর্ষের মানুষকে সর্বপ্রকারে মুক্ত করে রাষ্ট্র ও সমাজের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে অর্থনৈতিক শ্রেণিবৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যেই তিনি বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে যুগান্তর দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসম সাহসিকতায় নতুন আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন। বিদেশি সব ধরনের পণ্য পরিত্যাগ করার প্রত্যয়ে ‘ছাত্রভান্ডার’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বদেশি পণ্য বিক্রয় করা হতো ছাত্রভান্ডারে। এ চেতনা থেকেই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ছাত্রভান্ডারের অর্থেই তখন যুগান্তর প্রকাশিত হতো। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মোহিনী মিল এ চেতনা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাঘা যতীনের নানামাত্রিক আন্দোলন কৌশল ও দূরদর্শিতাগুণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। আর তিনি হয়ে ওঠেন সর্বভারতীয় নেতা এবং সম্ভবত তিনিই ভারতের সর্বপ্রথম আধুনিক জাতীয়তাবাদী নেতা।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নিজেকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভ‚মিকা রেখেছিল তার পারিবারিক আবহ। তার বিখ্যাত মামারাও ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী চেতনায় উজ্জ্বলতর ব্যক্তিত্ব। তাদের মানস-স্বরূপের পুরোটা যেন ধারণ করে নিজেকে গড়ে তোলেন এই বিপ্লবী। আর মামারাও অভিভ‚ত হন বাঘা যতীনের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও নানামাত্রিক কর্মকাÐে। অচেনা এক বৃদ্ধা মহিলার মাথা থেকে ধানের বোঝা নিজের মাথায় বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া, একা লড়াই করে সামান্য একটা ভোজালির সাহায্যে বাঘ হত্যা করা, দুরন্ত পাগলা ঘোড়াকে বশীকরণের মাধ্যমে শিশুর জীবন রক্ষা, বাঙালি মেয়েদের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটায় ব্রিটিশ রাজপুত্রকে ঠাস ঠাস করে চড় মারা, শিলিগুঁড়ি স্টেশনে উচ্চপদস্থ ইংরেজ সামরিক কর্মচারীদের একাই পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়াÑ এ রকম অসংখ্য ঘটনার নায়ক তিনি। এসব ঘটনা তার জীবনে যুক্ত না হলেও তিনি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের মহানায়ক হিসেবে অভিহিত হতেন। ভারতবর্ষকে পরাধীনতার শেকল ভেঙে মুক্ত করার জন্য সংঘবদ্ধভাবে তার সশস্ত্র যে বিপ্লবী প্রচেষ্টা ও প্রত্যয়, সেখানে তিনি অর্জন করে নেন অসাধারণত্ব। গোটা ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী নতুন এক বিপ্লবযাত্রা শুরু হয় তার মাধ্যমে।
ব্রিটিশদের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কে পরিণত হন বাঘা যতীন। এক অজপাড়াগাঁ থেকে গড়ে ওঠেন এ বিপ্লবী। বিপ্লবীর আদর্শের দীক্ষাটাও সেখান থেকেই গ্রহণ করা। সেখান থেকেই তার সংযুক্তি ঘটে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে। তবে কোনো নেতৃত্বের দৌলতে তিনি বিপ্লবী হয়ে ওঠেননি। তার দীপ্র কর্মগুণ, প্রচÐ সাংগঠনিক ক্ষমতা আর দেশ-মানুষের জন্য নিবেদনই একাগ্রতা পর্যায়ে যেমন তিনি আসীন হন, তেমনি অন্যতম হয়ে ওঠেন। যেখানে অনেকের প্রভাব তিনি ধারণ করেন তেমনি নিজেও স্বীয় আচরণে প্রতিষ্ঠিত হন।
বাঘা যতীন বুঝেছিলেন সশস্ত্র বিপ্লব ছাড়া ভারতবর্ষ স্বাধীন করা সম্ভব নয়। কারণ ব্রিটিশ শাসকেরা এ দেশে তাদের আধিপত্য স্থায়ীভাবে কায়েম করার জন্য নানা অপকৌশল গ্রহণ করে। বঙ্গভঙ্গ ও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে তারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। কংগ্রেসের কর্মক্ষমতাকেও আংশিক করে তুলতে নানাবিধ চেষ্টা চালায় ব্রিটিশ শাসক। যাতে তাদের আধিপত্য চিরস্থায়ী রূপ নিতে পারে ভারতবর্ষে। বাঘা যতীনেরা ব্রিটিশ শাসকের এ স্বপ্নবিলাস বাস্তবায়নে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ান। কারণ তারা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের রক্তাক্ত পথটিই বেছে নেন। তারা এও বুঝেছিলেন, এ দেশকে ব্রিটিশ কবল থেকে মুক্ত করতে বিদেশি শক্তির সাহায্য প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই বাঘা যতীন এমএন রায়কে নিয়ে জার্মানের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের সাহায্য কামনা করেন। জার্মান ভারতকে ব্রিটিশমুক্ত করার জন্য সব ধরনের সাহায্যের প্রতিশ্রæতিবদ্ধ হয়। এ লক্ষ্যে জার্মান কার্যকরী উদ্যোগও গ্রহণ করে। অস্ত্র-গোলাবারুদ আর অর্থ সাহায্য দিয়ে ম্যাভেরিক, অ্যানি লারসেন ও হেনরি এস জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জার্মান।
ম্যাভেরিকের রওয়ানার খবরভিত্তিতে বাঘা যতীন বালেশ^রের দিকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এ খবরটি ব্রিটিশ বাহিনী জানতে পারায় বাঘা যতীনের বিশাল কর্মপরিকল্পনা নতুন সূর্যোদয় থেকে ছিটকে পড়ে। বাঘা যতীনকে মুখোমুখি হতে হয় অপরিকল্পিত এক যুদ্ধের। যে যুদ্ধ বালেশ^রের যুদ্ধ হিসেবে খ্যাত। বাঘা যতীন ইচ্ছে করলে নিজেকে রক্ষা করার জন্য এ যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে পারতেন। তিনি তা করেননি। তিনি তার চার কিশোর সহযোদ্ধা মাদারীপুরের চিত্তপ্রিয় (১৮৯৪-১৯১৫), মনোরঞ্জন (১৮৯৮-১৯১৫), নীরেন (১৮৯২Ñ১৯১৫) এবং কুষ্টিয়ার জ্যোতিষকে নিয়ে বিশাল ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে অসম সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন। বাঘা যতীন জানতেন এ যুদ্ধে মৃত্যু অনিবার্য। তার সহযোদ্ধারা তাকে দেশের স্বার্থে পালিয়ে মহামূল্যমান জীবনটি রক্ষার অনুরোধ জানালে, তিনি তা তীব্রতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে মরণযুদ্ধে লিপ্ত হন। এ যুদ্ধ ছিল অভিনব ও অপরিকল্পিত এবং ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ সম্মুখযুদ্ধ।
বালেশ^রের যুদ্ধ যদি ব্যর্থ না হতো অথবা এই যুদ্ধ যদি পরিকল্পনামাফিক সংঘটিত হতো, তিনি জার্মানদের সহযোগিতায় সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে যেভাবে দেশ স্বাধীন করার প্রত্যয় ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছিলেন, তা বাস্তবায়িত হলে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা হতে পারত অন্যভাবে, যা হতে পারত বাঘা যতীননির্ভর। বাঘা যতীন অধ্যায় বালেশ^রের কাপ্তিপোদায় শেষ হলেও তার আন্দোলনের ভয়াবহ অগ্নি ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতবর্ষে। তার বিপ্লব-আদর্শকে ধারণ করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হতে থাকে একের পর এক সংঘবদ্ধ সশস্ত্র আক্রমণ। ১৯১৭ সালে পাবনার তেলিজানা গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বিপ্লবীদের সশস্ত্র আক্রমণ, ১৯১৮ সালে গৌহাটিতে বিপ্লবীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ১৯৩০ সালে সূর্যসেনের (১৮৯৪-১৯৩৪) নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার আক্রমণ, একই বছরের ব্রিটিশ সরকারের আস্তানা রাটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেন বিনয় (১৯০৮Ñ৩০), বাদল (১৯১২Ñ৩০) ও দীনেশ (১৯১১Ñ৩১), পাহাড়তলী ইউরোপীয়ন ক্লাবে ১৯৩২ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর সংঘবদ্ধ আক্রমণ করেন প্রীতিলতা (১৯১১Ñ৩২)। এসব আক্রমণ সংঘটিত হয়েছিল বাঘা যতীনের সংঘবদ্ধ যুদ্ধ-প্রেরণায়। কাপ্তিপোদার যুদ্ধের ছাব্বিশ বছর পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বাঘা যতীনের বিপ্লবী কর্মসূচি প্রায় হুবহু অনুসরণ করেছিলেন। তবে তিনি এ কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারিত করেছিলেন। বাঘা যতীনের মৃত্যুর পরও তার বিপ্লবী কর্মসূচি এভাবেই অগ্নিবারুদের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা ভারতবর্ষে। তার দেখানো পথেই স্বাধীনতার জয়তিলক ললাটে
পরে ভারতবর্ষ।
বাঘা যতীনের অন্যতম সহকর্মী এমএন রায়, যিনি লেনিনের সান্নিধ্য-ধন্য বলে গোটা বিশে^ পরিচিত। তিনি তার প্রথম রাজনৈতিক গুরু বাঘা যতীন সম্পর্কে বলেছেন, ‘সান ইয়া-সেন, লেনিন, ট্রটস্কি এরা সবাই মহামানব; যতীনদা ছিলেন ভালো মানুষ এবং তার চেয়ে ভালোমানুষ আমি এখনও খুঁজে পাইনি।... কোনো একটি যুগের গÐিতে বাঁধা যায় না যতীনদাকে, তার অন্তরের মূল্যবোধ ছিল ষোলো আনাই মানবীয় এবং ফলত দেশ-কালের সীমানার ঊর্ধ্বে।’ রবীন্দ্রনাথ শোকাহত হৃদয়ে পরাধীন ভারতে বাঘা যতীনের মৃত্যুকে ছোট নয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। বিদ্রোহী কবি নজরুল বালেশ^রের যুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন ‘নব-ভারতের হলদিঘাট’ শিরোনামে বিখ্যাত কবিতা। এ কবিতার জন্য বিদ্রোহী কবিকে জেল খাটতে হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছিল এ কবিতা অন্তর্ভুক্ত কাব্য ‘প্রলয়শিখা’। বাঘা যতীনকে নিয়ে সে সময় বিভিন্ন দৈনিকে বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হতো। সেসব সম্পাদকীয়তে তাকে ভারত-স্বাধীনতার ‘পাইনিয়র’ হিসেবে অভিহিত করা হতো।
বাঘা যতীনের অবদানকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিপ্লবীর দৌহিত্র ড. পৃথ্বীন্দ্রনাথকে বলেছিলেন, ‘যে (বাঘা যতীন) আলোয় এতদূর এসেছি তাকে অভিবাদন জানাই তোমার মাধ্যমে’। বঙ্গবন্ধু এ বিপ্লবীর জন্মভিটা কুষ্টিয়ার কয়া গ্রামে ‘বাঘা যতীন মিলিটারি একাডেমি’ প্রতিষ্ঠারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অকালমৃত্যুর কারণে তার এ ঘোষণা আজও কোনো কার্যকরী রূপ লাভ করতে পারেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলোÑ যে ব্রিটিশ বাহিনী বাঘা যতীনকে হত্যা করার জন্য মরিয়া ছিল, সেই ব্রিটিশ বাহিনী প্রধান ট্রেগার্ট বাঘা যতীনের মৃত্যুতে তার অবিশ^াস্য দেশপ্রেমে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়ে শুধু নিজের মাথার ক্যাপ খুলেই সম্মান জানাননি, তিনি পরবর্তীতে বলেছিলেন, ‘যতীন মুখার্জি ইংরেজ হলে তার স্ট্যাচু ট্রাফাল স্কয়ারে তৈরি করে রাখা হতো পরবর্তী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করার জন্য।’
বাঘা যতীন কখনও ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র-স্বার্থকে গুরুত্ব দেননি। দেশের বৃহস্বার্থ ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড়। বাঘা যতীন যখন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য মৃত্যুকে নিত্যসঙ্গী করে দেশে-বিদেশে ঘুরছেন, বিপ্লব সংঘটিত করছেন, তখন তাকে অনেকেই তার স্ত্রী-সন্তানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। সেসব শুনে তিনি হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘সমষ্টির হিত কামনায় ব্যক্তিগত স্বার্থ উপেক্ষা করতে হবে।’ বাঘা যতীনের মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে যে দেশপ্রেম ছিল, তা সত্যিকার অর্থেই অবিশ^াস্যরকম ও বিস্ময়কর।
কথাশিল্পী, গবেষক, বিভাগীয় প্রধান
  বাংলা বিভাগ, নর্দান বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশ






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]