ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নবীজির সুন্নাহ সর্বোত্তম জীবননীতি
মাহবুবুর রহমান নোমানি
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.০৯.২০১৯ ১২:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

‘সুন্নাহ’ শব্দের অর্থ চলার পথ, রীতি-নীতি, কর্মপদ্ধতি ও জীবননীতি। আমাদের প্রিয়নবী (সা.) তার সামগ্রিক জীবনে যে রীতি ও পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা-ই সুন্নতুন্নবী বা নবীজির সুন্নত। তার অনুপম জীবনপদ্ধতি আমাদের জন্য আদর্শ ও সর্বোত্তম জীবননীতি। কারণ, আল্লাহ তায়ালা তাকে আমাদের জন্য অনুকরণীয় বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। এ মর্মে তিনি বলেনÑ ‘যারা আল্লাহ এবং আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহযাব : ২১)। কোরআনের বহু আয়াতে তার আদর্শ ও সুন্নাহ পালনের নির্দেশ রয়েছে। হাদিসেও নবীজি (সা.) তার সুন্নতকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরার নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন- ‘আমার সুন্নত এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নতের অনুসরণ করা তোমাদের ওপর অপরিহার্য। তোমরা সুন্নতকে শক্ত করে ধর এবং তাতে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধর।’ (মুসলিম : ৬৫৪)। এই হাদিস থেকে সুন্নাহ পালনের গুরুত্ব সহজে বুঝে আসে। সুন্নাহস্নাত জীবনই সর্বোত্তম জীবন। মানুষের কল্যাণ ও সফলতা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ পালনেই নিহিত।
সুুন্নাহ পালনে সাহাবিদের আগ্রহ
সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন রাসুুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতেগড়া পরিশুদ্ধ মানুষ। তাদের জীবনের ব্রত ছিল জীবনের সর্বক্ষেত্রে নবীজির সুন্নাতকে বাস্তবায়ন করা। ঘরে-বাইরে, আবাসে-প্রবাসে সব জায়গায় তারা প্রিয়তম রাসুলের সুন্নাতের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। এমনকি বৈরি পরিবেশেও তারা নবীজির সুন্নাহ ছেড়ে দেওয়ার সাহস করেননি। ইরানের রাজ দরবারে খেতে বসেছেন হজরত হুজাইফা (রা.)। হঠাৎ খাদ্যের একটি লোকমা তার হাত থেকে পড়ে যায়। তিনি পতিত লোকমা তুলে খাচ্ছেন। পাশে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি কনুই দ্বারা চাপ দিয়ে বললেন, কী করছেন আপনি? সমকালীন পৃথিবীর সুপার পাওয়ার কেসরার দরবারে পতিত লোকমা তুলে খেলে মনে করবে, মুসলমানরা নিম্ন রুচির মানুষ। ইরানিরা আপনাদের তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখবে। উত্তরে হুজাইফা (রা.) যে কথাটি বলেছিলেন সোনার হরফে লিখে রাখার যোগ্য। তিনি বলেছিলেনÑ ‘আমি কি এসব বেকুবদের কারণে নবীজির সুন্নাহ বর্জন করব?
হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে হজরত উসমান (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিনিধি হয়ে মক্কায় গেলেন। উদ্দেশ্য মক্কার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলেচনা করবেন। তিনি তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে যখন ঘর থেকে বের হলেন তখন তার পায়জামা পায়ের গোছার অর্ধেক ওপরে ছিল। চাচাতো ভাই বলল, ভাইজান! আরবদের রীতি হচ্ছে- লুঙ্গি, পায়জামা মাটিতে হেঁচড়ে পরা। যার লুঙ্গি বা পায়জামা যত বেশি ঝুলানো থাকে তাকে তত বেশি সম্মান করে তারা। সুতরাং আপনার পায়জামা ঝুলিয়ে পরুন। তাহলে আপনাকে তারা মূল্যায়ন করবে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন- ‘না, রাসুলুল্লাহকে (সা.) এভাবেই লুঙ্গি পরিধান করতে দেখেছি।’
দুটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো এখানে। এ রকম অসংখ্য ঘটনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। সাহাবাদের কাছে নবীজির সুন্নতের মূল্য ছিল জীবনের চেয়েও বেশি। তাদের সামনে কেউ সুন্নত ছেড়ে দিলে তারা প্রতিবাদ করতেন। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেনÑ ‘তোমরা যদি নবীজির সুন্নত পরিহার কর তাহলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।’ (মুসলিম : ১২৪)
সুন্নাহ পালনের উপকারিতা
রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ পালনের কল্যাণ ও উপকারিতা অপরিসীম। শুধু পরকালীন কল্যাণ নয়, সুন্নাহর জাগতিক কল্যাণও অফুরন্ত। বর্তমানে অনেক গবেষক নবীজির সুন্নাহ নিয়ে গবেষণা করছেন। রচিত হয়েছে অনেক বই-পুস্তক। পাকিস্তানের বিখ্যাত গবেষক ডা. তারেক মাহমুদের রচিত ‘সুন্নতে নববি আওর জাদীদ সাইন্স’ সমগ্র বিশে^ বইটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, তিনি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নবীজির প্রতিটি সুন্নাহকে বিশ্লেষণ করে অভাবনীয় উপকারের তথ্যাবলী পেশ করেছেন। যারা নবীজির সুন্নাহকে ভালোবাসেন অথবা ভালোবাসেন না তাদের সবার বইটি পড়া উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সুন্নাহ পালনের উপকারিতা বর্ণনা করেছেন এভাবেÑ ‘হে নবী আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন। কেননা তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান: ৩১)
সুন্নাহ বর্জন করে কেউ আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করতে পারবে না। রাসুলের আশেকও দাবি করতে পারে না। কারণ, আশেকে রাসুল তিনিই হবেনÑ যিনি ব্যক্তি জীবনে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে, আন্তর্জাতিক জীবনে তথা সর্বক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ করবেন। সুন্নাহ বর্জন করলে বেদাতের অনুপ্রবেশ ঘটে। আবার বেদাত তরিকা চালু হয়ে গেলে সেখান থেকে সুন্নত ওঠে যায়। তাই নবীজির সুন্নতকে মজবুতভাবে আকড়ে ধরতে হবে। সর্বত্র সুন্নতের প্রচলন ঘটাতে হবে। মৃত সুন্নতকে জিন্দা করতে হবে। এ মর্মে নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে জিন্দা করল সে আমাকে ভালোবাসলো, আর যে আমাকে ভালোবেসে সে জান্নাতে আমার সঙ্গে
থাকবে।’ (তিরমিজি : ২৬৭৮)





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]