ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আল্লাহর লানত থেকে বেঁচে থাকা
মাহদী হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.০৯.২০১৯ ১২:৫৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আল্লাহর লানত থেকে বেঁচে থাকা

আল্লাহর লানত থেকে বেঁচে থাকা

মুমিনের কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর রহমত ও বরকত অনুসন্ধান করা। যেসব কাজ করলে আল্লাহ খুশি হন সেসব কাজ বেশি বেশি করা আর যেসব কাজে আল্লাহ নারাজ ও অসন্তুষ্ট হন, লানত ও অভিশাপ বর্ষণ করেন সেসব কাজ পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা। সব সময় সতর্ক থাকা, যেন এসব মন্দ কাজ কখনও না হয়। হাদিসের আলোকে এমন কিছু বিষয় আলোচনা করা হলো, যেন সতর্ক অবলম্বন করা সহজ হয়।

সাহাবায়ে কেরামকে গালি দেওয়া : হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সাহাবিদের গালি দিল তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সব মানুষের লানত ও অভিশাপ।’ (আল-মুজামুল কাবির : ১২৭০৯; আল-জামেউস সগির : ৬১৬১)

অঙ্গীকার ও সন্ধি ভঙ্গ করা : যারা মুসলমানদের সঙ্গে কৃত সন্ধি ও চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের ওপর আল্লাহ ও ফেরেশতাদের লানত ও অভিশাপ। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব মুসলমানদের সন্ধি ও চুক্তি এক। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির একজন মুসলমান সন্ধি ও চুক্তি করতে পারে। যে ব্যক্তি মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি ও চুক্তিকে ভঙ্গ করবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সব মুসলমানের অভিশাপ। কেয়ামতের দিন তার ফরজ, নফল কোনো ইবাদতই গ্রহণ করা হবে না।’ (বুখারি: ২৯৪৩; মুসলিম : ৪৬৭)

দান-সদাকায় বাধা প্রদান করা : সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা নিজেও দান করে না, অন্য কেউ দান করলে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। এ ধরনের মানুষের জন্য আল্লাহর অভিশাপ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ  বাড়িয়ে দাও, অন্যজন বলে, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে ধ্বংস করে দাও।’ (বুখারি : ১৩৫১; মুসলিম : ৫৭)

মুসলমানের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন : এক মুসলমান অন্য মুসলমানের প্রতি সব সময় সদয় থাকবে। কখনও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা উচিত নয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের দিকে কোনো লোহা দিয়ে ইশারা করল তার ওপর ফেরেশতাগণ অভিশাপ করে থাকেন, যদিও সে তার সহোদর ভাই হয়।’ (মুসলিম : ৪৭৪১)
স্বামী থেকে স্ত্রীর পৃথক শয্যা গ্রহণ : রাগ-অনুরাগ দাম্পত্য জীবনের অনুষঙ্গ। তবে কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে রাগ করে পৃথক শয্যা গ্রহণ করেন বা দূরে সরে থাকেন তাহলে তার জন্য ফেরেশতাদের অভিশাপ।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো নারী তার স্বামীর বিছানা থেকে পৃথক রাত্রি যাপন করে, প্রভাত অবধি যতক্ষণ সে বিছানায় ফিরে না আসে ততক্ষণ ফেরেশতাগণ ওই নারীর ওপর লানত ও অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকেন।’ (বুখারি : ৯/২৯৪; মুসলিম : ২/১০৬০; শারহুন নববী : ১০/৭-৮)

ন্যায় ও ইনসাফ রক্ষা না করা : ইসলামে ন্যায় ও ইনসাফের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা সঠিক বিচার করবে না তাদের জন্য কঠোর হঁশিয়ারি রয়েছে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি এমন একটি হাদিস বর্ণনা করব যা কেউ ইতোপূর্বে বর্ণনা করেনি। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) বাড়ির দরজায় দন্ডায়মান ছিলেন আর আমরা ভেতরে ছিলাম। তখন তিনি বলেন, নেতা হবে কুরাইশদের ভেতর থেকে। নিঃসন্দেহে তোমাদের ওপর আমার অধিকার রয়েছে এবং তাদের ওপরও তোমাদের অধিকার রয়েছে। যখনই তাদের কাছে অনুগ্রহ চাওয়া হবে, অনুগ্রহ করবে। অঙ্গীকার করা হলে পূরণ করতে হবে। বিচার ফয়সালা করলে ইনসাফ করতে হবে। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না তার ওপর আল্লাহ, সব ফেরেশতা ও সব মানুষের অভিশাপ।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ১১৮৫৯২২)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]