ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯

এটা একটি রাস্তা!
১২ মাসই থাকে কাদা ও পানি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.০৯.২০১৯ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু বর্ষা নয়, কাঠ ফাটা গ্রীষ্মেও এই সড়ক কাদা-পানিতে মাখামাখি থাকে। এই আশ্বিনে অবস্থা আরও খারাপ। ৮ কিলোমিটারের কাঁচা সড়কের পাঁচ-সাত কদম পরপরই খানাখন্দ। তার মানেই কাদার ‘গোডাউন’। ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই মোটরসাইকেল এমনকি বাইসাইকেলও যেতে হলে নামতে হবে খানিক পরপর। সড়কটির এমনই বেহাল দশা, তিন চাকার যান রিকশারও দেখা মেলে কালেভদ্রে। দুই কিলোমিটার পথও ১০০ টাকায় যেতে চায় না রিকশাচালক। আর সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের তো বালাই নেই। বৃষ্টিতে আমজনতা তো ছাড়, রেহাই নেই মুমূর্ষ রোগীরও। যেতে হবে সাইকেল অথবা মোটরসাইকেল ঠেলে। যতই জরুরি হোক, এই সড়কে আসতে চায় না কোনো যান। বাজারে গাড়ি রেখে লাশ কাঁধে করে যেতে হবে কয়েক কিলোমিটার। প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রাতে চলাচল তো আরও দুষ্কর। সড়কটি রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের। টোক বাজার থেকে উলুসারা হয়ে বড়িবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি লালমাটির। আর এই লালমাটির ফলে এক পশলা বৃষ্টিও ভোগান্তি ডেকে আনে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানুষজন ওই সড়ক দিয়ে হেঁটে আসছে টোকের হাটে। রোববার ও বৃহস্পতিবার বিকালে বসে টোক বাজারের হাট। এই সড়কে সবচেয়ে বেশি মানুষ চলাচল করে সপ্তাহের এই দুদিন। বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি হওয়ায় বিকালে পথচারীদের হাঁটাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কাদা মাড়িয়ে অনেককেই লুঙ্গি ভাঁজ করে হাটে আসতে দেখা যায়। সড়ক পিচ্ছিল থাকায় যেকোনো সময় থাকে পা হড়কানোর সম্ভাবনা। মোটরসাইকেল থেকে পড়ে দুর্ঘটনায় জখম হন একাধিক চালক ও আরোহী। সড়কটির অনেক স্থানই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, এই সড়ক ঘিরে টোক ইউনিয়নের ঘোড়াদিয়া, টোকনগর, ভেংগুরদী, কেন্দুয়াব, উলুসারা, নামিলা ও বড়িবাড়ী গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ হাজার লোকের বাস। ৩৩৩৩৬৪০৭২ কোড নাম্বারের এই সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে শ্রীপুর হয়ে টোক বাজার দিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও নরসিংদীর মনোহরদী যাওয়া যায়।
সড়কটিতে কয়েকশ শিক্ষার্থীর যাতায়াত। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে টোক বাজার ও তার আশপাশের কয়েকটি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় রোজই পড়তে আসে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী। টোক বাজার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরের উলুসারা গ্রাম থেকে প্রায়ই কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসে সানজিদ হোসেন আকাশ। অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া এই শিক্ষার্থী জানান, বৃষ্টির দিনে সড়কের কাদার কারণে পুরোটা পথ জুতা হাতে নিয়ে যেতে হয়। আর লালমাটির কাদাতে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। আচমকা পড়েও যাই। এ জন্য মাঝে-মধ্যে স্কুলে যাই না।
সড়কের দুই ধারের কয়েকটি স্থানে গড়ে ওঠেছে ‘পোল্ট্রি মুরগির ফার্ম’। কিন্তু রাস্তা পাকা না থাকায় মুরগির ডিমের গাড়িগুলোও যেতে পারে না। গ্রামের কাঁঠালের পাইকাররা অনেক কষ্ট করে ঠেলাগাড়ি দিয়ে টোক বাজারে কাঁঠাল নিয়ে যান। অনেক সময় কাদায় চাকা আটকে যায়। এ সড়ক ব্যবহার করে অনেক ব্যবসায়ী টোক বাজারে দোকান করেন। সাইকেল চড়ে আসতে হয় তাদের। বৃষ্টি হলে তাও ঠেলে আনতে হয়।
সড়কটির এমন নিত্যদিনের ভোগান্তি প্রায় ৪০ বছর ধরে দেখে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল হক আকন্দ। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, এক কথায় এই সড়ক আমাদের জন্য এক অভিশাপের নাম। আমি প্রতিদিন ভেংগুরদী গ্রাম থেকে তিন কিমি. পথ পেরিয়ে টোক বাজারে আসি। কারণ টোক বাজার আমাদের ইউনিয়ন হেডকোয়ার্টার। রাস্তার অসহনীয় দুর্ভোগের কারণে অনেক সময় বাজারে আসতে পারি না। বৃষ্টি-বাদল হলে কাদায় ছড়াছড়ি হয়ে যায়। যার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না। এই রোডটি শিগগিরই পাকা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তাজউদ্দিন মাস্টার। প্রতিদিন ওই সড়কে সাইকেল চালিয়ে যান মাদ্রাসায়। ঘরে মোটরসাইকেল ফেলে রাখছেন দীর্ঘদিন ধরে। সড়কে একবার বের করলে কাদায় বাসায় আনতে জান বের হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে। বলেন, আর কত দিন এমন দুর্ভোগ আমরা সহ্য করব! মনে হয় রাস্তাটি দেখার কেউ নেই। ঢাকার এত কাছে এমন রাস্তা দেখলে যে কেউ হতাশ হবেন। কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলেই এই রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হতো।
রোজ এক মাইল হেঁটে টোক বাজারের মালায়ের চা খেতে যান বৃদ্ধ আফসার উদ্দিন। তিনি বলেন, দিন ভালো দেখে বাজারে আসি, কিন্তু বৃষ্টি আসলে বাজার থেকে বাড়ি যেতে পারি না। আসা যাওয়া খুব কষ্ট হয়। মাঝে মধ্যে পিছলে গর্তে পড়ে যাই। রাস্তাটি পাকা না হলে প্রতিদিনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই নেই।
সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল বারেক সময়ের আলোকে বলেন, আমি আসলে জানি না। কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানব। রাস্তার বেহাল দশা হলে ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, রাস্তাটি আমার এলাকায় হলেও দেখা হয়নি। সড়কের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা করব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]