ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সময়ের জানালা
কিশোর গ্যাং প্রয়োজন পরিবারের ভূমিকা
সাঈদ চৌধুরী
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৯.২০১৯ ১১:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

সর্বশেষ মোহাম্মদপুরের কিশোর মহসিন হত্যা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের কিশোররাই হত্যা করে এই কিশোরকে! সাধারণত দেখা যাচ্ছে কিশোর গ্যাংগুলো একেকটি প্রভাবশালী দল হয়ে ওঠার জন্য এক হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে তারা ভয়ানক কার্যক্রম ঘটাচ্ছে। এমনিতেই যেভাবে অপরাধ বাড়ছে তার মধ্যে আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়টিও খুব বেশি উদ্বেগ ছড়াবে তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট। একেকটি খুন শুধুই কি একটি খুন? এর সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় কিন্তু সামনে এসে যাচ্ছে! কীভাবে কিশোররা খুনি হয়ে উঠছে, কীভাবে তাদের হাতে নেশা আসছে, তারা দিনের পর দিন স্কুলে যাচ্ছে না, কীভাবে বা কারা তাদের ব্যবহার করছে এবং কীভাবে কিশোরদের মনে ঢুকে যাচ্ছে অশ্লীলতা, খারাপ আচরণ এবং মানুষের প্রতি বিধ্বংসী ভাব এগুলো কিন্তু আজ আমাদের আতঙ্কের বিষয়। একই সঙ্গে আজ ভাববার সময় এসেছে যে, যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের পরিবার থেকে কোনো কোনো জায়গায় কিছুটা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ছিল! অর্থাৎ একটি কিশোর যখন ভয়ঙ্কর অপরাধী হয়ে উঠছে, সে ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের তা নজর এড়িয়ে গেল কেন?
কিশোর গ্যাং সৃষ্টির পেছনে প্রত্যেকটি কিশোরের পরিবার কি দায় এড়াতে পারে? ছোট্ট শিশুর আচরণ এক দিনে পরিবর্তন হয় না। সে আস্তে আস্তে একা হতে থাকে, তারপর খেলা বন্ধ করে এবং সবশেষে তার একটি জগৎ তৈরি করে সরে যায় সব ভালো কাজ থেকে! প্রথম হয়তো শুরু করে নেশা বা কোনো গ্রæপিংয়ের মাধ্যমে তারপরই শুরু হয় পুরো খারাপের সঙ্গে পথচলা! সহায়ক হিসেবে থাকে তথ্যপ্রযুক্তির বিপথগামী ব্যবহার, বিভিন্ন গেমস খেলে খেলে তা থেকে নিজেদের মধ্যে উগ্রতা তৈরির প্রয়াস, নেশার মাধ্যমে ভিন্ন জগতে প্রবেশের মতো অপরাধ! ভিডিও গেমসের প্রভাব যদি আলোচনা করা যায় তবে দেখা যাবে এ বিষয়টি উদ্বেগের বড় কারণ। বিভিন্ন ধরনের গেমসের মধ্যে বিগত বছরগুলোতে বøু-হোয়েল গেমসের প্রভাবে শিশুর মধ্যে আত্মহত্যা তৈরির প্রবণতার ফল কিন্তু আমাদের দেখতে হয়েছে। ভিডিও গেমসের অনলাইন নিবন্ধন করার কারণে অনেক সময়ই অপরিচিত অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে বিপথে শিশুদের নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
যদি একটু খেয়াল করা যায় তবে দেখা যাবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে অপরাধ বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়টি। এ অনুষ্ঠানগুলো এমনভাবে দেখানো হয় যেখানে অপরাধ সংগঠনের সব উপায়গুলো দেখানো হয় এবং খুনের কারণ বের করতে গিয়ে কোন কোন কারণ ফাঁস হলে তা থেকে খুনি ফেঁসে যাবে তাও দেখানো হয়। আর এ অনুষ্ঠানগুলো দেখেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু ও কিশোররা অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভ‚মিকাও কিছুটা প্রভাব ফেলে। দেখা যায় যারা মিছিল বা মিটিংয়ে টাকার বিনিময়ে অংশগ্রহণ করে এরা এক সময় গিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে শেখে এবং আস্তে আস্তে দল বড় করে নিজেদের জানান দিতে চায়। এখন কথা হলো কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে হবে এবং এ জন্য উদ্যোগী হতে হবে সবার প্রথমে পরিবারকেই। প্রতিটি শিশুর বিকাশে যেমন পরিবার হাত ধরে সামনে নিয়ে যায় তেমনি কিশোর বয়সেও পরিবারকেই হাত ধরে সামনে নিয়ে যেত হবে। যে পরিবারের একজন কিশোর এ রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে সে পরিবারের অবস্থাও প্রশাসনকে জানতে হবে এবং বিশ্লেষণ করতে হবে পরিবারের কোন ত্রæটির কারণে কিশোর এমন অপরাধে জড়াল। বাচ্চাদের খেলার সঙ্গী, খেলার স্থান ও তাদের মনোজগতের পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে যদি পরিবারের সঠিক যোগাযোগ না হয় তবে বখে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি তৈরি হয়। আর এখনকার শিশুদের একাকীত্বভাবে বেড়ে ওঠা বড় ভ‚মিকা রাখছে তাদের বখে যাওয়ার পেছনে! সুতরাং খেলার সঙ্গী নির্বাচনে পরিবারের ভ‚মিকা রাখতে হবে এবং খোঁজ নিতে হবে সে প্রতিদিন কোথায় খেলতে যাচ্ছে এবং সেখানে কাদের সঙ্গে গিয়ে বেশি বেশি মিশছে।
কিশোর গ্যাং বন্ধে এখন থেকে বড় পদক্ষেপ না নিলে এ নিয়ে সামনে আরও আক্ষেপের জায়গা বাড়বে। আর তাই সামাজিকভাবে পরিবারকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে বেশি। পরিবারের মূল কাজের পাশাপাশি এখন দৃষ্টি দিতে হবে সন্তানের সময় কীভাবে কাটছে তার ওপর। অনলাইন আসক্তি কমানোর জন্য সন্তানের সঙ্গে বসে সে কী কী দেখছে তা শেয়ার করুন। ভিডিও গেমসের মাধ্যমে কোনো ধরনের চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কি না তাও খুব বেশি খেয়াল রাখতে হবে। বন্ধু নির্বাচন ও খেলার সঙ্গী নির্বাচনে নিজে দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করতে হবে পরিবারেরই। এর সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে হতে হবে আরও তীক্ষè ও গতিশীল, বন্ধ করতে হবে সিআইডির মতো ক্রাইমভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোও। যে চ্যানেলগুলো ক্রাইম বিষয়ক অনুষ্ঠান চালায় প্রয়োজন তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা।
কিশোর অপরাধের নতুন অধ্যায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তৃতি যেন না বাড়ে সেটা এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে সবাই মিলে কারণ কিশোরদের আগামীই হচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]