ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ৪ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কৃষি
মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি
লিটন সরকার খাগড়াছড়ি
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.০৯.২০১৯ ১২:৫০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি

মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি

পাহাড়ে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাল্টা চাষ। ভালো ফলন হওয়ায় জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য ফলের তুলনায় খাগড়াছড়ির সমতল ও পাহাড়ি ঢালু জমিতে প্রচুর পরিমাণ মাল্টার চাষাবাদ হচ্ছে। মাল্টা চাষ করে বদলে গেছে পাহাড়ের অনেক কৃষক। প্রতিটি গ্রামের বাগানিদের হাত ধরেই মাল্টা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি। স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি মাল্টা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের বিভিন্ন হাটবাজারে মাল্টার বেচাকেনা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কেজিপ্রতি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। ভালো দাম পেয়ে খুশি স্থানীয় বাগানিরা।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানান, সাধারণত মধ্য বৈশাখ থেকে মধ্য ভাদ্র (মে-আগস্ট) মাসের মধ্যে মাল্টার চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে সেচ নিশ্চিত করা গেলে বছরের যেকোনো সময় রোপণ করা যায়। রোপণের চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। ফাল্গুন থেকে চৈত্র মাসে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। ফল সংগ্রহ শুরু হয়ে চলে দুই মাস। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরে ফল আহরণের সময় হলেও অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় অপরিপক্ব ফল সংগ্রহ করছে। ফলে মাল্টার স্বাদ, গুণ ও মিষ্টতা নষ্ট হচ্ছে। প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ ফল উৎপাদন হয়। পাহাড়ে চাষ করা মাল্টা আকারে বেশ বড় হয়। ফল সংগ্রহের পর প্রায় দুই সপ্তাহ অপচনশীল থাকায় এর বিপণন সমস্যা হয় না।

পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে প্রথম বারি মাল্টা-১ অবমুক্ত করা হয়। খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য অঞ্চলসহ সারা দেশে পাহাড়ি ও সমতলে মাল্টা চাষ করে কৃষক সফলতা পেয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের মিশ্র ফলচাষিরা আম্রপালি বাগানে সমন্বিতভাবে মাল্টা চাষ করছে। পাহাড় জুড়ে দিন দিন বারি মাল্টার বাণিজ্যিক চাষাবাদ বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মাল্টার চারা কলম বিক্রি হয়। কৃষি গবেষণা সূত্রে জানা যায়, বারি মাল্টা-১ নিয়মিত ফলদানকারী উচ্চ জাতের। মাল্টা গাছ ছোট হলেও বেশ ঝোপালো হওয়ায় ফলন বেশি হয়। সেচ ব্যবস্থায় সারা বছর

মাল্টার চারা রোপণ করা গেলেও বর্ষাকাল এটি রোপণের উপযুক্ত সময়। মাল্টার কলম চারা, পাতা, ফুল ও ফল আসার পর চারার নিয়মিত যতœ নিতে হয়। লিফ মাইনার, ফলের মাছি পোকা, ছত্রাকবাহী রোগ দমন করা গেলে ফল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুন্সী আবদুস রশীদ বলেন, ‘২০০৯ সালে বারি মাল্টা-১ উদ্ভাবনের পর কৃষক পর্যায়ে এর আবাদ বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন বাগানে প্রচুর মাল্টা চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর প্রচুর কলম চারার চাহিদা থাকে। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নয়, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা এসে খাগড়াছড়ি থেকে কলম চারা সংগ্রহ করছে।’ খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলেন, চলতি বছর খাগড়াছড়িতে প্রায় ২৯০ হেক্টর পাহাড়ি ঢালু ভ‚মি ও সমতল অংশে বারি মাল্টার চাষ হচ্ছে। অন্য ফলদ গাছের সঙ্গে এটি চাষযোগ্য হওয়ায় পাহাড়ে মাল্টা চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]