ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

শোকে মুহ্যমান ক্ষোভে উত্তাল সারা দেশ
তোপের মুখে বুয়েট ভিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১:১৫ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

তোপের মুখে বুয়েট ভিসি

তোপের মুখে বুয়েট ভিসি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শোকে মুহ্যমান সবাই। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। মঙ্গলবার মিছিলে মিছিলে উত্তপ্ত ছিল পুরো বুয়েট ও এর আশপাশের বিশ^বিদ্যালয় এলাকা। সেখানে সকাল থেকে জড়ো হতে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানে আবরারের খুনিদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ আট দফা দাবিতে রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে মৌন মিছিল করে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে ঘটনার দুদিন পর বিশ^বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তোপের মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। অবরুদ্ধ বুয়েট ভিসি দীর্ঘ বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে সেøাগান দিতে থাকে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভিসি বলেন, আমি তোমাদের অভিভাবক, তোমরা আমার সন্তান। আবরারের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অনাকাক্সিক্ষত। উপাচার্যের এমন বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে খুন হিসাবে স্বীকারের দাবি জানায় তারা। ভিসি বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বহিষ্কার করা হবে।

এ সময় শিক্ষার্থীদের শান্ত হয়ে কথা শোনার অনুরোধ জানিয়ে ভিসি সাইফুল বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দেশের বাইরে আছেন। সেখান থেকে তারা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন আমি তা পালন করছি। আমি তোমাদের দাবিগুলো দেখেছি। এসব নিয়ে তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি সব দাবি মেনে নিয়েছি। আবরার খুন হওয়ার পর গতকাল কেন আসেননিÑ এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, আমি এখানেই ছিলাম। আমি রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ করেছি। শিক্ষার্থীরা বলে, আপনি কেমন অভিভাবক, সন্তানের জানাজায় আসতে পারলেন না।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বুয়েট শহীদ মিনার এলাকায় সমবেত হয়। বুয়েটের সাবেক একদল শিক্ষার্থীও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল মিছিল করে এসে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে বুয়েট শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরাও সমাবেশস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলসহ পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

আন্দোলনের মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীদের কাছে যান ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এ সময় তাকে ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীরা। তার কাছে শিক্ষার্থীরা তখন নানা ধরনের ক্ষোভ জানাতে থাকে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে তার পদত্যাগের সেøাগানও ওঠে। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। ছাত্রকল্যাণ পরিচালক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে বক্তব্য দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তার কাছেও জানতে চায়, উপাচার্য কেন ঘটনাস্থলে আসেননি। এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক উপাচার্যের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ধরেননি। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা প্রশাসনের নামে নানা ধরনের সেøাগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি জানিয়েছে, এর সঙ্গে তিনি একমত আছেন। তবে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ক্ষমতা তার হাতে নেই। সেজন্য তিনি এই দাবি পূরণে সহযোগিতা করবেন। তার পক্ষ থেকে যতটুকু করার, তিনি তা করবেন।
অন্যদিকে দুপুরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাশে আবরারের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জানাজায় ইমামতি করেন ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আকতার হোসেন। জানাজা শেষে মিছিল নিয়ে সেøাগান দিতে দিতে তারা ক্যাম্পাসের দিকে যায়। তারা আবরারের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।

ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর দাবি করেন, খুনিদের আড়াল করতেই প্রশাসন সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে চায়নি। ছাত্রসমাজ বারবার নির্যাতিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ রাজপথে এলে তড়িঘড়ি করে বিচার করে। প্রতিবাদ থেকে সরে গেলে বিচার পাওয়া যায় না। হত্যাকারীদের আড়াল করতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ফুটেজ দেখাতে চায়নি।

বিকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এবং যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরীর যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আবরারের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। হত্যাকারীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যায় আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। এই হত্যাকাণ্ড পৈশাচিক এবং নির্মম। জ্ঞানচর্চা এবং বিতরণই বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান কাজ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং পরমতসহিষ্ণুতা ব্যাহত হলে বিশ^বিদ্যালয় তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। আবরারের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং চিন্তাচেতনার পরিপন্থি।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে বিশ^বিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফেসবুকে এক মন্তব্যের সূত্র ধরে আবরারকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন আবরারের বাবা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতে বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে।

গত সোমবার রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার পর আবরারের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে। রায়ডাঙ্গা গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আরেক দফা জানাজার পর বেলা পৌনে ১১টায় বাড়ির সামনে আবরারকে দাফন করা হয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকতুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালাল, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছেÑ খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে, দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে, বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি সে সম্পর্কে তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকাল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন তা তাকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সবধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে, মামলা চলাকালে সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে, সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

অন্যদিকে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রাস্তার উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়ে এই পথে চলাচলকারী যাত্রীরা। এর আগে শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান ফটক ঘুরে জয় বাংলা ফটকে গিয়ে শেষ হয়। এরপর জয় বাংলা ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রগতিশীল ছাত্রজোট মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। অতীতে বিশ^জিৎ, তনু ও ত্বকীসহ অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় আবরার হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুমাইয়া আক্তার সেতু, শুভ বণিক ও বেলাল হোসেন।

কুমিল্লা নগরীর টাউন হলে বিক্ষোভ মিছিল করে কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয় এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়। ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘দিয়েছি রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘জেগেছে রে জেগেছে ছাত্রসমাজ জেগেছে’Ñ এ ধরনের বিভিন্ন সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী ।

সকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বক্তব্য রাখে গফরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আলিম আকন্দ নাঈম, ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রুপক মিয়া, আবিদ হাসান, জেএম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মুশফিক ইমাম মারুফ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোনায়েদ হোসেন রিয়াদ, ঢাকায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী রাইয়ান রাকিব ও রোস্তম আলী গোলন্দাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম।

গাজীপুর শহরের শিববাড়ী-শিমুলতলী সড়কে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (ডুয়েট) প্রধান ফটকের সামনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। ব্যানার ও প্ল্যাকার্র্ড নিয়ে শতাধিক ছাত্র মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ও বাউফল উপজেলায়ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকালে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সাধারণ ছাত্ররা।
রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলটি রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বের হয়ে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে মিছিলটি নগরীর মডার্ন মোড়ে গিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানায়।

টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]