ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

বিপদের মুহূর্তে মুমিনের করণীয়
মাওলানা হাবীবুল্লাহ আল মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের জীবন বিপদ-মুসিবত মুক্ত নয়। জীবনে চলার পথে কখনও সুখের দেখা মেলে, আবার কখনও কষ্ট এসে হাজির হয়। কান্না-হাসির বিচিত্র দোলাচলেই জীবনতরী এগিয়ে চলে। আনন্দ ও সুখের সময় যেমন অতি উল্লাসে ফেটে পড়া মুমিনের শান নয়, তেমনি কষ্টের সময়েও ভেঙে পড়া কিংবা হতাশ হওয়া নয়। কেননা আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সুখের বা দুখেরÑ সর্বাবস্থার জন্যই আশ^াস বাণী শুনিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত সুহাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিন বান্দার প্রতিটি বিষয়ই বড় আশ্চর্যজনক। তার সব কিছুই কল্যাণকর; সে যখন আনন্দদায়ক কিছু লাভ করে তখন শুকরিয়া আদায় করে, আর সে এই শুকরিয়ার প্রতিদান লাভ করে। অনুরূপ যখন সে কষ্টদায়ক কোনো কিছুর সম্মুখীন হয়, তখন সে সবর করে, ফলে এই সবরেরও প্রতিদান সে লাভ করে।’ (মুসলিম : ২৯৯৯)
আল্লাহ মানুষের পৃথিবীর জীবনকে দুঃখ, কষ্ট দিয়েই সাজিয়েছেন। হাসি ও কান্নার মিশেলে তা বিশেষিত করেছেন। তাই স্রষ্টার ফয়সালা মেনে নেওয়াই মানুষের জন্য কল্যাণকর। একজন মুমিনের এতটুকু বোধ থাকা জরুরি যে, জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সবই মহান রবের পক্ষ হতে। তিনি মানুষকে পরীক্ষা করেন অর্থসম্পদ ও আনন্দ-বেদনা দানের মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই রব তার সেরা ব্যক্তিকে বাছাই করে নেন। আগুনে জ্বালিয়ে যেমন খাঁটি সোনা আলাদা করা হয়, তেমনি বিপদে ঝালিয়ে খাঁটি মুমিনকে আলাদা করা হয়। আল্লাহ তায়ালা এই কথাই বলেছেনÑ ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করে দেখব ভয়ভীতি দ্বারা, ক্ষুধা দ্বারা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতি দ্বারা। যেসব লোক সবর করবে, তাদের সুসংবাদ শোনাও। এরা হলো সেসব লোক, যারা তাদের কোনো মুসিবতের সম্মুখীন হলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তার কাছেই ফিরে যেতে হবে!’ (সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬)
আল্লাহর নেক বান্দাগণ এমন অনুভূতি অর্জন করেছিলেন কিছু আমলের মাধ্যমে। আমরাও যদি সেসব আমল করি, তাহলে জীবনের কষ্টগুলো হবে সহনীয় ও সুখময় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রতিদানে পরিপূর্ণ।
ধৈর্য ধরা ও নামাজ আদায় করা : যখন বিপদ কিংবা পেরেশানির কালো আঁধার মনে ছেয়ে যায় তখন প্রথম করণীয় হলো সবর করা এবং নামাজের মাধ্যমে রবের নিকট প্রার্থনা করা। এই ব্যাপারে প্রভু নিজেই মানবজাতিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লাহ বলেনÑ ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : ১৫৩)
দোয়ার আমল করা : নামাজ ও সবরের পাশাপাশি রয়েছে নানা দোয়া। যার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিপদাপদ দূর করে দেন এবং হৃদয়ে স্থিতি দান করেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) পেরেশানির সময় এই দোয়া পড়তেনÑ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আলিমুল হালিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি রাব্বুল আরশিল কারিম।’ (বুখারি : ৭৪২৬)।
আরও ইরশাদ হয়েছে, হজরত সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মাছের পেটে অবস্থানকালে মাছওয়ালা অর্থাৎ হজরত ইউনুস (আ.) যে দোয়া পড়েছেন, এটি যেকোনো মুসলিম যেকোনো সময় পড়বে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করবেন। দোয়াটি হলোÑ ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।’ (তিরমিজি : ৩৫০৫)
কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য আমল : মুমিন জীবনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আমল হলো কোরআন তেলাওয়াত। ইরশাদ হয়েছেÑ ‘জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ : ২৮)। আল্লাহর স্মরণ বা জিকির কয়েকভাবে হতে পারে। আল্লাহর ইবাদত করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, নফল নামাজ ও ইবাদত এবং দোয়া-মোনাজাত করা। বিভিন্ন হাদিসে এগুলোকে জিকির বলা হয়েছে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
লেখক : শিক্ষক, শাইখুল হিন্দ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, সানারপাড়, নারায়ণগঞ্জ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]