ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

আবরার হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে : প্রধানমন্ত্রী
গণভবনে সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

আবরার হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে : প্রধানমন্ত্রী

আবরার হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের সব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা ‘পিটিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে’ হত্যা করেছে, তাদের কঠিনতম শাস্তি হবে। আন্দোলন করতে হবে না, বিচার হবেই। বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই।

আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি। হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নৃশংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যত রকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেওয়া হবে। কোনো সন্দেহ নেই। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই। আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনই মেনে নেবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকে বলেছেন, জড়িতদের যেন বহিষ্কার করা হয়।

তিনি বলেন, এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারও দাবিটাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেফতার হয়েছে। বুধবার গণভবনে সা¤প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বুয়েটে পিটিয়ে ছাত্র হত্যা এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।  আবরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণ পরিবারের ছেলে, এত ব্রিলিয়ান্ট একটা ছেলে। তার মায়ের কষ্ট আমি বুঝি। বাবার কষ্ট বুঝি। কারণ আমিও হত্যার বিচার চেয়ে পাইনি। মা-বাবার হত্যার পর ৩৮ বছর আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, অনিয়ম-দুর্নীতি হলেই অভিযান চলবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

‘ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দিল কারা?’
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে, তা খুব সকালবেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করে। যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, ‘আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হলো। ছাত্ররা নামার আগেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া কোন রুম, কোথায়, কারা ছিল, যেটাকে পারো সবক’টাকে অ্যারেস্ট করো। যে ক’টাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রশ্নটা আমার। পুলিশকে আসতে দেবে না, আলামত নিতে দেবে না। আমি আইজিকে বললাম, বলা যায় না এর মধ্যে কি যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আছে? ফুটেজ পেলে পরে তারা ধরা পড়ে যাবে এজন্য তারা পরবর্তী সময়ে এই ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে এবং একটা কপি কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসে। সেগুলো দেখে আইডেন্টিফাই করা দরকার ছিল, যেটা করা হচ্ছে এখন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল, কে কী করে আমি সেটা বিবেচনা করিনি। আমি বিবেচনা করেছি অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে, ২১ বছরের ছেলে, পিটিয়ে পিটিয়ে... কী অমানবিক! পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন। বাইরে অত ইনজুরি নেই, সমস্ত ইনজুরি ভেতরে। যে জিনিসটা আমার মনে পড়ল... ২০০১ সালে বহু নেতাকর্মীকে এমনভাবে পেটানো হতো, বাইরে থেকে ইনজুরি নেই, তারা মারা যেত।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাভাবিকভাবে এটা সন্দেহের বিষয়। এরা কারা? হ্যাঁ, ক্ষমতায় থাকলে অনেকে দল করতে আসে। কিছু লোক তো আছে পার্মানেন্ট গভর্নমেন্ট পার্টি। এ রকম কিছু থাকে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা আমার পার্টির এটা তো আমি কখনই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। সবগুলোকে বহিষ্কার করতে বলেছি। পুলিশকে বলেছি অ্যারেস্ট করতে।
কারা পুলিশকে ফুটেজ নিতে বাধা দিয়েছে, তা খুঁজে দেখতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুটেজ হাতে পাওয়ার পর বেছে বেছে বের করতে পুলিশের জন্য সুবিধা হয়েছে। এটা একটু খোঁজ করেন, কেন বাধা দেওয়া হলো। তিনটে ঘণ্টা সময় কেন নষ্ট করল? আমি জানি না এর উত্তর আছে কি না। আন্দোলনই বা কিসের জন্য? বিচার হবেই।

বুয়েট চাইলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে
আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, তা নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তিনি বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আর একটা ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ওঠাবে যে ছাত্ররাজনীতি ব্যান (নিষিদ্ধ)। আমি নিজেই যেহেতু ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি, সেখানে আমি ছাত্ররাজনীতি ব্যান বলব কেন?

বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে তা কলুষিত করার জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, নষ্ট রাজনীতি যেটা, সেটা তো আইয়ুব খান শুরু করে দিয়েছিল, আবার জিয়াউর রহমান এসে শুরু করল একইভাবে এবং দুইজনের ক্ষমতা দখলের চরিত্র একই রকম।

শেখ হাসিনা বলেন, আর ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেন। আসলে এই দেশের প্রতিটি সংগ্রামে অগ্রণী ভ‚মিকা কিন্তু ছাত্ররাই নিয়েছে। এই যে একটা সন্ত্রাসী ঘটনা বা এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে তারা সেটা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। এটা তাদের ওপর। কিন্তু একবারে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে, এটা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসে তো সবসময় পলিটিকস ব্যান... স্টুডেন্ট পলিটিক্স ব্যান তারাই করে গেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাত্ররাজনীতি থেকেই উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশের অসুবিধাটা হলো বারবার মিলিটারি রুলাররা (স্বৈরশাসক) এসেছে। আর এসে এসে মানুষের চরিত্র হরণ করে গেছে।

ভারতের সঙ্গে এলপি গ্যাস নিয়ে চুক্তি হয়েছে
ভারতের সঙ্গে গ্যাস রপ্তানির যে চুক্তি হয়েছে সেটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, আমদানি করা এলপি গ্যাস বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই চুক্তির বিরোধিতা করায় বিএনপির সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা আজ এলপি গ্যাস বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা ২০০১ সালে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির জন্য আমেরিকার কাছে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাদের এখন এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার নেই।

সেই সময় আমেরিকাকে গ্যাস রফতানির আশ্বাস না দেওয়ায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি বলে জানান শেখ হাসিনা।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি প্রশ্নটা আসবে। ভারতে যে গ্যাস যাবে সেটা এলপিজি, এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। আমাদের দেশে উৎপাদন হয় না। রিফাইনের পর তা ব্যবহারযোগ্য হয়। এ ছাড়া আমাদের দেশে গ্যাস উত্তোলনের সময় কিছু তেল আমরা পাই, যা থেকে পেট্রোল হয়, কিছু এলপিজি হয়।

তিনি বলেন, দেশে এখন পাইপলাইনে গ্যাসের অভাব। এ জন্য রান্নার কাজে আমদানি করে সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করছি। আপনারা জানেন, আগে খুব অল্প পরিমাণে এলপিজি ছিল। দুটি বেসরকারি এবং একটি সরকারি কোম্পানি আমদানি করত। এখন এটা বিভিন্ন কোম্পানি করছে। আমরা এটাকে উৎসাহিত করছি। একসময় ১৬০০ টাকার সিলিন্ডার এখন ৯০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশে এখন এলপিজির বেসরকারি অনুমোদিত ২৬টি, আগের আছে কয়েকটি কোম্পানি। আর ১৮টি কোম্পানি উৎপাদন করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ত্রিপুরায় যা দিচ্ছি এটা আমদানি করা গ্যাস। দেশে সরবরাহ করে কিছু ত্রিপুরা দিচ্ছি। যারা বলছেন গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে, যারা এটা নিয়ে সোচ্চার, বিশেষ করে বিএনপি, তাদের ২০০১ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তখন আমেরিকা আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস চায়। আমি বলেছিলাম দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকলে দেব। এ কারণে তখন ক্ষমতায় ফিরতে পারিনি।

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজ যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলছে তারা কিন্তু গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

২০০১ সালে সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসায় একটি দাওয়াতের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই বৈঠকে আমি, জিল্লুর রহমান, খালেদা জিয়া ও মান্নান ভূইয়া আমরা চারজন ছিলাম। সেখানে মার্কিন দূত গ্যাস রফতানির প্রস্তাব দেন। আমি বললাম, আমরা দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ না করে এটা দিতে পারি না। আমি চলে এসেছিলাম। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এসে আমাকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি রাজি হইনি। এতে আর ক্ষমতায় ফিরতে পারিনি।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না।
ফেনী নদীর পানি দেওয়ায় স্বার্থ ক্ষুণ হয়নি

ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেওয়ার যে চুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ ক্ষুণœ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানবিক বিষয় বিবেচনা করে এই পানি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ফেনী নদী যেহেতু দুই দেশের সীমান্তবর্তী, এজন্য এখানে দুই দেশেরই অধিকার আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ত্রিপুরার সাবরুম শহরে খাবারের জন্য এই পানি সরবরাহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি পানি পান করতে চায় আর আমরা যদি না দিই সেটা কেমন দেখায়!

ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখানে পানি দিচ্ছি সেটা ভারতের একটা জায়গা সাবরুম, রামনগরের সঙ্গে। ওখানকার মানুষের খাবার পানির খুব অভাব। তারা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তোলে। আর আমাদের বর্ডারের কাছে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে যখন পানি তোলে এটার ইফেক্ট আমাদের দেশে পড়ে। অর্থাৎ আমার দেশের ভূগর্ভস্থ পানি চলে যায়।
শেখ হাসিনা বলেন, এখানে ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে সেটা তাদের খাবার পানির জন্য। এক পয়েন্ট ৮২ কিউসেক পানি তারা নেবে। সীমান্তবর্তী নদীতে দুই দেশেরই কিন্তু অধিকার থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে পানি দিচ্ছি এটার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। এখন এটা নিয়ে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে অনেক কথা বলেছে। বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ভারতে গিয়েছে বা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে ভারতে যায় তারা কি গঙ্গার পানি চুক্তি করতে পেরেছিল? পারেনি। যখন খালেদা জিয়া ফিরে আসে সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, গঙ্গা পানি চুক্তির কী হলো? কী উত্তর দিয়েছিল মনে আছে? ভুলেই গিয়েছিলাম। যে দল নিজের দেশের স্বার্থের কথা ভুলে যায়, গঙ্গা নদীর মতো একটা নদীর পানির হিস্যার কথা বলতে ভুলে যায়, সেই দল এখন আবার সামান্য এক পয়েন্ট ৮২ কিউসেক পানি নিয়ে কীভাবে কথা বলে!

এ সময় এবারের সফরে তিস্তাসহ সাতটি নদীর পানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছি। আমরা যৌথ নদী কমিশন নিয়ে আলোচনা করেছি। মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও কুমার নদ এসব নিয়ে আলোচনা করছি। আলোচনা চলছে, এটা যাতে হয়ে যায় তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর তিস্তা নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]