ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯

দালালের হাতে নড়াইলের বিআরটিএ অফিস
মোস্তফা কামাল, নড়াইল
প্রকাশ: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দালালের হাতে নড়াইলের বিআরটিএ অফিস

দালালের হাতে নড়াইলের বিআরটিএ অফিস

*এক যুগের বেশী সময় ধরে নড়াইলের বিআরটিএ অফিস চালান দালাল
*অফিস করে নির্দিষ্ট চেয়ার-টেবিলে
*মাসে ৫ লক্ষ টাকার  ঘুষ ভাগাভাগি

এক যুগের বেশী সময় ধরে অফিস চালায় দালাল একথা লোকমুখে প্রচলিত হলেও বাস্তবে নড়াইল বিআরটিএ অফিসের হর্তাকর্তা উজ্জ্বল হোসেন নামের এক ব্যাক্তি। সরকারী এই অফিসে তার জন্য বরাদ্দ আছে চেয়ার-টেবিল। প্রতিনিয়ত সরকারী কাগজপত্র আর সীল দিয়ে তৈরী করেন মোটর ড্রাইিভিং লাইসেন্স এর কাজ।

২৩ সেপ্টেম্বর বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশীদের ভীড়ে অফিস গমগম করছে, সবাই ভীড় করে আছেন উজ্জ্বলের টেবিলে। তিনি খুব গুরুত্বের সাথে সিল ছাপ্পর মেরে কাজ সারছেন। পদবী জিজ্ঞেস করায় সাবলীল ভঙ্গিতে বললেন “সীল মেকানিক”। পাশের রুমে কম্পিউটার এর সামনে বসে আসেন সজীব নামের আরেক দালাল, পদের কথা জিজ্ঞেস করতেই বলেন, আমি ইন্সপেক্টর স্যার এর সাথে এসেছি। 

অন্য রুমে যশোর থেকে আসা মোটর ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ পোদ্দার। তার কাছে নড়াইল বি আর টি এ অফিসে কর্মরত লোকদের সংখ্যা-পদবী জানতে চাইলে তিনি তেড়ে বললেন “আমার পরিচয় নেন, অন্যদের পরিচয় নিতে গেলে যশোরে সরকারী পরিচালকের সাথে দেখা করে জেনে আসুন, আর না হলে নিজে খুজে বের করুন” এই বলে রুম থেকে প্রায় তাড়িয়ে দিলেন। 

বর্তমানে দালাল উজ্জ্বলের আশ্রয়দাতা ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ পোদ্দার। ফিল্ডটেস্ট এর দিনে টাকা আদায়ে সজীব কে নিয়ে আসেন তিনি। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা সেজে কাজ করা উজ্জ্বল হোসেনের পদের কোন অস্থিত্বই নেই নড়াইলে, বি আর টি এ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেই নেই ‘সীল মেকানিক’ পদের অস্থিত্ব, কেবলমাত্র ঘুষের টাকা আদায়ে এই পদ  তৈরী।

উজ্জ্বল এর বাড়ি যশোর। মাইকপট্টি এলাকায় ‘উজ্জ্বল ডট কম’ নামে একটি ইলেকট্রিক শপ থাকলে ও মূলতঃ বিআরটিএ কর্মকর্তার পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার কাজ। ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় হালকা ও ভারী যান এর লাইসেন্স করিয়ে দেন উজ্জ্বল। চালকের ফিটনেস কিম্বা দক্ষতা নির্ভর করে টাকার উপর, টাকা দিলেই ইন্সপেক্টর তাদের উত্তীর্ন করিয়ে লাইসেন্স দেন। টানা এক যুগের ও বেশী সময় কাজ করে উজ্জ¦ল  যশোরে বিলাস বহুল বাড়ি আর বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

লাহুড়িয়া গ্রামের আকরাম হোসেন বলেন, লাইসেন্স এর জন্য উজ্জল ৭ হাজার টাকা চাইছিলো তা  দিইনি বলে আমারে ফেল করাইছে,আবার জমা দিলাম।

ফি জমা দিয়ে এক বছর ঘুরছেন হাটবাড়িয়া গ্রামের সরকারী কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার কুন্ডু ও সঞ্জয় কুমার কুন্ডু। উজ্জ্বলের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা না দেয়ায় তাদের লাইসেন্স হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

কালিয়া সরকারী কলেজের প্রভাষক মো. আবু জাফর বলেন, মোটরসাইকেলের চালক হিসেবে লাইসেন্স পেতে উজ্জল নামের একজন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে লাইসেন্স করিয়ে দিয়েছে। যা প্রকৃত খরচের চেয়ে ৩ গুন বেশী।

বিআরটিএ সুত্রে জানা গেছে, মোটর সাইকেল অথবা হালকা যান চালকের লার্নার (শিক্ষানবীশ) ইস্যু ফি ৫’শ ১৮ টাকা আর ড্রাইভিং লাইসেন্স এর সরকারী ফি ২ হাজার ৫’শ ৪২ টাকা। কিন্তু ঝামেলা আর ফিল্ডটেস্টে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে দালাল উজ্জ্বল প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে। গড়ে প্রতিমাসে ৮০/১০০টি লাইসেন্স আবেদন এর বিপরীতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি। ভারী গাড়ির চালকের লাইসেন্স নবায়নে সরকারী ফি ১ হাজার ৮’শ ৫২ টাকার স্থলে নেয়া হয় সাড়ে আট হাজার টাকা। 

অভিযোগ বিষয়ে দালাল উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আমি একজন ছোট মানুষ, নিয়ম অনুয়ায়ী অফিসের কাজ করি। লাইসেন্স এর সব কাজই কর্মকর্তারা করেন। বেশী টাকা নেবার কথা তিনি এড়িয়ে যান।

মোটর ইন্সপেক্টর রামকৃষ্ণ পোদ্দার বলেন, উজ্জ্বল আর সজীব আমার হয়ে কাজ করে একথা কে বলেছে? আমিতো মাসে একদিন যাই। আমি এখানে যোগদানের অনেক আগে থেকেই উজ্জ্বল নড়াইলে কাজ করে।

বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরসালিন বলেন, অফিসে সব কাজই তো নিয়ম অনুয়ায়ী হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিয়ে লাইসেন্স  তৈরীর কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]