ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
প্রতিশ্রুতির শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি
নয়ন মনি ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ১০:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া

মেয়র, ফুলবাড়িয়া পৌরসভা,ময়মনসিংহ

দৈনি
প্রতিশ্রুতির শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি

প্রতিশ্রুতির শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি

ক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, পৌর নাগরিকদের কাছে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতির শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়নে অক্লান্তভাবে চেষ্টা করছি।

এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ফুলবাড়িয়া পৌরসভা হলেও প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত রয়েছে পৌরবাসী। মেয়র হিসেবে পৌরবাসীর প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই আমি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম থেকে অক্লান্তভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পৌর সড়কের বাতিসহ নানা সমস্যা রয়েছে। পৌরসভার সব নাগরিক যখন সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে তখনই শুধু আমার পক্ষে বলা সম্ভব হবে যে, পৌরসভার উন্নয়ন হয়েছে।

মেয়র বলেন, গত ১০ বছরে পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের মূল সড়ক পাকা করা হয়েছে। পৌর প্রধান সড়কের শাখা সড়কগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বেশিরভাগ সড়কেরই উন্নয়ন হয়েছে। পৌর বাজারের প্রতিটি অলিগলি এখন পাকা। বাজারের চারপাশে পানি নিষ্কাশনের সবগুলো ড্রেনের কাজও প্রায় শেষ। পৌরসভার সামনে আখালিয়া নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করায় নদীর দুপাশের মানুষের যোগাযোগে সুবিধা হয়েছে। সাড়ে ৪ লাখ মানুষের একমাত্র চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মূল শহরের অনেক বাইরে হওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র পথে রোগীদের যানবাহনে যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে পৌর পরিষদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুবিধাজনক জায়গা খোঁজা হচ্ছে। বরাদ্দ ও জায়গা পাওয়া গেলে অবশ্যই অতিদ্রুত একটি আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, মানুষের সব চাহিদা কেউ পূরণ করতে পারবে না। তবে নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শতভাগ চেষ্টা করছি। কিছু কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে, যা আগামী পৌর নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করতে পারব ইনশা আল্লাহ।
মেয়র গোলাম কিবরিয়া বলেন, পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী প্রকৌশলী নেই, একজন প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সেজন্য সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। পৌর পরিষদে চাহিদার তুলনায় জনবল কম। তারপরও তাদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য মাঝেমধ্যে হিমশিম খেতে হয় পৌরসভাকে। জনবল বেশি হলে আরও বেশি সেবা দেওয়া যেত পৌরবাসীকে। তবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই ঠিকমতো কাজ করছেন। এরপরও কাজে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরশহরের কোথাও কোথাও মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। কিন্তু যেকোনো প্রকারেই হোক ফুলবাড়িয়া পৌরশহর থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের মূলোৎপাটন করা হবে। স^য়ং প্রধানমন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে পৌর পরিষদ থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে এবং এসব প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিংও করি আমি।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পৌর এলাকার ১০টি স্কুলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি। পড়াশোনার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে ল্যাট্রিন বিতরণ করা হয়েছে। খোলা জায়গায় পায়খানা না করার জন্য সভা-সেমিনারও করা হয়। নিজস্ব ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। এছাড়াও মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫ দশমিক ৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনে নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভা। এই পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। মোট ভোটার হলেন ২০ হাজার ৫৪৫ জন। শুরুতে এই পৌরসভার কার্যক্রম চলে পাবলিক লাইব্রেরিতে। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পৌরসভার নিজস্ব ভবন।
আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া প্রথম পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়ে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত করে পৌরবাসীর স্বপ্ন পূরণে পশ্চিম বাজার নদীর পারে পৌরসভার বহুতল নিজস্ব ভবন নির্মাণে সক্ষম হন। বর্তমানে ৩নং ওয়ার্ডে পশ্চিম বাজার নদীর পারে পৌরসভার বহুতল নিজস্ব ভবনের পৌরসভার কাজ পরিচালিত হয়।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বারের মেয়াদে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন আলহাজ মো. গোলাম কিবরিয়া। প্রথম মেয়াদে ৭ বছর ও দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় সাড়ে তিন বছর দায়িত্ব পালনে তিনি পৌরসভায় উন্নয়নমূলক অনেক কাজ করেছেন। কিছু সমস্যা রয়ে গেছে পৌরবাসীর। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। বিনোদন কেন্দ্র, খেলার মাঠ, নিজস্ব পৌর বাস টার্মিনাল, সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড নেই। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার নিজস্ব কোনো স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড নেই।

ইতোমধ্যে ‘খ’ শ্রেণির এই পৌরসভাকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতকরণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় ফুলবাড়িয়ার দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার নেওয়ার ব্যাপারে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সবার সহযোগিতায় ইনশা আল্লাহ্ এ কাজে আমি সফল হবোই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]