ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা চলছেই
উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করুন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা সম্প্রতি বেড়েছে। যার খবর আসছে প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে। বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুরা নির্যাতিত হচ্ছে। দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মারা গেছে ১৬ শিশু। এ ছাড়াও অন্তত ৪৯ শিশু (৪৭ মেয়ে শিশু ও ২ ছেলে শিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৩৫৬। তাদের মাঝে মারা গিয়েছিল ২২ জন। অন্য একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮১৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মাঝে ১০৪টি ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪৭ জনকে এবং আত্মহত্যা করে ১১ জন। বছরওয়ারি এই যে হিসাব, যা তৈরি হয়েছে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনের মাধ্যমে। প্রকৃত সংখ্যা যে এর চেয়ে অনেক বেশি তা সহজেই অনুমেয়। কারণ এখনও পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের সব খবর গণমাধ্যমে আসে না। অনেক ঘটনায় মামলা হয় না। স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় অনেক নির্যাতনের ঘটনা। ফলে সেগুলো থেকে যায় পরিসংখ্যানের বাইরে।
নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের নির্যাতনের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে ও কঠোর শাস্তির বিধানসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে জনস্বার্থে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ওই বছরের জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে ওই রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট প্রস্তাবিত নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০(ক) ধারায় কিছু পরিবর্তন এনে এতে অ্যান্টি স্টকিং ল’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদেশ দেন। এ ছাড়া ভিকটিম প্রটেকশন আইন করতে ও দেশের সব থানায় এ সংক্রান্ত পৃথক সেল গঠনের জন্যও নির্দেশনা দেন। জনস্বার্থে করা রিটের রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেছিলেন, ‘শুধু পাবলিক প্লেসে নয়, সব ধরনের যানবাহন, বাসাবাড়ি ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যৌন হয়রানির ব্যাপারে দ্রæত ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দেশের প্রতিটি সাইবার ক্যাফেতে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে ও যারা ব্যবহার করবেন তাদের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো সাইবার ক্যাফে চলবে না। যৌন হয়রানির ব্যাপারে প্রতিটি থানায় একটি আলাদা সেল গঠন করতে হবে, যারা প্রতিমাসে সংশ্লিষ্ট এসপি ও পুলিশ কমিশনারের কাছে রিপোর্ট করবে। প্রতিটি জেলায় এ সংক্রান্ত একটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি গঠন করতে হবে, যার সদস্য হবেন মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সিভিল সোসাইটি এবং মহিলা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন এনজিওর সদস্যরা। ভিকটিম অ্যান্ড উইটনেস প্রটেকশন আইন দ্রæত পাস করতে হবে। এ আইন না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌন হয়রানির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। হাইকোর্টের রায়ের পরে পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। অথচ হাইকোর্টের সেই নির্দেশনার অধিকাংশই এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা আগেও ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমে যে হারে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে তা রীতিমতো আতঙ্কের। এতে করে অনুমিত হয়, নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা খুবই প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ আমাদের দেশে নারী নির্যাতন রোধে রয়েছে আইন, যা অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীর দ্রæত বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। তারপরও অভিযোগ রয়েছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়া প্রায়ই বিলম্বিত হওয়ার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমেই নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আইনের যথাযথ প্রয়োগ এ ক্ষেত্রে যেমন জরুরি, তেমনিভাবে আমরা প্রত্যাশা করি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে হাইকোর্টের সব নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন। হাইকোর্টের নির্দেশনা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রæত হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। নারীর প্রতি সহিংসতা যেকোনো মূল্যে রোধ করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]