ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

পরনিন্দা করা জঘন্য গুনাহ
এহসান বিন মুজাহির
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

গীবত বা পরনিন্দা করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার দোষ-ত্রুটি আলোচনা করার নামই গীবত। চাই তা কথা, ইশারা-ইঙ্গিত বা লেখনীর মাধ্যমে হোক। গীবত আরবি শব্দ, বাংলায় বলা হয় পরনিন্দা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআন কারীমে এরশাদ করেনÑ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কতক ধারণা গুনাহ। কারও গোপনীয় বিষয় সন্ধান কর না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি স্বীয় মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই কর।’ (সুরা হুজুরাত : ১২)। পবিত্র কোরআনে আরও এরশাদ হয়েছেÑ ‘প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ।’ (সুরা হুমাজাহ : ০১)
গীবত কী? এ সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরামগণকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি বলতে পার, গীবত কাকে বলে? সাহাবিগণ আরজ করলেন, আল্লাহ ও তার রাসুলই (সা.) ভালো জানেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, গীবত হলো কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হয় এবং অন্তরে আঘাত পায়, তাকেই গীবত বলে।
অর্থাৎ কারও অগোচরে তার এমন দোষ বলা যা বাস্তবেই তার মধ্যে আছে, তাই গীবত বা পরনিন্দা। আর যদি তার মধ্যে সেই দোষ না থাকে, তবে তা অপবাদ (তুহমত) হবে। যা গীবত থেকেও মারাত্মক গুনাহ। (মুসলিম : ২৫৮৯)
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘গীবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্যতম গুনাহ। তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন এটা কি রূপে? তিনি বললেন, এক ব্যক্তি ব্যভিচার করার পর তাওবাহ করলে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
কিন্তু যে গীবত করে তার গুনাহ প্রতিপক্ষের মাফ না করা পর্যন্ত মাফ হয় না।’ (তিরমিজি : ২৪১২)
হাদিসে বর্ণিত আছে, একদা কোনো প্রয়োজনে এক বেঁটে মহিলা রাসুলের (সা.) খেদমতে আসেন। সে মহিলা চলে যাওয়ার পর হজরত আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-এর নিকট ওই মহিলার দৈহিক কাঠামো বেঁটে হওয়ার ত্রুটি বর্ণনা করেন! আয়েশা (রা.)-এর এমন কথা শুনে রাসুল (সা.)-এর চেহারা মলিন হয়ে গেল। তখন রাসুল (সা.) বললেন, আয়েশা তুমি ওই মহিলাটির গীবত করলে! তুমি এমন কথা বললে যা সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে সমুদ্রের পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে কালো হয়ে যেত। আয়েশা (রা.) বলেন তার বেঁটে হওয়ার কথাই তো বলছি এবং এই ত্রুটি তো তার মধ্যে রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, হে আয়েশা যদিও তুমি সত্য কথা বলেছ কিন্তু তুমি তার ত্রুটি বর্ণনা করায় তা গীবত তথা পরনিন্দা হয়ে গেল।’ (মুসলিম : ২৭৬১)
রাসুল (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘তোমরা গীবত বা পরনিন্দা করা থেকে বেঁচে
থাকবে। কারণ তাতে তিনটি ক্ষতি রয়েছে, প্রথমত গীবতকারীর দোয়া কবুল হয় না। দ্বিতীয়ত গীবতকারীর কোনো নেক আমল কবুল হয় না এবং তৃতীয়ত আমলনামায় তার পাপ বৃদ্ধি হয়ে থাকে।’ (বুখারি : ২৮৩৭)। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) বলেন, ‘যখন তুমি কারও দোষ বর্ণনা করতে ইচ্ছে কর, তখন নিজের দোষের কথা স্মরণ কর যাতে গীবতের কারণে জাহান্নামে যাওয়া থেকে বাঁচতে পার।
যদি নিজের দোষ না দেখে শুধু অন্যের দোষই বর্ণনা করতে থাক তাহলে পরকালে আল্লাহও তোমার দোষ প্রকাশ করবেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২৫৪৬)। রাসুল (সা.) এরশাদ করেনÑ ‘তোমরা অন্যের দোষ অন্বেষণ করবে না, গুপ্তচরবৃত্তি করবে না, পরস্পর কলহ করবে না, হিংসা-বিদ্বেষ করবে না।’ (মুসলিম : ১৯০৩)








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]