ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গার্মেন্টস খাতে চাপা কষ্ট
দ্রুত সংকট সমাধান জরুরি
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৯.২০১৯ ১১:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে পোশাক শিল্প। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় একটি অংশই আসে পোশাক রফতানির মাধ্যমে। আশির দশকের শেষদিকে আমাদের দেশে এই শিল্পের প্রসার ঘটে। এরপর নানা চড়াই উতরাই পার হয়ে শিল্পটি একদিকে যেমন তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে, তেমনিভাবে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখছে। পোশাক শিল্পের এই অগ্রযাত্রা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের পথেও রেখেছে উল্লেখযোগ্য অবদান। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, ১৯৮২ সালে যেখানে আমাদের পোশাক কারখানার সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৭টি, সেই সংখ্যাটিই
১৯৮৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮৭টিতে। ১৯৯৯ সালে সংখ্যাটি পৌঁছায় ২৯০০-এ। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ বিশ^ পোশাক বাজারে রফতানিকারক দেশ হিসেবে দ্বাদশ স্থান দখল করে।
দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে বছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় আসছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আমাদের রফতানি বাণিজ্য ক্রমশ চাঙ্গা হচ্ছে পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করেই। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে। তাদের শ্রমে-ঘামে উৎপাদিত পোশাক রফতানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক অর্থ আয় করছি। যা আমাদের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে বড় ভ‚মিকা রাখছে। আর এই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়েই আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পোশাক রফতানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বিজিএমইএ। উচ্চাভিলাষী হলেও এই লক্ষ্যমাত্রা যে আমাদের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই লক্ষ্যমাত্রাকে ধরেই যখন আমাদের পোশাক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে, তখন নানামুখী নেতিবাচক খবরও এসে ভর করছে এ শিল্পের ওপর। নেতিবাচক প্রবণতা সম্পর্কে দৈনিক সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, নানা কারণে বর্তমানে গার্মেন্টস মালিক এবং শ্রমিকদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা কষ্ট। অনেক পোশাক শিল্প মালিকেরই আর কারখানা চালানোর সামর্থ্য নেই। ফলে তারা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগের কারখানা। কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বেকার হচ্ছে কারখানা শ্রমিক। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে বন্ধ হয়েছে ৯২ পোশাক কারখানা। এর মাঝে রয়েছে ঢাকা ও এর আশপাশের ৫২টি এবং চট্টগ্রামের ৪০টি প্রতিষ্ঠান। গড়ে এসব কারখানার একেকটিতে কাজ করত ৮০০ শ্রমিক। সে হিসাবে মাত্র পাঁচ মাসে ঢাকা ও আশপাশে বেকার হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার শ্রমিক এবং চট্টগ্রামে ৩২ হাজার শ্রমিক। সব মিলিয়ে পাঁচ মাসে পোশাক খাতে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা ৭৪ হাজার। চাকরিহারা এই শ্রমিকরা পাওনা টাকার জন্য নামছে আন্দোলনে। কারখানা বন্ধের পেছনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে কারাখানার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারাকেই প্রধান হিসেবে দেখানো হয়েছে। একদিকে যেমন কারখানায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তেমনিভাবে পাল্লা দিয়ে কমছে পোশাকের দর এবং বিশ^বাজারে পোশাকের চাহিদা। এ ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের সংস্কার কাজের জন্যও গড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি মানের কারখানাগুলোর সংস্কার ব্যয় গড়ে ২ কোটি টাকার মতো হলেও তাদের জন্য এ ব্যয় নির্বাহ অনেক কঠিন। ফলে তুলনামূলকভাবে ছোট-মাঝারি মানের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের শ্রমবাজারেও।
আমাদের পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছে। অনেক চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে গত কয়েক দশকে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে যেমন পোশাক শিল্প খাত অবদান রাখছে, তেমনি দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও এ শিল্প বড় ভ‚মিকা রাখছে। তাই যেকোনো মূল্যে আমাদের পোশাক শিল্প খাতকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল রাখতে পোশাক শিল্প খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে এ খাতের শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]