ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সময়ের জানালা
‘কিশোর গ্যাং’ সামাজিক হুমকি
আজহার মাহমুদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৩.০৯.২০১৯ ১১:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোর গ্যাং শব্দটির সঙ্গে পরিচয় খুব বেশিদিনের নয়। গ্যাং বলতে আমরা জানি একাধিক জনের একটি দল, যা বর্তমানে নেতিবাচক কর্মকাÐকে নির্দেশ করে। কিশোর গ্যাং অনেকটা সে রকম। এসব গ্যাং তৈরি হয় বিপথে যাওয়া কিশোরদের মাধ্যমে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কিশোররা নিজেদের কার্যকলাপ শেয়ার করে। এসব কিশোরদের মধ্যে এ সময় হিরোইজম তৈরি হয়। প্রথম দিকে অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে হাতে মাদকও উঠে আসে। এলাকার আধিপত্য নিয়েও এক ধরনের অহমিকা কাজ করে এদের ভেতর। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের এলাকায় নিজেরাই রাজা। রাতে স্পিডে মোটরসাইকেল রেস, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, ছিনতাই বা চাঁদাবাজিও এদের অন্যতম কাজ। এরপর একসময় মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে এসব কিশোররা। এ ছাড়া এক এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে অন্য এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সব সময়ই দ্ব›দ্ব লেগেই থাকে। দ্ব›দ্ব থেকে প্রায়ই হুমকি-ধমকি ও শারীরিক আঘাতের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। প্রকাশ্যে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই একদল আরেক দলের ওপর হামলা চালায়। এতে খুন-খারাপির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। সম্মানিত ও বয়োজ্যেষ্ঠদের তাদের কাছে কোনো মূল্যই নেই, তাদের কোনো তোয়াক্কাই করে না এসব কিশোর গ্যাং। এদের পরনে বেশিরভাগ টি-শার্ট, চোখে সানগøাস। চুলে নিত্যনতুন অভিনব স্টাইল। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানে। গান গায় উচ্চস্বরে। পর্দার আড়ালের গ্যাং লিডার বড়ভাইরূপী গডফাদাররা এদের ‘দেখভাল’ করে। বড়ভাইরা তাদের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এদের ব্যবহার করে। অথচ যেখানে এই বয়সে কিশোরদের চোখে থাকার কথা দেশকে ভালোবাসার স্বপ্ন, নিজেকে যোগ্যতর করে গড়ে তোলার স্বপ্ন সেই কিশোরদের চোখে আজ হিংসার আগুন। তাদের হাতে কলমের পরিবর্তে চাপাতি, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র। তাদের মুখে মাদকের নেশা। তাদের কাজ ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ এমনকি হত্যা।
পত্রপত্রিকায় বা টেলিভিশনে এদের গ্রেফতারের খবর মাঝে মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। আশঙ্কার বিষয় হলোÑ এ ধরনের চক্র ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মাথাব্যথার কারণ এখানেই। এসব কিশোররা সমাজ নির্মাণের কারিগর হতে পারত। অথচ আজ তাদের আচরণ বা তাদের চলন দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে আমাদের এ কিশোর প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। যদিও কয়েকটি গ্রæপ বা কয়েকজন কিশোর-কিশোরী নিয়ে সামগ্রিক বিচার করা ঠিক না তবে এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে যে একসময় আমাদের বড় সংকটে পড়তে হবে না তার নিশ্চয়তা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, দারিদ্র্য, খেলাধুলার অভাব, পারিবারিক মনিটরিংয়ের অভাবে ছেলেরা এই বিপথে হাঁটছে। তাই এটা নিয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। পিতা-মাতা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত। এই বুঝি সন্তান কোনো দলের সঙ্গে জড়িয়ে গেল। তবে পিতা-মাতা ও অভিভাবক চাইলেই নিজেদের সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখতে পারেন। এ জন্য অবশ্যই নিজের কিশোর বয়সের সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে মিশতে হবে। বুঝতে হবে সন্তান কি চায়! অবশ্যই সন্তানের সব অন্যায্য চাহিদা পূরণ নয় বরং যেটা দরকারি সেটাকেই পূরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে কিশোররা আমাদেরই দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। এদের সুপথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের সবার। দেশের ভবিষ্যৎ এবং সম্পদ এই কিশোররাই। তাই তাদের বিপথগামী থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার আমার আমাদের সবার। এসব কিশোররা কারও ভাই, কারও ছেলে, কারও বন্ধু। তাই আমাদের উচিত তাদের সচেতন করা এবং এসবের কুফল বর্ণনা করা। সচেতনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]