ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

গণপূর্তে জিকে শামীমের ১২ প্রকল্পে নতুন ঠিকাদার
রফিকুল ইসলাম সবুজ
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১০:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্স (জিকেবি) গণপূর্ত অধিদফতরের যে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখেছে সেগুলোর কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। দরপত্রের শর্ত ভেঙে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কারণে জিকেবিকে নোটিস পাঠাবে গণপূর্ত অধিদফতর। নোটিসের জবার পাওয়ার পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গণপূর্তে জিকে শামীমের ১২ প্রকল্পে নতুন ঠিকাদার

গণপূর্তে জিকে শামীমের ১২ প্রকল্পে নতুন ঠিকাদার

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোনো ঠিকাদারের অপারগতার কারণে সরকারি কোনো উন্নয়ন কাজই আটকে থাকবে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আমরা আইন অনুযায়ী নোটিস পাঠাব। তিনি যদি কাজ এগিয়ে নিতে না পারেন, কি পরিমাণ কাজ তিনি করেছেন সেটাকে আমরা পরিমাপ করে প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করব। কোনোভাবেই এসব কাজ বন্ধ থাকবে না।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীরা জানান, চুক্তি বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরু করতে গেলে সময় একটু বেশি লাগবে। গণপূর্ত অধিদফতরে জিকে শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গত ১০ বছরে ৩৭টি প্রকল্পের দরপত্রে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ২৫টি প্রকল্পের কাজ ৯৮-৯৯ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বেশিরভাগ প্রকল্পই হস্তান্তর হয়নি। চলমান ১২টি প্রকল্পের ১ হাজার ৭০২ কোটি টাকার কাজ রয়েছে। তবে জিকে শামীম গ্রেফতার এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার পর থেকেই সচিবালয়ের ক্যাবিনেট ভবন, র‌্যাব হেডকোয়ার্টার ও বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনসহ ১২টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

প্রকৌশলীরা জানান, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৯০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের চারটি অংশের গড় ভৌত অগ্রগতি ৭১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫১ দশমিক ১৭ শতাংশ, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণকাজের ভৌত ৯৫ শতাংশ ও আর্থিক ৯২ শতাংশ, গাজীপুরে পাঁচটি র‌্যাব কমপ্লেক্স এবং একটি র‌্যাব ট্রেনিং স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত ৯৯ শতাংশ, আর্থিক ৯৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে, সচিবালয়ের নির্মাণাধীন নতুন ২০ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে ২০ তলা পর্যন্ত পূর্ত এবং অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের ভৌত ৮০ শতাংশ এবং ৫২ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩১ শতাংশ, আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য শতাংশ। সচিবালয়ে নতুন ২০ তলা ক্যাবিনেট ভবনের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি এবং নারায়ণগঞ্জের খানপুরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০০ বেড হাসপাতালকে ৫০০ বেডে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তি অনুযায়ী নিয়ম মেনে সব কিছু করতে হবে। এই কাজ শেষ করার দায়িত্ব জিকেবির। তারা কাজ শেষ করতে না পারলে চুক্তি অনুযায়ী আমাদের যা করার তা করব। নিয়ম অনুযায়ী তাকে শোকজ করব, আরও কিছু প্রসেস আছে সেগুলো করা হবে। তারপর সে কাজ না করতে পারলে চুক্তি ক্যান্সেল হবে। এগুলো করতে অনেক সময় লাগবে।

অন্যদিকে ঢাকার দুটি জোনের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল দে ২৪ সেপ্টেম্বর ওএসডি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই জোনে দুজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও গত ১৪ দিনেও তিনি কাউকেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। এমনকি জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি অধিদফতরে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করছেন না।
অভিযোগ রয়েছে অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) নন্দিতা রানী সাহা সাক্ষরিত ত্রুটিপূর্ণ অফিস আদেশের কারণে গত ১৪ দিন ধরে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শূন্য থাকায় বিভিন্ন ফাইল আটকে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিদফতরের অফিস আদেশে সবসময় দায়িত্ব হস্তান্তর করার নির্দেশনার সঙ্গে ‘অন্যথায় নির্ধারিত তারিখ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছে গণ্য হবেন’ এই কথাটি লেখা থাকে। কিন্তু উৎপল দে’র দায়িত্ব হস্তান্তরের আদেশের চিঠিতে এই কথাটি না লেখা থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত হননি। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে একাধিক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত প্রকৌশলীর স্বার্থেই এমন ত্রুটিপূর্ণ চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ১৪ দিন ধরে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলেও ওএসডি হওয়া এই প্রকৌশলী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রমনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর ক্যাম্প অফিসে বসে গোপনে ব্যাকডেটে বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসছেন বলে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় থেকে তার ওএসডি আদেশ প্রত্যাহার করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন আদেশ জারি করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্র জানায়। জিকে শামীমের টেন্ডার সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পরও ওএসডি হওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বহাল তবিয়তে ফিরে আসার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ প্রকৌশলীরা। তারা এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কারাগারের দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।

অন্যদিকে জিকে শামীম গ্রেফতারের পর যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরীর ক্যাডার পরিচয় দেওয়া ঠিকাদারদের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে গণপূর্ত অধিদফতরে। একাধিক প্রকৌশলী জানান, আগে সম্রাটের ক্যাডার ঠিকাদারদের দাপটে তটস্থ থাকতে হতো তাদের। কিন্তু এখন তাদের অনেকেই গা ঢাকা দেওয়ায় তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছেন।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]