ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ ৬ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯

নতুন চার্জ বসাচ্ছে রাজশাহী ওয়াসা
ফি কমানোসহ বিশুদ্ধ নিরাপদ পানির দাবী নগরবাসীর
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৭ পিএম আপডেট: ০৫.১০.২০১৯ ৩:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফি কমানোসহ বিশুদ্ধ নিরাপদ পানির দাবী নগরবাসীর

ফি কমানোসহ বিশুদ্ধ নিরাপদ পানির দাবী নগরবাসীর

রাজশাহী বাসীকে এখন থেকে মেশিনের (সাবমারসেবল পাম্প) সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করতে রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃক অনুমোদন ফি বাবদ গুনতে হবে ১০ হাজার টাকা। সেই সাথে প্রতিবছর নবায়ন ফি বাবদ গুনতে হবে আরো ৫ হাজার টাকা। নগরবাসী নির্ধারিত এই ফি-এর বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করলেও তা আমলে নেয়নি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী ওয়াসার হঠাৎ করেই এমন চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে নগরবাসীর মনে দেখা মিলেছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

রাজশাহী নগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লোকমান হোসেন। প্রায় ৬বছর আগে নিজ বাড়িতে ওয়াসার নির্ধারিত ফি প্রদান করেই পানির সংযোগ নিয়েছেন। কিন্তু ওয়াসার ময়লা ও খাবার অযোগ্য পানি আসায় গেল বছর তিনি অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা খরচ করে নিজ বাড়িতে সাবমারসেবল পানির পাম্প বসাতে বাধ্য হন। যদিও প্রতি বছর ওয়াসার দেওয়া বিল তিনি পরিশোধ করে আসছেন বলে জানান লোকমান হোসেন।

রাজশাহীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, প্রত্যেক টা ওয়ার্ডেই একই অবস্থা। সবাই বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য বাসায় সাবমারসেবল পাম্প ব্যবহার করছেন। তবে যারা নিতান্তই গরীব তারা দূরবর্তী টিউওয়েল থেকেই পানি সংগ্রহ করে থাকেন। রাজশাহী ওয়াসার বাচ-বিচারহীন এমন সিদ্ধান্তের কারণে লোকমান হোসেন তুলে ফেলেছেন সেই পাম্প। কারণ তার পক্ষে ওয়াসার নির্ধারণ করে দেওয়া এতো ফি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এখন প্রতিদিন তাকে ১কি.মি দূরের টিউবঅয়েল থেকে পানি নিতে হয়।

তাছাড়া রাজশাহী ওয়াসা থেকে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা খাবার জন্য নিরাপদ না । একথা ওয়াসার কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। প্রায় বিভিন্ন সময়তে ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত পানি আসে যা দিয়ে গৃহস্থালীর কাজ করা যেমন- কাপড় ধোয়া, গোসল করা, ঘর মোছা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার খরা বা শুকনো মৌসুমে দুই তিন দিন পানিই পাওয়া যায় না। যদি নিরাপদ খাবারযোগ্য পানি ওয়াসা সরবরাহ করত তবে কেই আমার মতো আলাদাভাবে টাকা খরচ করে পানির মেশিন বসাতো না- বলে জানান লোকমান হোসেন। শুধু লোকমান হোসেন-ই নয়, তার মতো নগরীর হাজারো মানুষের একই অভিযোগ।

নগরীর কয়েকজনের সাথে এবিষয়ে কথা বলে জানা যায়, এখন প্রত্যেকের বাড়িতেই ওয়াসার লাইন থাকার পরও সাবমারসেবল পানির পাম্প বসানো আছে। আর এই পানির পাম্প নিজের খরচে শুধুমাত্র নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পাবার জন্যই বসিয়েছেন। যাদের সামর্থ নেই তারা দূরে থেকে পানি আনেন অথবা যার বাসায় পাম্প লাগানো সেখানে যান অন্যথায়, জ্বালানী খরচ করে পানি বিশুদ্ধ করেন। সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে থেকে বিভিন্ন বিল, ভ্যাট-ট্যাক্স, ফি ইত্যাদি নিচ্ছে ষোল আনা, কাজের বেলায় চার আনাও সেবা মেলে  যায় না তাদের থেকে।

ওয়াসার সেবা না পাওয়ায় ও বাচ-বিচারহীন ফি আরোপ করায় ভূক্তভোগী নগরবাসী জানান, ওয়াসা তার নির্ধারিত সেবা নিশ্চিত না করেই নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে ফি বাড়িয়েই চলেছে। তাদের অভিযোগ, পাইপ লাইনের পানির জন্য ওয়াসাকে নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হয়। শর্ত অনুসারে ওয়াসা তার গ্রাহকদের বিশুদ্ধ খাবার পানি দিতে বাধ্য। তবে ওয়াসা তার সেবা দিতে ব্যর্থ। সেবা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পরও হুট করে এই দুর্মূল্যেও বাজারে এমন হঠকারি সিদ্ধান্ত কেমন করে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয় তা বোধগম্য নয়। শুধু ওয়াসায় নয়, সরকারি সমস্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সঠিক সেবা নিশ্চিত না করেই হুট-হাট নিত্য নতুন সার্ভিস চার্জ ও ফি বাড়িয়ে সাধারণ জনগণের ওপর বোঝা চাপিয়ে চলেছে।

এদিকে রাজশাহী ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পানি সরবরাহ আইন ১৯৯৬ (ধারা ২৪) অনুসারে তারা এই ফি নির্ধারণ করেছেন। যা ২০১৭ সাল থেকে রাজশাহীতে চালু আছে।

প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সময়ের আলো প্রতিনিধিকে জানান, রাজশাহী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মোট কতটি সাবমারসেবল পানির পাম্প আছে তা তাদের কাছে হিসেব নেই। তবে এবিষয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানের কাজ শুরু করা হয়েছে। এপর্যন্ত ১৮ ও ২৬নং এই দুটি ওয়ার্ডে পরিসংখ্যানের কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং বাকি ওয়ার্ড গুলোতে কাজ অব্যহত রয়েছে। তিনি জানান, ১৮নং ওয়ার্ডে মোট ১০৯টি এবং ২৬নং ওয়ার্ডে মোট ৩৫১টি সাবমারসেবল পাম্পের সন্ধান পেয়েছেন।

এবিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, রাজশাহীতে সাবমারসেবল পানির পাম্প ব্যবহারে ফি নির্ধারণের বিষয়টি নতুনভাবে জানালেও সরকারি নীতিমালার আলোকে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে বহু আগে থেকে এই ফি চালু রয়েছে। তবে ঢাকা-চিটাগংসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের তুলনায় রাজশাহীতে সাবমারসেবল স্থাপনের ফি ও নবায়ন ফি কম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে এবিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

বিশুদ্ধ নিরাপদ খাবার পানির নিশ্চয়তা ও বিচারহীন ফি বাড়ানোর বিষয়ে সময়ের আলো প্রতিনিধিকে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা খরচ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করেছেন। কিন্তু বাস্তবিকভাবে সেই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানি সংরক্ষণ করে তার পরিশোধন সঠিক ভাবে হয় না। এতে, পরিশোধনহীন পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে নগরবাসীর জন্য যা মোটেও নিরাপদ নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির আবির্ভাব হয়। আর সেগুলো পানির মাধ্যমে অতি দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই পানিগুলোই আবার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে গিয়ে জমা হয়। কাজেই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সেবা আমরা পাচ্ছি না কিন্তু আমাদের পানির বিল আমাদের ঠিকই দিতে হয়।’

তিনি আরোও বলেন, ‘রাজশাহী ওয়াসা যদি এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে এবং তা যদি কার্যকর হয় তবে তা হবে জনগণের জন্য আত্মঘাতিমূলক পদক্ষেপ। প্রয়োজনবোধে আমরা ওয়াসার এহেন বাচ-বিচারহীন ফি আরোপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করব। আর তাতেও কাজ না হলে সমগ্র রাজশাহীবাসীকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ র‌্যালি ও মানবন্ধনের ডাক দিবো বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]