ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ১৪ অক্টোবর ২০১৯

ইনজুরির ছোবলে বেহাল রক্ষণভাগ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

 
অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছেন জামাল ভূঁইয়া, ইয়াসিন খানরা। নাবিব নেওয়াজ জীবন, সাদউদ্দিনরাও বসে নেই। তবে আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড়দের দিকে এবার নজর একটু কম দলীয় কোচ জেমি ডের। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের নিয়েই বেশি সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তাতেই পরিষ্কার ইঙ্গিতÑ বিশ^কাপ আর এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশলেই খেলবে বাংলাদেশ।
র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক অনেক এগিয়ে থাকা কাতারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের, কথাটা কয়েকদিন আগে অকপটেই স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। তাদের বিপক্ষে যদি কোনোভাবে এক পয়েন্ট আদায় করে মাঠ ছাড়তে পারে স্বাগতিকরা, সেটিও হবে বড় অঘটন! তাই বলে তো হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকা চলবে না। ছোটখাট একটা অঘটন ঘটানোর প্রয়াসেই নানা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন দলীয় কোচ জেমি ডে।
রক্ষণ সামাল দিয়ে অগত্যা প্রতিআক্রমণে যাওয়াÑ শক্তিধর কাতারকে রুখে দেওয়ার জন্য এই হলো জেমির কৌশল। কিন্তু এতেও কি শেষরক্ষা হবে, আটকে রাখা যাবে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১২৫ ধাপ এগিয়ে থাকা কাতারকে? ৫৭ জনের বিশাল এক বহর নিয়ে ইতোমধ্যেই যারা ঢাকায় পা ফেলেছে। বহরে খেলোয়াড়ের সংখ্যা অবশ্য ২৩ জনই। যারা শক্তি, সামর্থ্য আর ফুটবলীয় দক্ষতায় যোজন যোজন এগিয়ে জামাল-জীবনদের থেকে। জেমি তাই বললেন, ‘কাতারের মতো কঠিন দলের বিপক্ষে আমরা খুব বেশি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব না।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ম্যাচে কাতার আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেবে বাংলাদেশের রক্ষণে, এ বিষয়ে দ্বিমত নেই কারও। স্বাগতিক কোচ জেমিও ভিন্ন কিছু ভাবছেন না। তাই রক্ষণেই বাড়তি নজর দিচ্ছেন তিনি, ‘আপনি যদি কাতারের বিপক্ষে আফগানিস্তান ও ভারতের ম্যাচগুলো লক্ষ্য করেন, দেখবেন প্রতিপক্ষ দলগুলো দীর্ঘ সময় তাদের রক্ষণভাগ আগলে রেখেছে।’ বাংলাদেশও কি একই কৌশলে খেলবে? সরাসরি না বললেও আকার-ইঙ্গিতে সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচ।
তবে দলের রক্ষণভাগের যা অবস্থা, এই ইংলিশ কোচের কপালে দুশ্চিন্তার বলিরেখা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ভুটানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছেন দলের সেরা ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা। দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়ায় কাতারের বিপক্ষে তার খেলার সুযোগ নেই। ইয়াসিন, রায়হানরা আছেন। কিন্তু কাতারের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে তারা কতক্ষণ রক্ষণ আগলে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে শঙ্কা আছে যথেষ্টই।
শঙ্কা বাড়াচ্ছে দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনি আর আতিকুর রহমান ফাহাদের চোট। দুজনেই ছিটকে গেছেন দল থেকে। তাই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন জামাল। কোচ জেমির ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সোহেল রানাকে সঙ্গী করে আফগানিস্তান আর ভুটানের বিপক্ষে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড সামলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ওই ম্যাচের পর অপেক্ষাকৃত আক্রমণাত্মক সোহেলের ওপর খুব বেশি ভরসা রাখতে পারছেন না জামাল। তবু বললেন আশার কথা, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে সোহেল রানা ভালোই করেছে। ভালো করেছে ভুটানের সঙ্গেও। আমাদের মধ্যে জুটিটা তৈরি হচ্ছে।’
অধিনায়ক আড়াল করেননি জনি আর ফাহাদকে হারিয়ে অস্বস্তিতে থাকার কথাও, ‘মিডফিল্ডে আমার পার্টনার সব একে একে ঝরে যাচ্ছে। জনি দলের বাইরে চলে গেল। ফাহাদ তো অনেক আগে থেকেই ইনজুরিতে। ওদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়া ভালো ছিল। একজনও না থাকাটা আমার জন্য অস্বস্তিকর।’
বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন কোচ। তাই দুই গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডারের চোটকে অন্যদের সুযোগ হিসেবে দেখছেন জেমি, ‘চোটের ওপর কারও হাত নেই। বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। তাদের অনুপস্থিতিতে অন্যদের সুযোগ হবে। বিকল্পরাও পরীক্ষিত।’






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]