ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা পাপ
মাহদী হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

 আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা অনেক বড় গুনাহের কাজ। এর ফলে পারস্পরিক বন্ধন নষ্ট হয়, বংশীয় সম্পর্ক ক্ষুণœ হয়, শত্রæতা ও বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়। এটা পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, হৃদ্যতা ও ভালোবাসা দূর করে, অভিশাপ ও শাস্তি ত্বরান্বিত করে এবং মনে চিন্তা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। পবিত্র কোরআনে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদেরকে লানত করেন এবং করেন বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন।’ (সুরা মুহাম্মদ : ২২-২৩)। অন্যত্র বলেন, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং মন্দ আবাসস্থল।’ (সুরা রাদ : ১৩/২৫)
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ফাসেকদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মূলত তিনি ফাসেকদের ব্যতীত অন্য কাউকে বিভ্রান্ত করেন না। যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণœ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা : ২৬-২৭)
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে পরকালে কঠোর শাস্তি তো রয়েছেই, দুনিয়াতেও তাদের দ্রæত শাস্তি হবে। হজরত আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বিদ্রোহী ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর ন্যায় অন্য কাউকে পৃথিবীতে দ্রæত শাস্তি দেওয়ার পরও পরকালীন শাস্তিও তার জন্য জমা করে রাখেননি।’ (আবু দাউদ : ৪৯০২; তিরমিজি : ২৫১১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন এবং বিদ্রোহের মতো দুনিয়াতেই দ্রæত শাস্তির উপযুক্ত আর কোনো পাপ নেই। পরকালে তার জন্য যে শাস্তি সঞ্চিত রাখা হবে, তা তো আছেই।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৬৭)
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে মহান আল্লাহ তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমিই রহমান দয়ালু, আমি আমার নাম ‘রহমান’ থেকেই ‘রাহিম’ (আত্মীয়তার বন্ধন)-এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে, আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব এবং যে তা ছিন্ন করবে, আমি তাকে আমার থেকে ছিন্ন করব।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ : ৫৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি : ৫৯৮৪; মুসলিম : ২৫৫৬)। তিনি আরও বলেন, ‘জান্নাতে প্রবেশ করবে না মদ পানকারী, জাদুতে বিশ^াসী ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী।’ (আল-জামেউস সাহিহ : ৬৭৮)। এই হাদিসের মাধ্যমে নবীজি (সা.) ধমকের সুরে বুঝাতে চাইছেন যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ভয়ানক অপরাধ। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা চাই সবার। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]