ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডেঙ্গুতে চার জেলায় ৪ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক বেশি সফল : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বুধবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক স্কুলছাত্র মারা গেছে। আগের দিন মঙ্গলবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তিন নারীর মৃত্যু হয়। তবে সারা দেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রকোপ কমে এসেছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী উন্নত বিশে^র দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক বেশি সফল। কারণ আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই তুলনায় আমাদের সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসকেরা অনেক বেশি পরিশ্রম করে ভালো কাজ করেছেন এবং অনেক বেশি সফল হয়েছেন। গতকাল রাজধানীর গাবতলী কাঁচাবাজারে অবস্থিত সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে বেলারুশ থেকে আমদানি করা যানবাহন পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সময়ের ব্যবধানে ঢাকা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এটা বিচিত্র কিছু নয়। ঢাকা শহরের ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়ায় আমরা ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোধে কাজ করেছি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সারাবিশে^ জনসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। যে দেশগুলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিক দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করছে তারা এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর যে প্রাদুর্ভাব ছিল বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। আমাদের দুই সিটি করপোরেশন জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করেছে বলেই ডেঙ্গু কমেছে। এডিস মশার লার্ভা যেখানে জন্ম হয়েছে সেখানেই ধ্বংস করা হয়েছে। ঢাকা থেকে গ্রামে-গঞ্জে ডেঙ্গু মশার বিস্তার হতেই পারে। ডেঙ্গু রোধে এখন বছরব্যাপী কাজ করা হচ্ছে। এখন নভেম্বর-ডিসেম্বর নয় অথবা মার্চ-এপ্রিল নয়, সারা বছরই ডেঙ্গু রোধে কাজ করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ২৩০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১৯২টি মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ১০১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।
এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন-৪ ইউনিটের প্রধান অষিত ভ‚ষণ দাস জানান, ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩ বছর বয়সি ফরহাদ হোসেন জিহাদ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে মারা যায়। ফরহাদ বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরলক্ষীপুর গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় চরলক্ষীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। অষিত বলেন, জিহাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। কয়েকদিন আগে সে তার গ্রামের বাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রহিমা বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। সোমবার বিকালে তাকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। রহিমা সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আজরাইল গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী।
ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফাতেমা খাতুন (৫০) মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ডেঙ্গুজ্বরে এই হাসপাতালে সাতজনের মৃত্যু হলো। ফাতেমা খাতুন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হকের স্ত্রী।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এবিএম শামসুজ্জামান বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ফাতেমা খাতুনকে এ হাসপাতালের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৭ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।
ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মিনা খাতুন (২১) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত গৃহবধূ মিনা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার কাজিহাটা গ্রামের আবু রাইহানের স্ত্রী।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]