ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

সুদ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন
মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
প্রকাশ: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রদত্ত ঋণের ওপর নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাকে সুদ বলে বা একই জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে কম পণ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত পণ্য গ্রহণ করাকে সুদ বলা হয়। তবে সুদকে কোনো কোনো এলাকায় লাভ, উপরি বলে। সুদি লেনদেনের মাধ্যমে একপক্ষ সর্বদা লাভবান হয়, অন্যপক্ষ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুদ সমাজে অপরাধ, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিস্তার করে এবং মানুষকে করে অতি দুনিয়ালোভী। কিন্তু অতি দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, সুদ আমাদের সমাজে আজ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিরা কেয়ামতের দিবসে পাগল এবং মাতাল অবস্থায় উঠবে। সেদিন লোকজন তাদের দেখেই চিনতে পারবে এরা সুদখোর। সুদকে আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ দেওয়া, সুদ নেওয়া বা কোনোভাবে সুদি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হওয়া নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম অপরাধ এবং এর পরকালে এর জন্য কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘যারা সুদ ভক্ষণ করে, কেয়ামতের দিন তারা ওই ব্যক্তির মতো দণ্ডায়মান হবে, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলে, ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতো। অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতপর যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হয়, আগে যা হয়ে গেছে তা তার এবং তার ব্যপারটি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদের দিকে ধাবিত হয়, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। চিরকাল তারা সেখানে অবস্থান করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭৫)। মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনের অন্যত্র আরও এরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রাবৃদ্ধি হারে সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ১৩০)
মহান আল্লাহ তায়ালার নিষেধাজ্ঞা শোনার পরেও যারা সুদি লেনদেন থেকে বিরত না হয়, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৯নং আয়াতে এরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা সুদ পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও। আর তোমরা যদি তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করো না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।’
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সুদি লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর অভিশম্পত করেছেন এবং এহেন অপরাধের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেনদেনের লেখক এবং সাক্ষী দাতা সবার ওপর লা’নত (অভিশম্পত) করেছেন। (সহিহ্ মুসলিম)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘সুদের গুনাহের সত্তরটি স্তর রয়েছে। এর সর্বনিম্ন স্তরের গুনাহ হলো আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা।’ (ইবনে মাযাহ, মিশকাত) পাঠক, একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো, সুদের সর্বনিম্ন স্তরের গুনাহ যদি হয় আপন মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করা, তাহলে সর্বোচ্চ গুনাহ কত নিকৃষ্ট ও ভয়াবহ! সুতরাং যারা এখনও সুদের মতো ভয়াবহ গুনাহের জালে আটকে আছেন, তাদের অতিদ্রুত তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং কাতর কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান স্রষ্টার দরবারে তওবা করে সুদমুক্ত ও পবিত্র জীবন গঠনে সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুদের মতো গর্হিত অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : খতিব, মাসজিদুল কোরআন জামে মসজিদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]