ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রাবি ছাত্রলীগের দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ : আহত ৫
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

হলের গেস্ট রুমে বসা নিয়ে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রæপে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল ও হল সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা বিশ^বিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। আহতরা হলোÑ একরাম হোসেন রিয়ন, মারুফ পারভেজ, জসিম, লিমন ও সোহেল। আহতরা সবাই বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকির কর্মী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা সাকিবুল হাসান বাকির অনুসারী ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লিমন হোসেন তার দুই বান্ধবীকে নিয়ে হলের গেস্ট রুমে আসে। এ সময় সেখানে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম তার এক বন্ধুকে নিয়ে বসেছিল। লিমন তাকে গেস্ট রুমে জায়গা করে দিতে বললে কামরুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়। লিমন এর প্রতিবাদ করায় কামরুল ও তার বন্ধু মিলে লিমনকে মারধর করে। এতে লিমনের কপাল কেটে যায়। পরে লিমনকে তার বন্ধুরা উদ্ধার করে বিশ^বিদ্যালয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। এর পরপরই লিমন বিষয়টি ফোন করে বাকিকে জানায়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর বাকির অনুসারী প্রায় অর্ধশত কর্মী মাদার বখশ হলে গিয়ে কামরুলের রুমের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে এবং রুমের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে বর্তমান কমিটির দুই শতাধিক নেতাকর্মী হলের সামনে এসে অবস্থান নেয়। এরপরে হল সংলগ্ন রাস্তায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয় ছাত্রলীগ কর্মী একরাম হোসেন রিয়ন, মারুফ পারভেজ, জসিম, লিমন ও সোহেল। পরে বিষয়টি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টোরিয়াল বডি, রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাদার বখশ হলে আলোচনায় বসেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাকিবুল হাসান বাকি অভিযোগ করেন, বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, আরিফ বিন জহির, মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক, ছাত্রলীগ কর্মী সুব্রত মারামারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।
তার অভিযোগ, বিশ^বিদ্যালয়ে গত সম্মেলনের পর থেকেই আমার সঙ্গে যারা চলাফেরা করত, তাদের নানা ধরনের অত্যাচারের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকি আড়াই বছর ধরে আমাদের কোনো পদ দেয়নি। বরং আমার কর্মীদের মারধর করেছে। তারা হলে থেকে যে ঠিকমতো পড়ালেখা চালিয়ে যাবে সেই অবস্থাও নেই। বাকি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আজকের ঘটনাটি অবহিত করেছি।
তবে এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ করেন, বহিরাগতদের নিয়ে এসে আমাদের ছেলেদের মারধর করেছে সাকিবুল হাসান বাকি। ওরা ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে আসে না, শুধু শুধু ঝামেলা করে। তিনি বলেন, ঘটনার পর আমরা গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। প্রাধ্যক্ষ স্যার ও প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি দেখছেন।
বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, আমরা মারামারির ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। এখানে কোনো দল বা পক্ষের কাউকে মারধর করা হয়নি। পরিস্থিতি এখন শান্ত।
মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম বলেন, আমি ঢাকা যাচ্ছিলাম। যখন সিরাজগঞ্জে পৌঁছালাম, তখন জানতে পারলাম দুজন ছেলে মারামারি করেছে। পরে এটা নিয়ে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়। পরে আমি প্রক্টর ও হলের অন্যদের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে বলি। তিনি বলেন, ওই দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঢাকা থেকে ফিরে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, গেস্ট রুমে বসাবসি নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। অন্য কোনো কারণ ছিল না। এটার সমাধান করার চেষ্টা চলছে। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। কেউই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারবে না। আহতদের সম্পর্কে তিনি বলেন, পাঁচজন আহত হয়েছে। তারা বিশ^বিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]