ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

আর ১ লাখ টাকা হলেই বেঁচে যাবে সবুজ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:৫১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আর ১ লাখ টাকা হলেই বেঁচে যাবে সবুজ

আর ১ লাখ টাকা হলেই বেঁচে যাবে সবুজ

শহরতলীর কৃষ্ণকাঠি এলাকার ইট তৈরী শ্রমিক সাইদুল ইসলাম (সাদু) শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে প্রায় বছরখানেক পূর্বে মারা যান। তার মাস তিনেক পরে মেঝো ছেলে বাদলও ১৯ বছর বয়সে একই রোগে মারা যায়। স্বামী ও সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় তাসলিমা বেগম। এ অবস্থায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ তাসলিমার ছোট ছেলে সবুজ।

সবুজের বয়স ১৬ হলেও শারীরিক গঠন দেখে মনে হবে তার বয় ৮/৯ বছর। ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সবুজকে চিকিৎসা করানো হলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত তার চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট বেলা থেকেই সবুজ হাল্কা শ্বাস কষ্টের রোগী। সাংসারিক অভাবের কারণে তাকে বিভিন্ন স্থানে শ্রমজীবীর কাজ করতে হয়েছে। দিন দিন অসুস্থ্যতা বাড়তে থাকলে স্থানীয় ডাক্তার দেখালে ভারী কাজ করতে নিষেধ করে সবুজকে। এরপর তাকে কাজে দেয়া হয় ফার্নিচার তৈরীর কারখানা সারেং ফার্নিচারে।সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা শুনে মালিকসহ সবাই বিষ্ময় প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যের সাথে সামঞ্জস্য হালকা কাজ করানো হতো সবুজকে দিয়ে। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসা করানোর পদক্ষেপ নেন মালিকপক্ষ। সারেং কোম্পানীর পরিচালক মোঃ শাহ আলম তাকে ঢাকায় নিয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক নাজির উদ্দিনকে দেখান। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হার্টে একাধিক ছিদ্র থাকায় হার্ট বড় হয়ে যাওয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান। সেই অপারেশন ছাড়া তাকে সুস্থ্য করা সম্ভব হবে না। অপারেশন না করলে ৫ভাগ বাঁচারও সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়ে দেন চিকিৎসক নাজির উদ্দিন।

সারেং কোম্পানীর পরিচালক  মোঃ শাহ আলম’র ছোট ভাই জানে আলম জনি জানান, একদিন আমি মালিবাগ বড় ভাইর বাসায় গেছি মাকে দেখতে। ছেলেটি আমার নজরে পড়লো। বিস্তারিত বড় ভাইর কাছে শুনলাম। বিকালে রোগিসহ ঝালকাঠি চলে আসবে পরে সিদ্ধান্ত নিবে কি করা যায়? ছেলেটিকে দেখে নিজের সন্তানের কথা মনে হলো। বড় ভাইকে বল্লাম রিপোর্ট গুলো রেখে যান। আমার ঘনিষ্ট বন্ধু কিবরিয়ার মেঝভাই আছে জাতিয় হৃদরোগ হসপিটালের প্রফেসর এবং দেশের ভিআইপিদের স্পেশাল ডাক্তার, তার সাথে পরামর্শ করি? তিনি একবার ঝালকাঠির সাবেক ডিসি হামিদুল হকের চিকিৎসা বোর্ডের হেড ছিলেন। আমিই পরিচয় করিয়ে দিছিলাম। রিপোর্ট রেখে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় হচ্ছিল না? পরে বড় ভাইর তাড়নায় কয়েকদিন পর ডাক্তার আজম ভাইর সাথে দেখা করলাম রিপোর্ট নিয়ে। এমন সময় তার রুমে আরো কয়েকজন ঐ হাসপাতালেরই চিকিৎসক ছিলেন। ডাক্তার আজম ভাইসহ সকলেই রিপোর্ট দেখে একই মন্তব্য করলো, এই পেসেন্টকে সার্জন দেখাতে হবে। এমনটা সচারাচর সার্জনরা পেসেন্ট নাও নিতে পারেন রিক্স আর বয়স ভেবে। তারপরও প্রফেসর ডা.আজম লিখে দিলেন প্রফেসার সার্জন হাসান, ইবনেসিনহা হসপিটাল ধানমন্ডি ১৫ নং সড়ক।

পরের দিন আমি ফোন দিতেই সার্জন সাহেব সময় তারিখ দিয়ে বলেন  রোগী নিয়ে আসতে। বুঝলাম ডা: আজম তাকে ফোনে বিস্তারিত বলেছেন। দিনটি ছিলো শুক্রবার উনি ঐদিন হাসপাতাল বা প্রাক্টিস করেন না। শুধু এই ছেলেটির জন্য আমাদেরকে ভিন্ন রুমে নিয়ে গেলেন এবং একটা পরিক্ষা করতে বল্লেন। এতক্ষন সাথে আমার মেঝভাইও ছিলো। পরিক্ষায় দুই ঘন্টা সময় লেগেছে। সার্জন সাহেব আমাদের জন্য বসেই রইলেন। রির্পোট পেয়ে শেষে তিনি বলেন এই ছেলের ফুসফুসের বাল্ব জন্ম থেকেই নাই। যার বদলে হার্ট তাকে পাম্প দিচ্ছে,যা হার্টের জন্য অতিরিক্ত কাজ এবং বাড়তি চাপ। এই পাম্পের কারনে হার্ট বড় হয়ে ফুলে ফুটা হয়ে গেছে তাতে  রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এঅবস্থায় ১৬/১৭ বছরে রোগী মারা যাবে? যেমন টা রোগির বাবা এবং ভাইয়ের বেলা হয়েছিলো, শেষে বিনা চিকিৎসায় দু’জনই মারা যান। তবে অপারেশন করে একটি বাল্ব বসালে সে ক্ষেত্রে রোগী বেঁচে যেতে পারে নব্বই ভাগ।এটাই ওরজন্য একমাত্র চিকিৎসা।

শুনে আশ্বস্ত হলাম। তারপর ডাক্তারকে খরচের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন সবমিলিয়ে তাতে প্রায় চারলাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আটদিন আইসিইউসহ পনেরদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। এতক্ষণে আমার হুঁশ ফিরে এসেছে এতো টাকা এই ছেলে পাবে কোথায়? দুনিয়াতে তার কেউ আছে বলতে আছে শুধু মা,সেও ছেলে-স্বামির শোকে পাগল। বের হয়ে আসার সময় সা রোগির ভিজিটও রাখলেন না। বড়ভাইকে ফোন দিলাম, মেঝ ভাইকে বললাম এখন টাকার যোগার করেন সবুজ বেচে যাবে? বড়ভাই খুশি হয়ে বল্লেন টাকার চিন্তা করিস না। আমরা সাত ভাই। তোরা ছয়জন দিবি পাঁচ হাজার করে,আমি বড় তাই দিবো একলাখ হয়ে যাবে চার লাখ। কথা শুনে মনে হলো উনি আগেই হিসাব করে রেখেছেন।  আর কয়েকদিন পরে সবুজের অপারেশন করানো হবে বলে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন জানে আলম জনি। সেই সাথে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রফেসর.ডাক্তার আজমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সবুজের মা পাগলপ্রায় তাসলিমা বেগম জানান, অপারেশনের টাকা সারেং স্যারেরা দিবে। কিন্তু ছেলের জন্য ঢাকাতে যাওয়া, আসা, থাকা ও খাওয়া বড় খরচের। আমি সেই খরচের টাকা কোথায় পাবো। অপারেশন  শেষে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পরেও ওষুধে লাগবে রাজ্যের টাকা। মুই (আমি) এতো টাকা কই পামু। এ জন্য তিনি বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]