ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে
নিমাঞ্চল প্লাবিত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯, ২:৫২ পিএম আপডেট: ০২.১০.২০১৯ ৩:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে

পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার বেলা ১২টায় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা ১৪ দশমিক দ্ইু আট সেন্টিমিটার উপর দিয়ে অতিক্রম করে। আর গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ৬ সেন্টিমিটার। বর্তমানে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বৃদ্ধির কারনে চর অঞ্চলের আগাম শীত কালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষ। ডুবে গেছে শীতকালীন সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। অনেকে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু এলাকার স্বজনদের বাড়িতে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে


পাবনা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে পাবনায় পদ্মানদীর পানি বৃদ্ধির কারনে প্রায় ১৭শত হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে বলে জানান। তবে সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয়েছে শীতের আগাম বিভিন্ন ধরনরে সবজির। গাজর, সিম, মুলা, বাঁধাকফি, ফুলকপি, বেগুন, কাঁচা মরিচের গাছ, কলার বাগান, মাসকলাইসহ অন্যান্য ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষক কিছু বুঝে উঠার আগেই তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এত দ্রুত পানি বেড়েছে যে, কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারেনি বলে জানান স্থানীয় ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকেরা। সরকারি ভাবে আগাম বার্তা না পাওয়ার কারনে কৃষক বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারন কৃষকেরা। তবে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগীতা না পেলে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানান কৃষকেরা। সব মিলিয়ে পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, রুপপুর, লক্ষীকুন্ডা, সারাবাড়ি ইউনিয়নে সবচাইতে বেশি পরিমান ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও পাবনার সুজানগর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুরে নিম্নাঞ্চলের ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অথিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আজহার আলী বলেন, পাবনা জেলায় এবারের আকশ্যিক বন্যায় প্রায় ৭কোটি টাকার পরিমান ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি গ্রস্থ জমির পরিমান ১৭শত ৩০ হেক্টর ফসলি জমি। ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকদের জন্য বন্যার পানি নামার সাথে সাথে পূনরায় ফসল চাষের জন্য কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতার কথা জানান তিনি।

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭ সে.মি. উপরে


তিনি আরও বলেন, আকশ্যিক বন্যার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা ইতমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি ভাবে যে কোন ধরনরে সহযোগিতা আসলে তা ক্ষতি গ্রস্থ কৃষকদের অবশ্যই দেয়া হবে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, উজানে অতিবৃষ্টি এবং ভারতের বেশ কিছু অঞ্চরে বন্যার কারনে গঙ্গা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পানি বাড়লেও ভয়াবহ বন্যার কোন ধরনের আশঙ্কা নেই। কিছুদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তন  ও উজানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এই পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

গত চব্বিশ ঘন্টায় পাবনা অঞ্চলে পদ্মার পানি ছয় সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ছে। বৃধবার সকাল থেকে বেলা ১২টা অবদি গতকাল থেকে দুই সেন্টি মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপদ সিমার ৭ সেন্টিমিটার অর্থাৎ ১৪ দশমিক ২৮ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।পাবনা জেলার ১৫৮ কি.মি. শহর রক্ষা অর্থাৎ মুজিব বাধ রয়েছে যা সম্পূর্ন ঝুকিমুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলো। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। স্থানীয় কৃষকেরা জানান ৮৮ এবং ৯৮ এর বন্যার পরে এবারই এতো পানি দেখা দিয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]