ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঝালকাঠিতে নতুন কৌশলে সক্রিয় মাদক কারবারিরা
চিহ্নিত ১০টি স্পটে হয় মাদক বেচা কেনা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:৩৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠিতে নতুন কৌশলে সক্রিয় মাদক কারবারিরা

ঝালকাঠিতে নতুন কৌশলে সক্রিয় মাদক কারবারিরা


ঝালকাঠির ১০ টি পয়েন্টে মাদক কারবারিরা সক্রিয় রয়েছে। নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ধুলো দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। নতুন কৌশল হিসেবে উঠতি বয়সী কিশোর/তরুণদের মাধ্যমে কখনও পাউরুটির আবার কখনো কলার মধ্যে করে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। আবার কচুরীপানা, ডোবা ও গাছের গোড়ার ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে ফেন্সিডিল ও গাঁজা। পয়েন্টসমূহ হলো পশ্চিম ঝালকাঠি, শেখ মুজিব সড়ক, বাসন্ডা ব্রীজের নীচে, কলেজ মোড়, বিশ্বরোড, কলাবাগান, সিটি পার্ক নতুন চর, কিস্তাকাঠি আবাসন, কৃষ্ণকাঠি ও সুতালড়ি। মাদকসেবী ও কারবারীদের ভাষায় এগুলো ডিপো বা এজেন্ট। এখান থেকে নিয়ে সাব ডিপো বা সাব এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন স্থান ব্যবহার করা হচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, দিন নেই, রাত নেই দেদার চলছে বেচাকেনা। খুচরা অথবা পাইকারি দুভাবেই নেয়া যায়। আর এতে জড়িত হচ্ছেন কারবারির স্ত্রী, কন্যা, ছেলে, দরিদ্র পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর বা তরুণ এবং রয়েছে অনুসারী কতিপয় পাইক পেয়াদাও। এক পিস অথবা দুই পিস ইয়াবা পলিথিনে মুড়িয়ে পাউরুটির মধ্যে ঢুকিয়ে অথবা কলা চাকু দিয়ে চিড়ে তার মধ্যে ঢুকিয়ে নিরাপদে পাচার কাজ চালানো হচ্ছে। ফেন্সিডিল বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে কচুরী পানার মধ্যে লুকিয়ে রেখে অথবা গাছের গোড়ায় থাকা ঝোপের মধ্যে একই পদ্ধতিতে লুকিয়ে রাখা হয়। বিভিন্ন পরিমাণে এসব স্থানে রাখা হয়। ক্রেতারা এলে বোতলের পরিমাণ অনুযায়ী বিক্রেতারা আগে টাকা নিয়ে পরে স্থান বলে দেন। ক্রেতা এদিক ওদিক তাকিয়ে সেখান থেকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করে। অপরদিকে গাঁজা পলিথিনে মুড়িয়ে রাস্তার থাকা শুকনো আবর্জনার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়। ফেন্সিডিল বিক্রয় পদ্ধতিতেই গাঁজাও বিক্রি করা হয়। ইয়াবা ও ফেন্সিডিল বিত্তশালী এবং মধ্যবিত্তশালীরা সেবন করে অপরদিকে গাঁজা সেবন করে শ্রমজীবী পেশায় নিয়োজিত মাদকসেবীরা।
 
বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা শেখ মুজিব সড়কটিতে বসবাস করছেন বিচারক, সাংবাদিক, ডাক্তার, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। শহরের প্রায় সবাই জানে এ সড়কে মাদক কারবারের কথা। অনেকের মতে এটি জেলার সর্ববৃহৎ ডিপো। কিন্তু কিছুই বলার নেই কারো। কারণ বললেই উল্টো বিভিন্নভাবে হেনস্তা হতে হবে। এ সড়কের মূল বিক্রেতা মাঝেমধ্যে আবার গ্রেফতারও হয়। তবে ধারা দুর্বলতায় ২-৪ দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। এভাবেই শেখ মুজিব সড়কসহ ঝালকাঠি জেলা শহরের ১০টি স্পটে বীরদর্পে চলছে মাদক বেচাকেনা। শহরটি যেন মাদককারবারিদের এক অভয়াশ্রম।

শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি, কলেজ মোড়, বিশ্বরোড কৃষ্ণকাঠি, সুতালড়ি, ঢাপর, শেখ মুজিব সড় এবং সিটি পার্ক এলাকায় মাদক কারবার করছেন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিরা। সাথে রয়েছে দু’একজন শ্রমিক নেতাও। কেউ এ কারবারে প্রতিবন্ধকতা করলে উল্টো তাকেই খেসারত দিতে হয়। হতে হয় মাদক কারবারিদের হাতে লাঞ্ছিত।
পুলিশ তৎপর থাকায় মূল হোতারা ধরা না পড়লেও তাদের অনুসারীরা প্রায়ই আটক হচ্ছে। প্রশ্রয়দাতারাই নেপথ্যে থেকে আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের করিয়ে আবার পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ব্যবসা।

অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠি জেলার শেখ মুজিব সড়কের মাদক বেচাকেনায় সর্ববৃহৎ ডিপোতে ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় হানা দেয় বরিশাল র‌্যাব-৮ একটি টিম। কিন্তু মূল বিক্রেতাকে খুঁজে না পেলেও তার স্ত্রী-কন্যাসহ পায় মাদকের বৃহৎ একটি মজুদ। সাময়িক আটক করা হয় তাদের। এরপরই শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ ও দেনদরবার। আসেন আড়ালে থাকা মূল পৃষ্ঠপোষক। মাদক উদ্ধার না থাকায় ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন ওই পৃষ্ঠ পোষক। এর কিছুদিন আগে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সদস্যরা শেখ মুজিব সড়কের মাদক কারবারিকে আটক করলে তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গোয়েন্দা সদস্যদের মারধর করে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ। এমনকি একটি ধর্ষণ মামলায় তিনি দীর্ঘদিন জেলও খেটেছেন বলে এলাকায় তার নাম ধর্ষক হিসেবে পরিচিত বলেও জানাগেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলার গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সদস্য বলেন, শেখ মুজিব সড়কে ৩০ জুলাইয়ের অভিযানে বিপুল মাদকসহ কয়েকজনকে আটক করা হলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা রফা হয়। তবে মূল অভিযুক্তকে তারা পায়নি। যদিও তিনি অভিযানের পূর্বের গভীররাত পর্যন্ত মাদক বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি তিনি বিএনপির এক সহযোগী সংগঠনের নেতা। ২০১৩ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর শহরে একমাত্র নির্বাচনী ক্যাম্প ছিল শেখ মুজিব সড়কের এই মাদক বিক্রেতার বাড়িটি। আবার এ বাড়িটিরও অধিকাংশ জমি তারা জোরদখল করে আছেন। প্রকৃত মালিকরা জমিতে এলেই নাজেহাল করায় সম্মানের ভয়ে তারা আসতে পারছেন না বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার বেগম ফাতিহা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। প্রায়ই মাদক সংশ্লিষ্টরা গ্রেফতার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নসহ আমি এলাকার সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোথায় কি হচ্ছে তা প্রায় সবকিছুই আমাদের নজরে আছে। এ ব্যাপারেও কাজ চলছে, সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।








 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]