ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ৩ কার্তিক ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৮ অক্টোবর ২০১৯

অস্ত্র-মাদক বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে অভিযানের প্রস্তুতি
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম আপডেট: ১০.১০.২০১৯ ১২:১০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ত্র-মাদক বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে অভিযানের প্রস্তুতি

অস্ত্র-মাদক বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে হলে অভিযানের প্রস্তুতি

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অস্ত্র ও মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। প্রতিটি হলে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলোর মধ্যে বড় কিরিচ, চাপাতি, রামদা, বঁটি, রড, লাঠি, স্টাম্প ও হাতুড়ি রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারে এসব অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উচ্চ শিক্ষাঙ্গন হয়ে ওঠে আতঙ্কের। হলগুলোতে অবাধে মাদক গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন অভিযানে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি হলেই রয়েছে বিশেষ কক্ষ। এসব কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী ধরে এনে টর্চার করা হয়। হলের এসব কক্ষ টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত। এসব ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকার সমালোচনা করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের আবাসিক হলে অভিযান শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এই অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে আবাসিক হলে হলে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশব্যাপী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, নামমাত্র টাকা ভাড়া দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও আবাসিক হলে কারা থাকছে, কারা মাস্তানি করছে তা খতিয়ে দেখা হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলব, যখন এ ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে সেখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চাল চালানো, তাহলে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কী আছে না আছে খুঁজে বের করা এবং এ ধরনের মাস্তানি কারা করে বেড়ায়, কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেটা দেখা।

আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে হলে হলে টর্চার সেলের বিষয়টি সামনে এসেছে। নির্যাতনে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য বেরিয়ে আসছে বুয়েট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। টর্চার সেলে নির্যাতনের জন্য স্টাম্প, লাঠি, ছুরি রয়েছে। বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। বেশকিছু কক্ষে মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রয়েছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের শেরেবাংলা হলের যে কক্ষে আবরারকে নির্যাতন করা হয় সেই ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে স্টাম্প, লাঠি, মদ এবং ছুরি পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শেরেবাংলা হল ছাড়াও বুয়েটের আহসানউল্লাহ হল, তিতুমীর হল, ড. এমএ রশিদ হল, কবি নজরুল ইসলাম হল, সোহরাওয়ার্দী হল, শহীদ স্মৃতি হলে টর্চার সেল রয়েছে।

বুয়েটে ছাত্রীদের জন্য একটি হল রয়েছে। সেই ছাত্রী হলেও চর্টার সেল রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী জানায়, মেয়েদের হলেও নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। এই ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বেনামে চিঠি দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলেও অস্ত্র ও মাদকের খোঁজ মিলবে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী। তারা জানায়, হলগুলোতে প্রকাশ্যেই মদ, গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করে। আধিপত্য বিস্তারের জন্য হলগুলোতে বিপুল অস্ত্রের মজুদ রাখা হয়।

গত মাসে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের পর ভাষাশহীদ আব্দুস সালাম হল তল্লাশি করে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্র ও মদের বোতল পায় পুলিশ। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা ওই অভিযানে বড় কিরিচ, চাপাতি, রামদা, বঁটি, রড, লাঠি ও হাতুড়ি পাওয়া যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্রের সম্ভার। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষই প্রশাসনের সামনে দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মহড়া দেয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে দুপক্ষ থেকে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে হলগুলোতে প্রতিনিয়ত ঢুকছে দেশি-বিদেশি নানা অস্ত্র। অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি রিভলবার, নাইন এমএম বন্দুক, রামদা, জিআই পাইপ, হকস্টিক অন্যতম। হলগুলোতে যাতে এ ধরনের অস্ত্র না রাখে, পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীরা যাতে হল ছাড়ে, বহিরাগতদের যাতে কেউ হলে আশ্রয় না দেয় এবং সবাইকে আইডি কার্ড রাখার জন্য একাধিক বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চিহ্নিত মাদক স্পট আছে। সেখানে নিয়মিত মাদকসেবনে আখড়া বসে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও দেশি-বিদেশি অস্ত্রের ভান্ডার রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারে বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের কাছে অস্ত্র রয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ।
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]