ই-পেপার  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ব হার্ট দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আলোচনা সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯, ৫:৩৯ পিএম আপডেট: ০৪.১০.২০১৯ ৬:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব হার্ট দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আলোচনা সভা

বিশ্ব হার্ট দিবসের বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আলোচনা সভা

বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে শুক্রবার সকালে রাজধানীর অপসোনিন ফার্মার অডিটোরিয়ামে এক বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও ‘হৃদরোগ প্রতিকারের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস আর খান (এফআরসিএস) এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চীফ কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডা. অসিতবরণ অধিকারী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের শিশু হৃদরোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শরিফুজ্জামান, সিএমএইচএর ডা. বিগ্রেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক নুরুন্নাহার ফাতেমা, ন্যাশনাল হার্ট ইনষ্টিটিউট এর শিশু হৃদরোগ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. এবিএম আব্দুস সালাম, প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. সাহাবুদ্দিন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে ভাবেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল সরকার প্রধান। জনগণের মৈলিক মানবিক দিকগুলো সমাধানের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্বে আছেন বলেই আমরা সকলেই নিরাপদে আছি। তার যোগ্যতা, সততা, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের কোন ঘাটতি নেই। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি রাজনীতি করছেন। দেশ আমাদের সকলের। আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি তবে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যখাতের বিরাজমান সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। অথচ ডাক্তাররা গ্রামে যেতে চান না। অনেকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনও করে না। এটা উচিত নয়। তিনি দুর্নীতি দূর করা, অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রভৃতির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটারিং সেল শক্তিশালী করার গুরুত্বারপ করেন। তিনি বিশ্বমানের শিক্ষা পদ্ধতি চালু এবং ডাক্তারদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গবেষণার উপর জোর দেন। জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, ধনিক শ্রেণী ও সমাজদরদীদের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ হার্ট রিচার্জ অ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৪ সাল থেকে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, তার জন্য সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, চিকিৎসাপ্রাপ্তী মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধানেও বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় এটা দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আমাদের দেশের মানুষ অধিকাংশয় গরীব ও স্বাস্থ্যসম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় তারা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারপ করেন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলি প্রাথমিক শিক্ষার সিলেভাসে অন্তর্ভূক্ত করার জোরদাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, এ বছরের বিশ্ব হার্ট দিবসের স্লোগান ছিল আমার হার্ট, তোমার হার্ট, বিষয়বস্তু যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জোরদাবি জানান। তিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে ডাক্তারদের আরো আন্তরিক, মানবিক ও পেশাগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্তৃক টিকা দান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ভ্যাকসিন হিরো উপাধিতে ভূষিত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডীন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আজ বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা বাংলাদেশেই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল স্লোগান আমরা নিজের হার্টের প্রতি জন্মশীল হবো, বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীসহ সকলের হার্টের যত্নের প্রতি পরামর্শ দেব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হার্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডা. অসিতবরণ অধিকারী, প্রফেসর ডা. হাসিনা বানু (অবঃ), অধ্যাপক ডা. কাজী আবুল হাসান, অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. শাহবুদ্দিন খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, তরুণ চিকিৎসকবৃন্দসহ আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. এস আর খান বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে হৃদরোগের তেমন ভালো কোন চিকিৎসা পদ্ধতি এদেশে ছিলনা। মানুষ বিনা চিকিৎসায় ভুগে ভুগে মারা যেত। সেই দিন আজ নেই। বিজ্ঞানের উন্নতি ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সফলতা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জনগণ উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। আমরা সকলে যদি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি, দৈনিন্দন সৃশৃঙ্খল জীবন-যাপন করি, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করি, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়ম করি, নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেই এবং জনসচেতনতা তৈরী করি তাহলে আমরা সুস্থ্য জীবন-যাপন করতে পারবো এবং সুস্থ্য দেহের অধিকারী হবো। তিনি হৃদরোগ চিকিৎসা জটিল ও কঠিন হওয়ায় এবং ব্যয়বহুল ও দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় তিনি এই রোগে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই একমাত্র উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বিশ্ব হার্ট দিবসের সফলতা কামনা করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]