ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ১৭ নভেম্বর ২০১৯

পুলিশ কোথা থেকে সাহস পায় আমার গায়ে হাত দেয়ার?
বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন!
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৯, ৭:৪৩ পিএম আপডেট: ০৯.১০.২০১৯ ৮:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 423

বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন!

বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন!

নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজকে পিটিয়েছে পুলিশ। ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে বুয়েট উপাচর্য সাইফুল ইসলাম ফাহাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে বাধা দেয় গ্রামবাসী। এসময় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে ভিসি ফাহাদের বাড়ি যেত পারেননি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে আসে। এতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এসময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ ছাড়াও তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হন।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুয়েট উপাচার্যকে ‘এখন কেন আসছে, এত দেরি করে’ নিহত ফাহাদের ভাই ফায়াজের এমন প্রশ্ন করার সময় পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন!

বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন!

এ নিয়ে আবরার ফায়াজ ফেসবুকে একটি স্ট্যটাস দেন। তার স্ট্যটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
আজকে Additional SP (উনি বলেন উনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পায় আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবি কে মারছে? নারী দের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেয়? এই চাটুকার দের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২মিনিটে জানাযা শেষ করতে বলেন কিভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে আপনার আর এক ছেলে ঢাকা থাকে আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক, গ্রাম এ বলা হয়েছে কেও কিছু করলে ১সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে। বিচার চাই, আমি বিচার চাই, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন বাবা মা কষ্ট একবারে পাবে।

এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবরারের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান উপাচার্য সাইফুল। এ সময় তার সঙ্গে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ছিলেন।

এরপর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ভাই আবরার ফায়াজসহ সবাই মিলে কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে পরিবারকে সমবেদনা জানাতে আবরারের বাড়িতে যাওয়ার সময় উপাচার্যকে নানা প্রশ্ন করে গ্রামবাসী। একই সঙ্গে উপাচার্যবিরোধী স্লোগান দেয় তারা।

এ সময় উপাচার্যকে ঘিরে রেখে আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেয় উত্তেজিত জনতা। এ অবস্থায় আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হন উপাচার্য। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, উপাচার্য কেন ওই হত্যাকাণ্ডের পরপর সেখানে উপস্থিত হননি। এখন কেন এসেছেন? মৃত্যুর আগে আসেননি, পরেও আসেননি। এমনকি লাশ দেখতেও আসেননি। এখন কিসের কবর দেখতে এসেছেন, কিসের সান্ত্বনা দিতে এসেছেন, কার কবর দেখতে এসেছেন যান চলে যান।

অবস্থা বেগতিক দেখে বুয়েট উপাচার্য সাইফুল ইসলাম পিছু হটতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের গাড়িতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। উপাচার্য চলে যাওয়ার পর উত্তেজিত জনতাকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।


এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ফাহাদের ভাই ফায়াজকে পেটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ কেন মারবে ফায়াজকে। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। সেখানে মিডিয়ার লোকজন ছিল। তাদের ক্যামেরার ভিডিও গুলো দেখেন। তাহলেই বোঝা যাবে মেরেছে কী মারেনি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]com