ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কারবালার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করা
মুফতি আমিন ইকবাল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মহররম একটি আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ ‘সম্মানিত’। এটি হিজরি বর্ষের প্রথম মাস। সম্মানিত এ মাসটি হিজরতের উৎসর্গিত আদর্শে লালিত প্রতিটি মুমিনের দৃষ্টিতে। এ মাসের দশ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। আশুরা শব্দটিও আরবি। বাংলা অর্থ দশম। আশুরা শুধু একটি দিবসের নামই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় দিন বলেও বিবেচিত। যা মুসলিম জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমÐিত। হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতবরণসহ ইসলামের ইতিহাসে এ দিনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য কাহিনি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে। থাকবে চিরদিন।
হিজরি ৬০ সালের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবীর দৌহিত্র হজরত হোসাইনকে (রা.) মর্মান্তিকভাবে শহীদ করার ঘটনাÑ সত্যিই প্রতিটি মুমিনের গা শিউরে ওঠার মতো। সেই রক্তক্ষয়ী বেদনাবিধুর হৃদয়বিদারক ঘটনা মুসলিম জাতির সর্বাধিক বিয়োগান্তুক ট্র্যাজেডির অন্যতম। বিশ^ মুসলিমের কাছে ঐতিহ্যমÐিত আশুরার দিনে অত্যাচারী ইয়াজিদ মানুষের জীবনের আনন্দকে হত্যা করতে চেয়েছিল। চেয়েছিল পবিত্রতাকে কলুষিত করতে। কিন্তু পাষাণ হৃদয়ের শিমারের খঞ্জর হজরত হোসাইন (রা.)-এর শিরচ্ছেদ করলেও মানুষের মহত্ত¡ আর মহানুবতাকে হত্যা করতে পারেনি। বরং হক-বাতিলের আমৃত্যু জিহাদ অব্যাহত রাখার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে কারবালার এ মর্মস্পর্শী ঘটনা। ত্যাগ ও তিতিক্ষার নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবীদৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)। সেদিন হকেরই বিজয় হয়েছিল। ফলে ইতিহাসের সোনালি পাতায় ভাস্মর হয়ে আছে হোসাইনী আদর্শ। তাই প্রতিবছর আশুরা আসে তরতাজা হয়ে।
পবিত্র আশুরার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এ কথা বুঝে আসে, আশুরা একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে বিষাদ ও বেদনার দিনও বটে। কিন্তু তাই বলে আমাদের সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এক শ্রেণির ইতিহাস অজ্ঞ বিদআতিরা এ দিনটিকে শুধু বিষাদ ও বেদনার দিন হিসেবেই জানে। তাদের মতে, রক্তঝরা মাতম করার নামই আশুরা। তারা আশুরা দিবসের প্রকৃত মর্যাদা, ফজিলত ও আসল মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে বিজাতীয় স্টাইলে কারবালা সংক্রান্ত নানা রুসুম-রেওয়াজের অবতরণা করে থাকে এদিনে। তাদের কর্মকাÐের কোনোটি বেদআতি, কোনোটি শিরিকি, কোনোটি কুফুরি পর্যায়ে হয়ে থাকে!
এ দিনে শিয়াদের মাতম মিছিলে প্রভাবিত হয়ে অনেক সাধারণ মুসলমানও মনে করেনÑ আশুরার মর্যাদা বুঝি হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করেই। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবেÑ রক্তঝরা বদনর‌্যালি দিয়ে মাতম করার দিন আশুরা নয়। আশুরা হচ্ছে শুকরিয়া আদায়ের দিন। রোজা-নামাজ, দান সদকা করার মাধ্যমে শহিদি আত্মার মাগফিরাত কামনার দিন। আশুরা আদর্শিক বিজয় আর শোককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তিতে রূপান্তরিত করার দিন। যে আদর্শ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কারবালার লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিলÑ সে আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করার শপথ গ্রহণের দিন আশুরা। এ জাতি যে বিশে^ সত্য-ন্যায়ের শাসন কায়েম করে নেতৃত্ব দিতে চেয়েছেÑতারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কারবালার ইতিহাস।
বিশ^ মুসলিম জাতির কাছে এ দিনের গুরুত্ব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে যেমন রয়েছেÑ রয়েছে ধর্মীয় দিক থেকেও। অতএব, মহানবীর উম্মত হিসেবে প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য হবে আশুরা দিবসের অনূচিত সব কুসংস্কার পরিত্যাগ করে নবী করিম (সা.) নির্দেশিত রোজা পালন আর দান-সদকা করার মাধ্যমে বরকতময় এদিনের সুফল লাভ করা। কবি বলেছেনÑ
‘ফিরে এলো আজ সেই মহররম মাহিনা
ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]